Skip to main content

লাল রঙ ভালো নাকি নীল?


আমাদের সমাজে নারী হয়ে জন্মানোই একটি যুদ্ধের নাম! কেন যুদ্ধ বলছি? এই যুদ্ধ আসলে অন্য কারো সাথে নয়, বরং প্রতিটি নারীর নিজের মনের সাথে, নিজের শক্তির সাথে, সমাজের মানসিকতার সাথে, এবং সবশেষে সেই সবগুলো বিপরীতমুখী টানের সাথে, যা প্রতিনিয়ত নারীদের পিছনে টানছে! যদিও আমাদের মূল ফোকাস থাকে পুরুষের দিকে, তবু বলতে হয় পিছন থেকে টেনে ধরা মানুষগুলো কিন্তু সবসময় শুধুমাত্র পুরুষ সমাজ নয়, বরং অন্যান্য নারী ও কিছু আপনজনও এই দলভুক্ত।

আমরা একপাশ দিয়ে বলি সমাজ অনেকখানিই এগিয়ে গেছে, আবার অন্য পাশে আমরা নিজেরা মুখে না বললেও অন্তরে ধারণ করি কিছু বিষাক্ত অনুভূতি! দুঃখ হলেও সত্যি যে অনুভূতিগুলো অধিকাংশই অন্য নারীদের প্রতি! ওই যে আলোচনার শুরুতেই যে বললাম, আমাদের অধিকাংশ যুদ্ধই কিন্তু নারী হিসাবে নিজের সাথে! আচ্ছা একবার নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন তো, অন্যের সাথে প্রতিযোগিতায় ভিড়ে আপনি নিজের প্রতিভাগুলোকে অবমূল্যায়ন করছেন না তো? নিজের মাতৃত্বকে আপনি যথেষ্ট সম্মান দিয়েছেন কি? নিজের ভেতরের নারীসত্তাকে বিকশিত করার জন্য যথেষ্ট সময় দিয়েছেন? আরেকজন নারী সম্পর্কে আপনি কটূক্তি করেন নাই? একজন মেয়ে হিসেবে, আবারো বলছি শুধুমাত্র সমাজের একজন নারী হিসেবে, আপনি নিজেকে ভালোবাসেন কি? একটি কন্যা সন্তান সম্ভবত একমাত্র জীব, যার সারা জীবন এই সত্য প্রমাণ করতেই লেগে যায় যে - সে জন্মগত ভাবেই শুধু নারী নয়, কর্মগত ভাবেও নারী! বাড়ির সব কাজ করা, শান্ত থাকা, চাকরি করা, 'মা' হওয়া - প্রত্যেকটিই আপনার নারীত্বকে সম্মৃদ্ধ করতে পারে সত্যি, কিন্তু কখনোই সংজ্ঞায়িত করতে পারে না! এগুলো নেই মানে আপনি পরিপূর্ণ নারীই নয়, তা নয়, কখনোই নয়!! নারী এগিয়ে নাকি পুরুষ এগিয়ে? নারী পুরুষ কি সমান? - এই প্রশ্নগুলোর পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের অনেক মূল্যবান সময় আমরা প্রত্যেকেই নষ্ট করে দিচ্ছি! কিন্তু কেন এই তুলনা?! যদি জিজ্ঞেস করা হয়, লাল রঙ ভালো নাকি নীল? সাগর যদি লাল হত, আর সূর্য যদি নীল, তবে কেমন লাগতো বলুন? যদি প্রতিটি রঙের আলাদা গুরুত্ব, মহিমা ও কাজ থাকতে পারে, তাহলে মানুষের কেন নয়!? প্রত্যেকেরই নিজস্ব দায়িত্ব, ব্যক্তিগত সত্তা আছে, যার ফলে সে নিজে সুন্দর, হোক তা নারী,পুরুষ, কিংবা তৃতীয় লিঙ্গ! আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি সম্মান, ভালোবাসা এবং বিশ্বাস একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া। মানুষ নিজের প্রতি এই অনুভূতিগুলো প্রদর্শন করলে, বাকিরা সয়ংক্রিয়ভাবেই করবে। নারী হিসাবে, নিজেকে ভালবাসার জন্য কোন কারণ, অর্জন,স্বীকৃতির প্রয়োজন নেই, দরকার নেই কোন নির্দিষ্ট দিবসেরও! আসুন মানুষ হই আগে।
source-lifespring liited

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...