Skip to main content

কিভাবে যৌন প্রলোভন থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে?

 


প্রশ্নঃ কিভাবে যৌন প্রলোভন থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে?

নোমান আলী খান: শুধু ব্যস্ত থাকুন। মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার পরিত্যাগ করুন। মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার পরিত্যাগ করুন এবং গঠনশীল হওয়ার চেষ্টা করুন। গঠনশীল হওয়ার চেষ্টা করুন, দ্রুত একটা চাকুরী খুঁজে নিন। যখন একটি চাকুরী পেয়ে যাবেন, তখন নিজের জন্য একজন ভালো স্ত্রী খুঁজুন এবং বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এটাই ইসলামী উপায়। ইসলামী উপায় হলো, দ্রুত নিজের পায়ে দাঁড়ান। বিয়ের জন্য বয়স ৩৫ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। বিয়ের জন্য বয়স ২৮ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। আপনি কি ১০ বছর ধরে যৌন প্রলোভনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন ? আপনি মানুষ, আপনি একজন মানুষ। আল্লাহ আপনাকে একটি ফিতরা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। আপনার এরকমভাবে নিজেকে বঞ্চিত করা উচিত না। রাসূল (সঃ) বলেছেন, مَنْ اسْتَطَاعَ منكُم الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ [বুখারী ও মুসলিম] অর্থাৎ, "তোমাদের মধ্যে যে সামর্থ অর্জন করে তার উচিত বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।" যখন আমাদের তরুণরা শুধু ফোর্টনাইট আর রব্লক্স খেলে, যখন তারা টাকা জমায় পিএস-ফাইভ কেনার জন্য, নিজেদের জীবন দিয়ে তারা শুধু এটুকুই করে, যখন তারা শুধু জীবনকে অপচয় করে সোশ্যাল মিডিয়াতে, তখন প্রকৃত পুরুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে না। আর যখন তারা প্রকৃত পুরুষ হতে পারে না, এর দরুণ শীঘ্রই বিয়েও করতে পারে না। ফলশ্রুতিতে তারা যৌন প্রলোভনের সমস্যায় ভোগে। নতুন ব্যবসার উদ্যোগ নিন। ব্যবসা শুরু করে দিন। চাকুরী খুঁজে নিন। ইন্টার্নি করুন। অভিজ্ঞতা অর্জন করুন। জলদি জলদি পেশাগত জীবন শুরু করার চেষ্টা করুন এবং নিজেকে উপস্থাপন করুন একজন স্বাধীন যুবক হিসেবে। আর ইনশা আল্লাহ, এর দ্বারা আপনি নিজের জন্য উত্তম জীবনসঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করতে পারবেন। আর আপনি যথাযথ জীবনসঙ্গিনীকে বাছাই করতে পারবেন এবং এমন জীবন অতিবাহিত করতে পারবেন যেখানে সেই যৌন প্রলোভন ইবাদতে পরিণত হবে। আপনি হালাল জীবন যাপন করতে পারবেন। কিন্তু সেই লক্ষে কাজ করতে হবে। এটাকে একটা উদ্দেশ্যে পরিণত করুন। কারণ, যৌন প্ররোচনা শুধু বাড়তেই থাকবে। এটা শুধু বাড়তেই থাকবে। এটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে কিভাবে আপনি আপনার অবসর সময় অতিবাহিত করেন তার উপর। আর আমি দোয়া করি যাতে আপনারা আসলেই বিষয়টি আত্মস্থ করতে পারেন ইনশা আল্লাহ।

 নিজ ঘরের নারীদের অশ্লীল কাজের জন্য যে পুরুষ জাহান্নামে যাবে। দাইয়ুস হচ্ছে যে ব্যক্তি নিজ পরিবারে যিনা-ব্যভিচার ও অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেয়। যে পুরুষ ঘরের নারীদের সম্ভ্রম রক্ষায় আত্মসম্মানী নয়, সে মানবিকতাহীন, পৌরুষত্বহীন, অসুস্থ মস্তিষ্ক এবং দুর্বল ঈমানের অধিকারী। তার তুলনা অনেকটা শূকরের মতো, যে নিজ সম্ভ্রম রক্ষা করে না। তাই সেই সব লোককে সতর্ক থাকা উচিত, যারা নিজ পরিবারে এবং তার দায়িত্বে থাকা লোকদের মাঝে অশ্লীলতা বা অশ্লীলতার উপকরণ প্রশ্রয় দেয়। যেমন বাড়িতে এমন টিভি চ্যানেল রাখা যা যৌনতা উস্কে দেয় এবং অশ্লীলতা বৃদ্ধি করে। অধিকাংশ নারী বেপর্দা চলাফেরা ও চরিত্রহীনা হওয়ার জন্যে তাদের পিতা, স্বামী বা পুরুষ গার্জিয়ানের উদাসীনতা দায়ী। এদের পরিণত হবে ভয়াবহ।

আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এমন তিনজন ব্যক্তি আছে, যাদের দিকে আল্লাহ আ’যযা ওয়া যাল কিয়ামাতের দিন তাকাবেন না। তারা হচ্ছে, (১) যে পিতামাতার অবাধ্য, (২) যে নারী বেশভূষায় পুরুষদের অনুকরণ করে এবং (৩) দাইয়ুস পুরুষ।” নাসায়ীঃ ২৫৬২, হাসান সহীহ, শায়খ আলবানী। ইমাম ইবনে তাইমিয়াহ রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “দাইয়ুস হচ্ছে এমন পুরুষ যার কোন গীরাহ (Protective jealousy) নেই।” মাজমু আল-ফাতাওয়াঃ ৩২/১৪১। স্থায়ী কমিটির ফাতওয়াঃ “দাইয়ুস শব্দটি এমন ব্যক্তিকে নির্দেশ করে, যে তার অধিকারভুক্ত কোন নারীকেই, হোক তা তার স্ত্রী, কন্যা, বোন এবং অন্যদের যিনা করা থেকে বিরত রাখেনা, তা সরাসরি জিনাই হোক, আর এমন সব কাজ হোক যা জিনার দিকে নিয়ে যায়, যেমন গায়ের মাহরামের উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে যেসব আওরা (শরীরের অংশ) ঢেকে রাখতে হয়, তা প্রকাশ করা, গায়ের মাহরাম এর সাথে একাকী অবস্থান করা, ঘর থেকে বের হওয়ার সময় দেহে সুগন্ধি লাগানো, আর অন্যান্য কাজ যা ফিতনা আর অপরাধ সৃষ্টি করতে পারে।”

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...