Skip to main content

সম্পূর্ণ গ্রামের ইসলাম গ্রহণ

    সম্পূর্ণ গ্রামের ইসলাম গ্রহণ





পাপুয়া নিউ গিনির একটা প্রত্যন্ত গ্রাম। দাওয়াহ সংগঠন ‘IERA’ এর পক্ষ থেকে ২০২০ সালে সেই গ্রামে ইসলামের বাণী পৌঁছে দেয়ার একটি উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এই উদ্যোগে এসেছিলো কিছু অপ্রত্যাশিত বাধা! ‘IERA’ এর তরফ থেকে পাপুয়া নিউ গিনির সেই গ্রামে আব্দুর রহীম গ্রিনের নেতৃত্বে একটা দল গিয়ে পৌঁছে। গ্রামের প্রধানের অনুমতিক্রমে তাদের সেই দল গ্রামবাসীকে ইসলামের মৌলিক বিষয়াদি সম্পর্কে জানাতে শুরু করে। আদনান রশীদের একটা ছোট বয়ানের পর তারা জিজ্ঞেস করে তাদের সেই আকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন, “তোমাদের মধ্যে কে কে এই সুন্দর ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করতে চাও?” সবাইকে হতাশ করে দিয়ে একটা মানুষও তখন হাত তুলে নি। এমনকি সেই গ্রামবাসী তাদের সেই দলের উপর বিভিন্ন বিষয়ে রাগ ঝাড়তে থাকে। কিন্তু ইসলামের দাওয়াত দিতে আসলে যে আপনাকে অবশ্যই ধৈর্য কে পুজি করে আসতে হবে। তাই গ্রামবাসীকে তারা আবার বুঝানোর চেষ্টা করে। যেহেতু তারা আগে থেকেই খ্রিস্টান ছিলো তাই তাদের কে ইসলাম এবং খ্রিস্টান ধর্মের মিলগুলো সম্পর্কে বলা হয়। আরো বলা হয়, যে মুসলিমরাও ঈসা (আ) কে বিশ্বাস করে। তারা আপ্রাণ চেষ্টা করতে থাকে তাদের ভুল বুঝাবুঝি গুলো দূর করতে, তাদের সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে। কিন্তু এবারেও কেউ কোনো ইতিবাচক সাড়া করেনি। আশাহত হয়ে যখন দাওয়াহ দল টা নিজেদের গাড়ি করে চলে যাচ্ছিলো তখন তারা খেয়াল করলো আস্তে আস্তে তাদের গাড়ির চারপাশে কিছু মানুষজন জড়ো হওয়া শুরু করেছে। দেখতে না দেখতেই গ্রামের সবাই সেখানে এসে উপস্থিত হয়ে গেলো। তারা সেই দলটার কাছে কিছু একটা চায়। তারা শিখতে চায় কীভাবে ইসলাম গ্রহণ করতে হয়! গ্রামপ্রধান সহ উপস্থিত সকল গ্রামবাসী তাদের সাথে ঐকতানে পাঠ করে ফেলে, “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল ও বান্দা”। একটা প্রত্যন্ত অঞ্চলের একদল বাসিন্দা, যারা জীবনেও ইসলামের কথা শুনেনি, অথচ সত্য তাদের সামনে উদঘাটিত হওয়ার পরপরই তারা তা আলিঙ্গন করে নিলো। [ছবি- গ্রামবাসীকে শাহাদাত পাঠ করানোর পর ইসলামের অন্যান্য বিষয় জানানো হচ্ছে। তাদের হাসি তো দেখেন!]

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...