Skip to main content

ইসলামের সৌন্দর্য (নবম পর্ব)

 


মেয়েরা সাধারণত তেলাপোকা, মাকড়শা, টিকটিকি, বিছা দেখলে ভয় পায়। কেউ যদি জানে যে, অমুক মেয়ে এটা দেখলে ভয় পায়, তাহলে তার সাথে মজা করার জন্য বারবার তাকে সেটা দেখানো হয়। কেউ যদি তেলাপোকা ভয় পায়, একটি তেলাপোকা ধরে তার উপর ছুঁড়ে দেওয়া হয়। সে ভয় পেয়ে যখন চিৎকার দিতে থাকে, বাকিরা মজা পেয়ে হাততালি দেয়।

Prank সংস্কৃতি তো এখন এতোটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, কাউকে ভয় দেখিয়ে, বোকা বানিয়ে মানুষ সেটা প্রচার করে বেড়ায়। দরজার আড়ালে দাঁড়িয়ে থাকে ভয় দেখানোর জন্য। যখন আরেকজন দরজার সামনে আসে, তখন ‘ভাআআআউ’ বলে উঠে। আকস্মিক এমন ভয় দেখানো কখনো কখনো মারাত্মক হয়ে উঠে। এমনও ঘটনা আছে যে, হঠাৎ ভয় পেয়ে মানুষ মারা গেছে! মানুষ যখন ভয় পায়, তার হৃদপিণ্ডের গতি বাড়তে থাকে । কেউ হয়তো অন্ধকার ভয় পায় (Nyctohobia)। তো, তার বন্ধুরা মিলে তাকে একটি অন্ধকার জায়গায় নিয়ে যায়, মজা করে এখানে আটকে রাখে বা বেঁধে আসে। ‘Attack of the Graveyard Ghouls’ উপন্যাসটি যারা পড়েছেন, তারা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করতে পারবেন। উপন্যাসের শুরুতেই কয়েকজন বন্ধু মজা করতে গিয়ে তাদের একজনকে কবরে রেখে আসে। সে অপেক্ষা করতে থাকে বন্ধুরা তাকে নিতে আসবে, কিন্তু বন্ধুরা তো আসে না! যাকে ভয় দেখানো হয় অনেকসময় তার মানসিক অবস্থা বিবেচনা করা হয় না। ভয় দেখিয়ে তাকে কাবু করতে গেলে আর না হোক সে লজ্জা পাবে, তাকে নিয়ে সবাই মজা করে বলবে- ‘আরে, একটা তেলাপোকা ভয় পাও তুমি। কী ভীতু!’ কাউকে আচমকা ভয় দেখি হাসাহাসির মধ্যে কোনো কল্যাণ আছে? উল্টো সমস্যা তৈরি হবার সম্ভাবনা আছে। সে ভয় পেয়ে সাময়িক সময়ের জন্য মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে। সে অপমানবোধ করতে পারে। ভয় দেখানোর জন্য সে ঝগড়া শুরু করতে পারে, এক পর্যায়ে মন কষাকষিও হতে পারে। এক্ষেত্রে ইসলাম আমাদেরকে কী বলে? রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণ একবার একটি সফরে গেলেন। একজন সাহাবী ঘুমিয়ে ছিলেন। আরেকজন সাহাবী সেই ঘুমানো সাহাবীকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলেন। এটা করেন স্রেফ মজা করার জন্য। ঘুমানো সাহাবী ঘুম থেকে উঠলে কী ভাববেন? হয়তো ভাবতে পারেন তাকে কেউ বন্ধী করেছে বা কিডন্যাপ করেছে। ঘুমন্ত সাহাবীকে বেঁধে ফেলার ফলে তিনি আচমকা ভয় পেয়ে যান। এই ঘটনাটি রাসূলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কানে পৌঁছে। মনে হতে পারে, একজন আরেকজনের সাথে মজা করে তো এমনটা করতেই পারেন। একজনকে ভয় দেখিয়ে তো বাকিরা আনন্দ পেলো। ১০ জনকে আনন্দ দিতে গিয়ে না হয় একজন ভয় পেলেন। কিন্তু, না। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই ঘটনাটি শুনার পর কঠিন হুঁশিয়ারি দিলেন। তিনি বললেন: “কোনো মুসলমানের জন্য আরেক মুসলমানকে ভয় দেখানো বৈধ নয়।” [সুনানে আবু দাউদ: ৫০০৪] নবিজীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন হুঁশিয়ারির পর আমরা কেনো আরেকজন মুসলিমকে ভয় দেখাবো? হোক না সেটা তেলাপোকা বা মাকড়শা দিয়ে। সে ভয় পায়, আমার উচিত তাকে ভয় না দেখানো। ইসলামের সৌন্দর্য (নবম পর্ব) আরিফুল ইসলাম

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...