Skip to main content

গুটিবাজি আর কূটনামি


 মানুষের জীবন এতটাই ছোটো যে, চোখের একটা পলক পরতে যতক্ষন। অথচ এই ছোটো জীবন নিয়েই আমাদের কত বড়াই।

নিজের একটু সুবিধার জন্য আমরা আরেকজনের নামে কূটনামি বা গুটিবাজি করতে পিছপা হইনা। বসের কাছে ভালো থাকার জন্য অফিসে, শিক্ষকের কাছে ভালো সাজার জন্য স্কুল টু ইউনিভার্সিটিতে, নেতার কাছে ভালো সাজার জন্য রাজনীতিতে কিংবা ফ্যামিলিতে ভালো সাজার জন্য অন্য মেম্বারদের সাথে! কোথায় নাই আমাদের এই গুটিবাজি আর কূটনামি। কিন্তু কর্মফল বলেও যে একটা বিষয় আছে সেটা ভূলে যাই আমরা। আমরা ভূলে যাই জীবন আমাকে নতুন করে কিছুই দিবেনা সে শুধু আমাকে তাই ফিরিয়ে দিবে যা আমি দিয়েছিন জীবনকে। কর্মফল নিয়ে ডঃ মির্জা গালিব সাহেব তার বক্তৃতায় একটা ঘটনা বলেছিলেন। ঘটনাটা ছিলো এমন যে.... হিন্দু এক রাজা ছিলেন খুবই ন্যায়পরায়ন এবং সৎ শাসক কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে তার সবকয়টা সন্তান একটা যুদ্ধে একইসময়ে নিহত হয়। এতে রাজা খুবই বিমর্ষ হয়ে তার ঈশ্বর'কে প্রশ্ন করেন, হে ঈশ্বর আমি তো জীবনে কখনো অন্যায় করিনি বা কারো ক্ষতি করিনি। তাহলে এমন কোন পাপের এতবড় শাস্তি তুমি আমাকে দিলে? ঈশ্বর তার প্রশ্নের জবাবে বললেন, তুমি একবার তোমার বন্ধুদের সাথে মিলে অনেকগুলো প্রজাপতি'কে হত্যা করেছিলে এবং সেই মৃত প্রজাপতি দিয়ে তুমি তোমার গলার মালা বানিয়েছিলে মনে আছে? রাজা বললেন, হ্যাঁ মনে পড়েছে আমার কিন্তু আমি তো নিছক খেলার ছলে করেছিলাম সেই কাজ। ঈশ্বর বললেন, তুমি খেলার ছলে তোমার চাইতে দূর্বল একটা প্রানীর পুরো পরিবারকে হত্যা করে ফেললে ? অথচ তারা তোমার কোনো ক্ষতিও করে নাই। আজ তোমাকে তোমার সেই কর্মফল বুঝিয়ে দেয়া হলো তোমার সব সন্তান'কে একসাথে হ'ত্যার বিনিময়ে! যারা ক্ষমতা কিংবা অন্যের চাইতে একটু ভালো পজিশনে থাকলে আরেকজনের জীবনকে জাহান্নাম বানিয়ে দেন তাদের কর্মফল সম্পর্কে পরিস্কার ধারনা থাকা উচিত। আপনি হয়ত ভূলে যান কিন্তু আপনার রব কিছুই ভূলেন না। বলছিলাম জীবন কত ছোটো সেই বিষয় নিয়ে। কাবাডি খেলায় যেমন আপনার দম যতক্ষন আছে ততক্ষন আপনি মাঠের রাজা। সেখানে দম শেষ হইলেই আপনি মাঠের বাইরে আর এখানে জীবনের দম ফুড়াইলে আপনি এই দুনিয়ার'ই বাইরে। এখানে আপনার দম শেষ তো খোদা হাফেজ।❣️

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...