Skip to main content

আত্মসম্মান বনাম ইগো

 আত্মসম্মান বনাম ইগো


১. ইগো আমাদের মাঝে এই ভ্রান্ত ধারণার জন্ম দেয় যে, আমি অন্যের চেয়ে সুপেরিয়র বা উত্তম ; এবং এতে অন্যের সম্মতি পাওয়া জরুরি। কিন্তু আত্মসম্মানবোধের সাথে অন্যের সম্মতির কোন সম্পর্ক নেই। আত্মসম্মানবোধ জাতি- বর্ণ- ধর্ম -পেশা- লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাইকে সম্মান করতে শেখায়। ২. ইগো মূলত পার্থিব জিনিসকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়, আর আত্মসম্মানবোধ একটি আত্মিক প্রাপ্তি! ৩. ইগো আমাদের বাধ্য করে অন্যের সাথে নিজেকে তুলনা করতে ; কিন্তু আত্মসম্মানবোধ শেখায় নিজের তুলনা ও প্রতিযোগিতা শুধুই নিজের সাথে। ৪. ইগোকে পরিতৃপ্ত করার জন্য, নিজের জন্য মানুষ যে কারো ক্ষতি সাধন করতে পারে; কিন্তু আত্মসম্মানবোধ ইচ্ছাকৃত ভাবে অন্যের ক্ষতি সাধনের অন্তরায়। ৫. ইগোর কারনে আপনার মাঝে সৃষ্টি হয়- রাগ, হিংসা, অধৈর্য, বিদ্বেষ, অহংকার, লোভ এবং ঘৃণা। সঠিক আত্মসম্মানবোধ আপনাকে এই সবগুলো নেতিবাচক অনুভূতি থেকেই দূরে রাখে। ৬. ইগোস্টিক মানুষ মনে করে, তার নিজের মতামতেরই শুধু মূল্য আছে এবং সেই সবসময় সঠিক। কিন্তু একজন আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তি প্রত্যেকের মতামতকে সম্মান করেন এবং গুরুত্ব দেন। ৭. আপনি যদি ইগোস্টিক হয়ে থাকেন, তবে যেকোনো সফলতা আপনার মধ্যে অহংকারবোধ সৃষ্টি করে এবং আপনি ব্যর্থতা মেনে নিতে পারেন না। অপরদিকে কোন সফলতা বা ব্যর্থতা একজন ব্যক্তির আত্মমর্যাদায় পরিবর্তন আনতে পারে না। ৮. ইগোস্টিক ব্যক্তিদের মাঝে লোক দেখানো স্বভাব প্রবল। তারা সব সময়েই মানুষ তার ব্যাপারে কি ভাববে, সেই বিষয়ে সতর্ক। অপরদিকে আমি নিজে যেমন, তেমনিভাবেই নিজেকে প্রকাশ করার সৎসাহসকে উৎসাহিত করে আত্মমর্যাদাবোধ। ৯. ইগো আপনাকে সব সময়ই সামনের মানুষটির প্রাপ্য প্রশংসা করতে বাধা দেয়, কিন্তু সমালোচনা করতে উৎসাহিত করে। কিন্তু একজন মানুষ যখন নিজেকে প্রকৃত সম্মান করতে জানেন, তখন সামনের মানুষটিকেও সম্মান করতে তার বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ হয় না। ১০. নিঃসন্দেহে ইগো আপনার চরিত্রের একটি দুর্বল দিক। আর আত্মসম্মানবোধ আপনার চরিত্রের অন্যতম শক্তিশালী দিকগুলোর মাঝে একটি!
source-lifespringlimited/youtube

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...