Skip to main content

অন্যের জীবনের ব্যক্তিগত জায়গাগুলো নিয়ে প্রশ্ন

 




"এই, তুমি বাচ্চা নাও না কেন?"

"আচ্ছা আপনি কত টাকা বেতন পান?" "ইশ! আর কতদিন পড়াশোনা করবা!? এখনো তো কিছুই করতে পারলা না!" "শুনলাম তোমার ডিভোর্স হয়ে গেছে, কেন?" চারপাশে এমন মন্তব্য আমরা এত বেশিই শুনে থাকি যে, ইদানীং হয়তো আমরা অনেকেই এগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অনেকে আবার এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে, নিজেরাও অন্যের জীবনের ব্যক্তিগত জায়গাগুলো নিয়ে প্রশ্ন বা মন্তব্য করে ফেলেন নিঃসংকোচে! ব্যাপারটি একটু কেমন হয়ে যাচ্ছে না? হয়তো ভাবছেন, বললেই বা কি! আপনি কি জানেন, আপনার সামান্য কথার জন্য সামনের মানুষটি কতখানি কষ্ট পাচ্ছেন? তার শুধু একটি মূহুর্ত নয়, পুরো দিনটাই মাটির কারণ আপনি হচ্ছেন? আপনার একটা প্রশ্নের জন্য, একজন মানুষ নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন, ভাবতে কেমন লাগছে? হয়তো যেই কষ্টটা ভুলে মানুষটা এগিয়ে যেতে চাচ্ছে, সেই দগদগে ঘা আপনি বের করছেন, কেন বলুন তো? তাই, ১. যেকোনো মন্তব্য বা প্রশ্ন করার আগে চিন্তা করুন, আপনি প্রশ্নটি করার সম্পর্ক ও পরিধির আওতাভুক্ত কিনা! ২. যদি আপনি মন্তব্যটি করার অধিকার রাখেন, তবুও বিবেচনা করে নিন, এটা সঠিক পরিস্থিতি, সময় কিনা। ৩. কৌতুহল হতেই পারে, কিন্তু অযাচিত কৌতুহল দমন করতে শিখুন। ৪. অপ্রিয় মন্তব্য করে ফেললে, দ্রুত ক্ষমা চেয়ে নিন। ৫. কাওকে কিছু বলার আগে ভাবুন, আপনার প্রিয়জন বা আপনাকে এই কথা বললে কেমন লাগতো? ৬. নিজের কাজে প্রয়োজনে মনোনিবেশ করুন। ৭. আপনার পছন্দ নয়, এমন কোন ব্যক্তিগত প্রশ্ন আপনাকে কেউ করলে, ভদ্রভাবে তাকে বুঝিয়ে বলুন। নিজের জন্য অপ্রীতিকর, অযাচিত বা একান্তই নিজের - এমন প্রশ্নের উত্তর দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। ৮. মনে রাখুন, আত্মসম্মানের স্থান মন রক্ষার উপরে। সব কৌতুহল ভাল নয়। এত ছোট জীবনে অন্যের কষ্টের কারণ হয়ে লাভ কি বলুন!?
source-lifespring limited

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...