Skip to main content

ইসলামের সৌন্দর্য (দ্বিতীয় পর্ব)

 


একটা কমিউনিটি সেন্টারে আপনি বিয়ের দাওয়াত খেতে গেলেন। বর আসতে দেরী হচ্ছে। বর না আসা পর্যন্ত খাবার দেওয়া হবে না। প্রায় আধঘন্টা ধরে চেয়ারে বসে আছেন, উঠে গেলে আর জায়গা পাওয়া যাবে না।

অবশেষে বর আসলো, আস্তে আস্তে খাবার দেওয়া শুরু হলো। প্লেট আর গ্লাস ধোয়া হয়েছে, কিন্তু আপনার মনের মধ্যে একটা খুঁত থেকে গেছে। ঠিকমতো ধোয়া হয়েছে তো? প্লেট-গ্লাস হাতে নিয়ে পাশের চেয়ারের একজনকে বললেন, “ভাই, জায়গাটি একটু দেখো, আমি আসছি।” বেসিনে গেলেন প্লেট-গ্লাস আবার ধুতে। ফিরে এসে দেখলেন আপনার জায়গায় আরেকজন বসে পড়ছেন! এটা দেখেই তো আপনার শরীর জ্বলবে। এতো কষ্ট করে জায়গা রাখলেন, এখন সেখানে আরেকজন এসে বসে পড়বে? ভদ্রভাবে বললেন, “ভাই, এটা আমার চেয়ার, আমি প্লেট-গ্লাস ধুতে বেসিনে গিয়েছিলাম। পাশেরজনকে জিজ্ঞেস করে দেখুন...।” পাশেরজন মাথা নেড়ে সায় দিলেন। কিন্তু, যে আপনার চেয়ারে এসে বসলেন, তিনি বেঁকে বসলেন। “কই, চেয়ারের কোথাও তো আপনার নাম লিখা নেই? এটা আপনার জায়গা হবে কিভাবে?” বিয়ে খেতে এসে কী ঝামেলায় পড়লেন! ভদ্রভাবে বলার পরও লোকটা কথা শুনছে না, উড়ে এসে সে জুড়ে বসলো! ঐ লোকটিও ছাড় দিচ্ছে না, আপনিও ছাড় দিচ্ছেন না। আপনি আপনার ন্যায্য দাবি থেকে সরে আসছেন না, আর সে বলছে ‘আমি জায়গা পেয়েছি, আমি বসেছি’। প্রথমে ঝগড়া হলো, একটু পর একজনের কটু কথা শুনে আরেকজন ঘুষি মারলো। শুরু হয়ে গেলো মারামারি। এরকম ঘটনা অহরহ ঘটে। শুধু বিয়ে বাড়িতেই নয়, ক্লাসে বসতে গেলেও এমন হয়, এমন বিশৃঙ্খলা এড়াতে ইসলাম কি কোনো সমাধানের কথা বলে? ইসলাম কার পক্ষে বলে? যে আগে বসেছে তার পক্ষে নাকি যে পরে এসে বসলো তার পক্ষে? নবিজী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “যদি কোনো ব্যক্তি বৈঠক থেকে চলে যাবার পর আবার ফিরে আসে, তাহলে সে পূর্বের জায়গায় বসার অধিক হকদার।” [সুনানে আবু দাউদ: ৪৮৫৩] অর্থাৎ, যে এতোক্ষণ ধরে একটা জায়গায় বসেছিলো, কোনো কারণে সে যদি উঠে চলে গিয়ে আবার ফিরে আসে, তাহলে সে তার আগের জায়গায় বসার অধিক হকদার। বিয়ে খেতে এসে অনেক্ষণ ধরে যে এক জায়গায় বসলো, তার জায়গায় আরেকজন এসে জুড়ে বসবে; ইসলাম এমনটা সমর্থন করছে না। ইসলামের সৌন্দর্য (দ্বিতীয় পর্ব) আরিফুল ইসলাম

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...