Skip to main content

পরকীয়া

 


পরকীয়া একটি মারাত্মক ব্যাধি। একটি পরিবারের জন্য মহা হুককি স্বরূপ হচ্ছে এ-পরকীয়া। পরকীয়ার এ-জের ধরে কত সংসার ভেঙে খান খান হয়ে গেছে।জীবন হয়ে যাচ্ছে একেবারে হাহাকার।এভাবে চললে যে, জীবনের প্রতিটি পাঠ একেবারে ধ্বংস স্তুপে পরিণত হবে।তা আমাদের বিবেচনা করার ব্যাপার নয় কী? প্রতুত্তরে আমরা বলবো অবশ্যই বিবেচনা করার ব্যাপার।

স্ত্রীর প্রতি স্বামী অসন্তুষ্টি। স্বামীর প্রতি স্ত্রীও বেমান ভাবেই রাগান্বিত। পাশের বাড়ির সুন্দরী মেয়ের সাথে সুযোগ পেলেই জড়িয়ে যাচ্ছে পরকীয়ার মত অবাধ মেলে মেশায়। স্বামীকে একান্ত কাছে না পেয়ে স্ত্রী পরকীয়ার বিষবাষ্পে নিজের গা ডুবিয়ে দিচ্ছে।যেনো নিজের গাকে নিজেই উনুনের অগ্নিকান্ডে জ্বালিয়ে ছাই করে দেওয়ার মত অবস্থা।এব্যাপারে দিশেহারা হয়ে গেছে প্রায় কিছু মানুষ।ব্যক্তি জীবন একেবারেই অতিষ্ঠ হয়ে গেছে তাদের। জীবন হয়ে গেছে কলুষে বিবর্ণ,ধূসরতায় গিয়ে পৌঁছলো জীবনের রূপ এবং রঙ। অবচেতনার দিকে ধাবিত হচ্ছে সময়ের কিছু মুহূর্ত। আবার পারিবারিক জীবনেও কিছু মানুষ শান্তির হিমেল বাতাস লাগাতে চাই তাদের গায়ে।
কিন্তু আমাদের রগ রেশায় এ-ব্যাধিটা যে একেবারে মিশে গেছে। স্ত্রীর হাতে স্বামী নিহত আবার স্বামীর হাতেও স্ত্রী নিহত হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। খবরের পাতা উল্টোলেই বের হয়ে আসে পরকীয়ার জেরে একে অপরের হাতে হত্যার কথা। এ ব্যাধির উৎসের মূল হচ্ছে একে অপরকে সময় না দেওয়া এবং স্বামী স্ত্রী দুজন দুজনকে মূল্যায়ন না করা।
দুহাজার উনিশ সালের এক সমীক্ষায় জানা যায় যে পুরুষের তুলনায় নারীরাই বেশি পরকীয়ায় জড়িয়ে আছে। এর আরেকটি কারণ হতে পারে স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়াঝাটির ফলে একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা। অনেক সময় এমনটাও দেখা যায় অনলাইন অ্যাপসের মাধ্যমে কোন পুরুষের সাথে চ্যাটিংয়ে জড়িয়ে যাওয়ার কারণে পারিবারিক জীবনে দ্বন্দ্ব কলহ সৃষ্টি এভাবেই দুজনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়।
এ পরকীয়ার আবির্ভাব কোথা থেকে ঘটে আর তার নিরসনের পন্থাই বা কি! এর থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হচ্ছে চোখকে পর নারী বা পরপুরুষের কুদৃষ্টি থেকে যত সংযোমী হওয়া যায় বা নিজের আত্মাকে যত নিবৃত্ত রাখা যায়। চোখ দিয়ে আমরা দেখি আর এই দেখাটা যখন আমরা অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করি বা অনুভূতি জাগায় তখন থেকে ভালো লাগা শুরু হতে থাকে।আর তখন থেকেই সেই রূপবতী চেহারার ম্যাপ আঙ্কন করি।
কখনো কখনো পর নারীকে আমরা কল্পনার জগতে এত্ত সুন্দর করে সাজাই একেবারে পাগল পাড়া হয়ে যায় তার জন্য । আগাগোড়া পুরোটাই মেলে ধরি কল্পনার মহারাজ্যে।তার দেহের ছবিটা একেবারে মনের গভীরে নিয়ে কামনা বাসনার স্বপ্ন বুনি সেই নারীকে নিয়ে। আর সেই নারীর কারণে নিজের স্ত্রীর ওপর অনেক সময় জুলুমের স্টিম রোলার চালাতে খানিকটা দ্বিদ্বাবোধও করি না আমরা।ঠিক তখন আমরা নরপুশুর রূপ ধারণ করি।
এভাবেই আমরা এ সুন্দর কলুষমুক্ত জীবনকে গভীর অরণ্যে নিপতিত করি।যার ধরুন সব কিছুতে জীবনটা বিকৃত রূপ ধারণ করে।
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হলো কোন আমল মানুষকে বেশি জান্নাতে নিয়ে যাবে রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহভীতি এবং সচ্চরিত্র রাসুল (সা.)কে এটাও জিজ্ঞাসা করা হলো আর কোন আমল মানুষকে বেশি জাহান্নামে নিয়ে যাবে তিনি বলেন মুখএবং যৌনাঙ্গ। (তিরমিজি ২০০৪)।
হাদিস শরীফে এসেছে ‘তুমি যদি আল্লাহ তায়ালার ভয়ে কোনো কিছু ছেড়ে দাও তাহলে আল্লাহ তায়ালা তোমাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু দান করবেন।’ (তিরমিজি )। হাদিস শরীফে আরো এরশাদ হয়েছে ‘যে যুবক কোনো তরুণীকে একা পেয়েও আল্লাহ তায়ালার ভয়ে তার ওপর কোন হামলা করলো না তাহলে তার জন্য রয়েছে জান্নাতুল ফেরদাউস।’ (বোখারি)। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে দ্বীনের ওপর অটুট রাখুক। আমীন।

daily inqilab

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...