Skip to main content

স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক

 


আমরা আমাদের জীবনকে মাঝে মাঝে মুভি, নাটকের সাথে মিলিয়ে ফেলি। যেমন আমাদের টিভি নাটকগুলো আমাদেরকে বিয়ের আগের প্রেমকে দারুণ রোমান্টিকভাবে দেখায় কিন্তু ওই একই সম্পর্ক যখন বিয়ের ক্ষেত্রে দেখায় তা শুধুমাত্র "অনেক পেইনফুল" কিংবা "বিয়েটা জীবনটা শেষ করে দিল" এরকম! আর এভাবেই বাস্তব জীবনেও নিজের মনে এই নেগেটিভিটিকে ধারণ করে আমরা বিয়ের সম্পর্ককে শুরু করি......

স্বামী-স্ত্রী সম্পর্কটা আমাদের সমাজে কেমন যেন একটা "কম্পিটিটিভ" সম্পর্ক। কে কাকে কতটা দমিয়ে রাখতে পারে, কে কার কতটা ভুল খুঁজে বের করতে পারে এই প্রতিযোগিতা যেন পুরোটা জীবন পার হলেও শেষ হবার নয়! তোমার বাড়ির মানুষ খারাপ বা আমার বাড়ির মানুষ ভালো এসব বিষয় নিয়ে ঝগড়া যেন নিত্যনৈমিত্তিক! কখনো কি আমরা নিজেদের প্রশ্ন করে দেখেছি আমাদের বিয়ের উদ্দেশ্য কি? কিংবা কখনো কি শ্রদ্ধা করেছি নিজেদের অস্তিত্বকে? আমরা যদি আমাদের সম্পর্ককে বুঝতাম তাহলে কখনো নিজেদের বোকামির জের ধরে "আমার" বা "তোমার" বিষয়গুলোকে আলাদা আলাদা করে টেনে আনতাম না কারণ আমরা আসলে ভুলেই যাই যে দুজন মিলেই "আমরা"! একে অন্যকে ছোট করার অর্থ হল নিজেদের দুয়ে মিলে "ইউনিটকে" ছোট করে দেখা! বেশিরভাগ কাপলদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয় শুধুমাত্র বড় বা ছোট সমস্যা থেকে নয় বরং সেসব সমস্যাগুলো নিয়ে "কথা" না বলার জন্য! এবং বললেও সেটা আমরা একদম ঝগড়ার পর্যায়ে নিয়ে যাই! আমরা অনেক সময় ভুল করব, অনেক কিছুই বুঝব না কিন্তু এসব বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে কথা বলে যদি সহজভাবে মিটিয়ে ফেলা যায় তাহলে তা সম্পর্ককে আরো মজবুত করে। দেখবেন আপনারা নিজেদের মধ্যে ক্লিয়ার থাকলে বাইরের কোন মানুষকে নিজেদের বিষয়ে অভিযোগ করার জায়গা থাকবে না! আমরা ভুলে যাই আমরা নতুন একটা পরিবারের সূচনা করি। নিজেদের মধ্যে অশান্তি টেনে এনে আপনি কিভাবে পুরো পরিবারকে শান্তির নিশ্চয়তা দিবেন? ভালোবাসার জায়গাগুলোকে নিজেদের "ইগো" দিয়ে ভরিয়ে দিলে আপনি কি নিজে "সুখী" হতে পারবেন একবার ভেবে দেখুন তো! আমাদের সমস্যার আরেকটি মূল কারণ হল আমরা আমাদের জীবনসঙ্গীর প্রতি ক্ষমাশীল বা সহনশীল না! আমরা আমাদের কন্টিবিউশন নিয়ে বলতে থাকি আমি তোমার জন্য এটা করেছি বা ওটা করেছি কিন্তু ভেবে দেখিনা এটা কোন অনুগ্রহ নয় বরং তা সম্পর্কেরই "উপকরণ"! আর কাউকে ভালোবেসে কোন কিছু দেওয়ার মধ্যে কোন প্রতিযোগিতা হয় না! তাই "সংকীর্ণতাকে" দূরে সরিয়ে "বিশালতাকে" দেখুন। যাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন সে ভুলের বাইরে নয়! তার ভুলগুলোকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বের না করে বরং ভালো দিকগুলো নিয়েও চিন্তা করুন। মনে রাখবেন এখানে কেউ জয়ী হতে আসেননি বরং একই সাথে পথচলার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে এসেছেন। তাই "নিজের" বিষয়গুলোকে শুধুমাত্র প্রাধান্য না দিয়ে বরং "নিজেদের" খেয়াল নিতে শিখুন! ------------COLLECTED

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...