সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া এখন জীবন কল্পনা করা যায় কি? ফেইসবুকের নিউজফিডটা, ইনস্টাগ্রামের ছবিটা আর হোয়াটসঅ্যাপের মেসেজগুলো চেক না করে, দিন কিভাবে কাটানো সম্ভব, তা হয়তো অনেকেই আমরা ভুলেই গেছি! কিন্তু বিনোদনের পাশাপাশি, সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের কিভাবে প্রভাবিত করছে এবং পরবর্তী জেনারেশনকে কি শিখিয়ে দিয়ে যাচ্ছে- কখনো ভেবে দেখেছি কি?
কিছু গবেষণায় উঠে আসা কিছু তথ্য দেখা যাক -
একজন মানুষ গড়ে প্রতিদিন ১.৭২ ঘন্টা সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় করেন।
একজন টিনএজার, গড়ে সপ্তাহে প্রায় ২৭ ঘন্টা সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যয় করে!
৪৫% কিশোর-কিশোরী বলে, তারা 'প্রায় সবসময় ' অনলাইন থাকে; ৪০% কিশোরী এবং ২০% কিশোরের মতে তারা দৈনিক ৩ ঘন্টা বা তার বেশি সময় অনলাইনে কাটায়।
৩১% কিশোর-কিশোরী মনে করে সোশ্যাল মিডিয়া তাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব এনেছে, অপরদিকে ২৫% এর মতে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাব তাদের জীবনে বেশি।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে, ১৩-১৭ বছর বয়সীদের মাঝে, ১৩% বলে তারা বিষন্নতায় এবং ৩২% বলে তারা দুশ্চিন্তাজনিত মানসিক রোগে ভোগে।
২৫-৩৪ বছর বয়সীদের, কর্মক্ষেত্রে পারফরমেন্স অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যবহারের ফলে ০.৫১% কমে যায়।
প্রায় ৫০% লোক সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিনের খবর দেখে এবং ৩০% খবরের জন্য শুধুমাত্র সোশ্যাল মিডিয়াতেই নির্ভরশীল।
৭২% সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর মতে, তারা একবার হলেও সাইবার বুলিং এর শিকার হয়েছেন।
যে কোন অভ্যাস যখন আমাদের জীবনের একটি বড় জায়গা দখল করে থাকে, তখন তা নিশ্চিতভাবে আমাদের জীবনের সব ক্ষেত্রকে প্রভাবিত করে- হোক তা ইতিবাচকভাবে, কখনো বা নেতিবাচকভাবে! নিঃসন্দেহে সোশ্যাল মিডিয়ার অনেক ইতিবাচক দিক আছে, যেমন- এর মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে, যোগাযোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অনেক নতুন মেধাবী উদ্যোক্তা তৈরি হচ্ছেন, সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে খবর, খাদ্য এবং সুযোগ - সুবিধা। কিন্তু বর্তমানে দাঁড়িপাল্লায় মাপলে যেন ইতিবাচকের চাইতে, নেতিবাচক দিকগুলোই বেশি চোখে পড়ে! লকডাউনের সময়টা যেন আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, কিভাবে আমরা, আমাদের সন্তানেরা নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার ফাঁদে! এবং এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে- আমাদের কিশোর এবং তরুণ সমাজ।
প্রথমত, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো- কোনটি আপনি গ্রহণ করবেন আর কোনটি গ্রহণ করবেন না- সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া। বর্তমান যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি যাই দেখবেন, তাই যদি বিশ্বাস করেন, তবে এর চেয়ে বেশি বোকামি আর হয় না!
দ্বিতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হল- কোন বিষয়ে আপনি মতামত দিবেন, এবং কোন বিষয়ে চুপ থাকবেন। এমন অনেক জায়গা আছে যেখানে আপনার মতামতের কোনো মূল্য নেই, আবার অনেক ক্ষেত্রে মতামত আপনার বিপদ ডেকে আনতে পারে।
তৃতীয়ত, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের উপর ইদানীংকালে আপনার ব্যক্তিত্বের অনেক কিছুই বোঝা যায়। তাই আপনি কি প্রকাশ করছেন, অর্থাৎ আপনি আরেকজনকে কি শিখাচ্ছেন- সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
চতুর্থত, সবার আগে আপনার মানসিক স্বাস্থ্য। যদি আপনি মনে করেন, আপনি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের ফলে মানসিকভাবে ভালো থাকতে পারছেন না, তবে অবশ্যই তা কিছুদিনের জন্য হলেও আপনার ব্যবহার বন্ধ করা উচিত।
পঞ্চমত, প্রতিটি মানুষের একটা বাস্তব জগত আছে, এবং বাস্তব জগত সবসময় ভার্চুয়াল জগতের সাথে একই নাও হতে পারে! সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়াতে অনেককেই আপনার অতি আপন মনে হতে পারে, যা হয়তো বা বাস্তব ক্ষেত্রে সত্য নয়!
আমরা নিজেরা কি গ্রহণ করছি, তার উপর অনেকাংশেই নির্ভর করে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কি শিক্ষা গ্রহণ করবে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে তাই হতে হবে চৌকস ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।
source-lifespring limited/youtube
Comments
Post a Comment