Skip to main content

নেদারল্যান্ডসের এমপি

 তিনি কুরআনকে ‘বিষাক্ত’ বলেছিলেন!

টুইন টাওয়ার ধ্বংসের পর পশ্চিমা মিডিয়াগুলো ব্যাপকহারে ইসলামবিদ্বেষ প্রচার শুরু করে। এটা কারোরই অজানা না। কিন্তু অনেকেই জানে না, সেই সময়টাতে অমুসলিমদের ইসলাম গ্রহণের হার হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছিলো। এমনকি, সেই হামলায় পরিবারের সব সদস্য কে হারানো এক মহিলা পরে নিজেই মুসলিম হয়েছেন। কারণ ছিলো, ইসলাম সম্পর্কে মানুষদের বৃদ্ধি পাওয়া কৌতুহল। ইয়োরাম ভান (Joram Van) ছিলেন নেদারল্যান্ডসের এক প্রচন্ড ইসলামবিদ্বেষী দলের সক্রিয় নেতা। তিনি তার দেশ থেকে কুরআন আর ইসলামকে অবৈধ ঘোষণার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আল্লাহর পরিকল্পনা এতোটাই অবাক করার মতো ছিলো যে, তিনি ইসলামবিরোধি একটা বই লেখার মাঝপথেই ইসলাম গ্রহণ করেন। “সেই বইটা লেখার সময় আমি (ইসলাম সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে গিয়ে) এমনসব বিষয়ের মুখোমুখি হই যেগুলো ইসলাম সম্পর্কে আমার পূর্ব ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দেয়”। ইসলাম সন্ত্রাসকে উস্কে দেয়, ইসলামে নারীরা নিগৃহীত, ইসলাম সব অমুসলিমদের প্রতি অসহিষ্ণু; এগুলো ছিলো তাঁর বিশ্বাস। এসব বিশ্বাসের দেয়াল চূর্ণ হয়ে যায় যখন তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে শুরু করেন। তিনি একজন খ্রিস্টান ছিলেন। তবে ছোটোবেলাতে খ্রিস্টান ধর্মের বিভিন্ন বিষয় তার মনে প্রশ্ন সৃষ্টি করে ছিলো। কিন্তু তখন তিনি সেসব নিয়ে খুব বেশি মাথা ঘামান নি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো ইসলাম পরবর্তীতে তার সেসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেয়। তার ভাষায়, “I got Islamic answers to Christian questions”. মুহাম্মদ (সা) এর নব্যুয়ত বিশ্বাস করতে তাঁর অনেক হিমশিম খেতে হয়েছিলো। তিনি এজন্য এক অভিনব কাজ করেন। তিনি খ্রিস্টান হিসেবে যেসব নবীতে বিশ্বাস করতেন তাদের সাথে মুহাম্মাদ (সা) কে তুলনা করে মিলাতে শুরু করেন। তিনি এটা করে বুঝতে পারেন, মুহাম্মাদ (সা) সম্পর্কে তার এতোদিনের অভিযোগের সব ভিত্তিই হারিয়ে গেছে। কারণ, তুলনামূলক বিচারে মুহাম্মদ (সা) কে তার কাছে অনেক বেশি ভালো মনে হয়েছিলো। আপনি কি জানেন, তিনি যেই বইটা ইসলাম বিরোধিতার জন্য লেখা শুরু করেছিলেন সেই বইটা কিন্তু পরে প্রকাশিত হয়েছিলো? তবে সেটা প্রকাশিত হয়েছিলো একটা ইসলামি প্রকাশনী থেকে! ইসলামী বই হিসেবে। তিনি নেদারল্যান্ডসের এমপি থাকা অবস্থায় পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কুরআন আর ইসলামকে সব সমস্যার মূল হিসেবে চিত্রায়িত করেছিলেন। আজ তিনি নিজেই মুসলিম!




Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...