Skip to main content

মাদক পাচারকারী এখন ইসলাম প্রচারক

 মাদক পাচারকারী এখন ইসলাম প্রচারক

সিগারেট খেতে খেতে গাড়ি চালাতে থাকা দুই বন্ধুকে হুট করে পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। রেজিস্ট্রেশন এবং ইনস্যুরেন্সবিহীন সেই গাড়িটা ব্যবহৃত হচ্ছিলো মাদক পাচারে! এমন চূড়ান্ত অসহায় এবং ভীত অবস্থায় দুই বন্ধুর একজন উপরে তাকিয়ে অচেনা কোনো সত্তার কাছে একাগ্রতার সাথে একটা আর্জি করে- “তুমি যদি আমাকে এইবারের মতো বাঁচিয়ে দাও, আমি আমার জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিবো"। আর্জি জানানো ছেলেটার বর্তমান নাম মুজাহিদ ফ্লেচার। আর সেদিন সর্বশক্তিমান তার আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন। পুলিশ জেরা করে একদম স্বাভাবিক ভাবে তাদের ছেড়ে দেয়। কিন্ত মুজাহিদ তার দেয়া ওয়াদা রাখেননি। কিছুদিন পরেই মুজাহিদ ফ্লেচার সম্মুখীন হলেন এক ভয়াবহ সড়ক দূর্ঘটনার। দূর্ঘটনা এতোটাই গুরুতর ছিলো যে তার গাড়ি একেবারে রাস্তার মধ্যে উলটে যায় এবং ধোয়া বের হতে থাকে। কিন্তু সে যাত্রায় সে বেঁচে যায়। মুজাহিদের জীবনে কোনো কিছুর অভাব না থাকলেও তিনি সুখী ছিলো না। সত্যিকার প্রশান্তির খোঁজ করতে করতে মুজাহিদ পরিচিত হন কুরআনের সাথে। এমনকি মুসলিম হওয়ার আগেই তিনি নামাজ পড়াও শিখে যান। কিন্তু একদিন এক মুসলিম এসে তাকে অনেকটা হুমকির মতো বলে, “তুমি যদি ইসলাম গ্রহণ না করো তাহলে কিন্তু তুমি সোজা জাহান্নামে যাবা!” এই কথার ধাক্কা মুজাহিদকে পাক্কা ৬ মাসের জন্য মসজিদ থেকে দূরে ঠেলে দেয়। কিন্তু কুরআনের প্রতি ভালোবাসায়, তিনি পৃথিবীর সমস্ত কাজ বাদ দিয়ে কুরআন পড়তে শুরু করেন। তিনি মনে করতেন মুখ দিয়ে শাহাদাত বলা আসলে তেমন কিছু না। কিন্তু তিনি যখন শাহাদাত পাঠ করেন তখন তার মনে হচ্ছিলো তার ভেতরের সব বোঝা হালকা হয়ে গেছে। সবকিছু নতুন লাগছিলো তার কাছে। মুসলিমদের মিছিলে যুক্ত হয়ে গেলো তাঁর নাম। “সেদিনের পর আমি আমার আগের জীবনের সব বাজে কাজ ছেড়ে দেই। হৃদয়ের এক শূন্যতা দূর করার জন্য আমি সেই কাজ গুলো করতাম। ইসলাম আমার সেই শূন্যতা পূরণ করে দিয়েছে”। স্পেনের লোক হিসেবে তিনি স্প্যানিশ ভাষায় প্রথম অডিও কুরআন তৈরি করেছেন। প্রতিষ্ঠা করেছেন প্রথম স্প্যানিশ ভাষাভাষি ইসলামিক সেন্টার। দু’মাসের কম সময়েই ১৫ জন সেখান থেকে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলেছে। আমরা বলি, একটি দূর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না। মনে হয়, সবসময় কথাটা সত্য না!

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...