Skip to main content

‘জাদু’

 


জাদুকে আরবী ভাষায় ‘ছিহির’ বলে। ছিহির ওই বস্তু যার কার্যকারণের প্রভাব আছে; কিন্তু তা প্রকাশ্য নয় বরং গোপন। শরিয়তের পরিভাষায় এমন অভিনবকর্মকে ছিহির বলা হয়, যার জন্য জ্বিন ও শয়তানদের খুশি করে তাদের নিকট থেকে সহযোগিতা ও সাহায্য গ্রহণ করা হয়। (নাউজুবিল্লাহ)!

আরবী ভাষার ব্যঞ্ছনা অনুসারে ছাহারা ইয়াছহারু বাবে ফাতাহা ইয়াফতাহু হতে নিষ্পন্ন ‘ছিহরুন’ মাছদার বা শব্দমূল। এর অর্থ সূক্ষè ও গুপ্তবিষয় প্রকাশ পাওয়া। যে কাজের কার্যকারণ অত্যন্ত সূক্ষè ও গুপ্ত তাই জাদু বা ছিহির। পরিভাষায় জাদু বলতে এমন আশ্চর্য কাজ বুঝায় যা খারিক লিল আদত অর্থাৎ সাধারণ নিয়মের ব্যতিক্রম কাজের সাথে বাহ্যিক সাদৃশ্য রাখে। প্রকৃতপক্ষে তা শরিয়তগ্রাহ্য কারামত ও মুজ্বিযাহ নয়। কারণ কারামত ও মুজ্বিযাহ আল্লাহপাকের দিক হতে প্রকাশিত হয়। পক্ষান্তরে জাদু শিক্ষাযোগ্য বিষয় যা অন্যের নিকট থেকে শিখতে হয় এবং যা অর্জন করতে জ্বিন ও শয়তানের নৈকট্য সুলভ কাজের মাধ্যমে তার সহযোগিতা কামনা করা হয়, যা ইসলামে কুফরী কর্ম। (তাফসিরে রুহুল মায়ানী : ১/৩৩৮)।

গভীর দৃষ্টিতে আল কোরআন তেলাওয়াত করলে দেখা যায় যে, ‘ছিহির’ শব্দটি বিভিন্ন আঙিকে এতে ৬৪ বার উল্লেখ করা হয়েছে এবং ছিহির কুফুরী কর্ম বলে ধার্য করা হয়েছে। প্রসঙ্গত : জ্বিন ও শয়তানকে জাদুতে রাজী : খুশি করার বিভিন্ন রূপ হয়ে থাকে। যথা : (১) কুফর ও শিরকের শব্দ যোগে মন্ত্র পাঠ করা ও শয়তানের গুণকীর্তন ও স্তর-স্তুতি করা। (২) নক্ষত্রের পূজা-অর্চনা করা। এর ফলে শয়তান ভীষণ খুশি হয়। (৩) এমন সব কাজ করা যা আল্লাহপাকের নিকট অতি অপ্রিয় ও ঘৃণ্য। এতে শয়তান খুশি ও আনন্দে-উদ্বেলিত হয়ে উঠে। যেমন (ক) একাধিক্রমে অপবিত্র বা জানাবাতের অবস্থায় থাকা (খ) ঋতুবতী অবস্থায় মহিলা জাদুকরের যাদু করা (গ) পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা হতে দূরে থাকা (ঘ) কাউকে বিনা বিচারে হত্যা করে তার রক্ষ দিয়ে তাবিজ লেখা ইত্যাদি। জাদু কর যখন এ জাতীয় ঘৃণ্য ও হারাম কাজ করে, তখন খবিস শয়তান ও জ্বিন খুব আনন্দিত হয় এবং তার কাজে সহযোগিতা করে। সাধারণ মোহাবিষ্ট মানুষ বুঝে নেয় যে, জাদুকরের কীর্তিতে এত সব কাজ সমাধা হচ্ছে। আসলে তা মোহান্ধতা ও দৃষ্টিভ্রম ছাড়া কিছ্ইু নয়।

আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, জাদু শিখতে জ্বিন ও শয়তানের নৈকট্যমূলক কাজের মাধ্যমে তার সহযোগিতা কামনা করা হয়। যেমন : (ক) মন্দ কথা বলা। এর উদাহরণ হল- এমন বাক্য বা কালাম দ্বারা ঝার-ফুক করা যাতে শিরকের শব্দ আছে বা শয়তানের প্রশংসা আছে। (খ) মন্দ কাজ করে শয়তানের নৈকট্য কামনা করা। (গ) নক্ষত্র পূজা করা ও শরিয়তবিরোধী সাহচর্য অবলম্বন করা। (ঘ) ইতিকাদ বা বিশ্বাসের দিক থেকে মন্দ কাজ করা। যেমন যে কাজ দ্বারা শয়তানের নৈকট্য লাভ করা যায় তা উত্তম বলে মনে করা এবং এ জাতীয় ব্যক্তি ও কাজের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক ও ভালোবাসা রাখা ইত্যাদি। (তাফসিরে রুহুল মায়ানী : ১/৩৩৮)।

বস্তুত : জাদুর দ্বারা কোন সময়ই কোন বস্তুর মৌলিককত্ব বা আসল রূপ পরিবর্তিত করা যায় না। যেমন মানুষকে পাথর বা চতুষ্পদ প্রাণীতে পরিণত বা রূপান্তরিত করা। কোন কোন সময় জাদুর ব্যাপারটি শুধু নজরবন্দি পর্যায়ের হয়ে থাকে। জাদুকর লোকদের চোখে এমন একটি প্রভাব ফেলে যে, মানুষ অনুপস্থিত বস্তুকে উপস্থিত, অস্তিত্বহীন বস্তুকে অস্তিত্ব সম্পন্ন বলে মনে করে এবং তাকেই বাস্তব বলে ধারণা করে। কখনো কখনো কাল্পনিক ক্ষমতার দ্বারা মানুষের মন মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে। যার ফলে মানুষ অনুভব যোগ্য নয়, এমন বস্তুকে অনুভবযোগ্য বলে খেয়াল করে। কথিত আছে যে, জাদুর সম্মোহনী প্রভাব দ্বারা মানুষকে গাধার রূপে, গাধাকে কুকুরের রূপে পরিবর্তিত দেখাতে পারে। আসলে এসবই কল্পনার জগৎ। (তাফসিরে বাগাভী : ১/৯৯)। 

এ. কে. এম. ফজলুর রহমান মুনশী
 | daily inqilab

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...