Skip to main content

নির্ভরশীলতার সীমাবদ্ধতার গন্ডি

 


সমাজে আমরা প্রত্যেকে একে অপরের উপর নির্ভরশীল; কেউই আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ নই। কিন্তু এই নির্ভরশীলতার সীমাবদ্ধতার গন্ডি কতটুকু?

আমাদের প্রত্যেকেরই নিজস্ব একটা দুনিয়া আছে, যেই দুনিয়া আমরাই রাজা/রানী! নিজের একান্তই ব্যক্তিগত এই জীবনটার সিদ্ধান্তের মালিক যেমন আমরা নিজে,তেমনি নিজেদের প্রতিটি দায়িত্বের মালিকও আমরাই। কেমন হবে, যদি আমরা এতোখানিই নতমস্তক হয়ে যাই যে, জীবনের সবকিছুর জন্যই অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে হয়? নিম্নোক্ত উপসর্গের ৫টি বা তার বেশি থাকলে DSM-5 অনুসারে আপনি Dependent Personality Disorder বা নির্ভরশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী- ১. প্রতিদিনের সাধারণ ঘটনার সিদ্ধান্ততেও আপনার অন্যের পরামর্শ এবং আশ্বাস প্রয়োজন হয় ২. নিজের জীবনের বড় ক্ষেত্রগুলোর দায়িত্ব নেয়ার জন্য অন্যের দরকার পড়ে ৩. অন্যের সমর্থন বা অনুমোদন হারানোর ভয়ে, কোন বিষয়ে দ্বিমত পোষণ না করা ৪. মূলত আত্মবিশ্বাসের অভাবে, নিজে থেকে কোন কাজ শুরু করতে বা শেষ করতে দ্বিধাবোধ ৫. অন্যের সমর্থন বা ভালবাসার জন্য, নিজের অপ্রিয় হওয়া সত্তেও, যেকোন কাজ করার চেষ্টা ৬. একা থাকাকালীন নিজের যত্ন না পারার ভয় এবং অস্বাভাবিক অস্বস্তি বোধ হওয়া ৭. একটি সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলে, দ্রুত যত্নের জন্য আরেকটি সম্পর্কে জড়ানো ৮. অবাস্তব হলেও সারাক্ষণ এই চিন্তা করা যে, তাকে নিজের দেখভাল নিজে করার জন্য সবাই ফেলে যাবে নির্ভরশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়া যেমন নিজের জন্য কষ্টের, তেমনি আশেপাশের মানুষের জন্যও কিন্তু ব্যাপারটি অনেকখানি বিরক্তিকর! নিজের প্রতিটি কাজের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল হতে থাকলে, একসময় নিজের গুরুত্ব মানুষের কাছে কমে যায়। একইভাবে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের দায়িত্ব নিতে, সামনে মানুষটিরও কিন্তু সব সময় ভালো লাগার কথা নয়! এর ফলে সম্পর্কেও চলে আসে একঘেয়েমি! আপনার সমস্যা থেকে বের হয়ে আসার জন্য কিছু কাজ দিয়ে শুরু করতে পারেন- # মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন # আত্মবিশ্বাস বাড়ান # ছোট সিদ্ধান্তগুলো নিজে নেয়া দিয়ে শুরু করুন # কিছু সময় একা থাকুন # সমস্যা সমাধানের কৌশল সম্পর্কে জানুন # নিজের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিন যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে সম্মান করতে শিখুন। আপনি নিজেকে সম্মান না করলে, পৃথিবীর কোন সম্পর্কেই আপনি সম্মান পাবেন না। ঠিক তেমনি, নিজের যত্ন নিতে শিখুন, কারণ আপনি নিজের যত্ন না নিলে, পৃথিবীর কোন মানুষই আপনার মত করে আপনার যত্ন নিবে না! source-lifespring limited

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...