Skip to main content

জীবন সুদে জর্জরিত

 একজন গ্রাহকের জীবন সুদে জর্জরিত।

বেতন অনেক বেশি। অনেক মানে অনেক। কিন্তু এত রকম ঋণে পিষ্ট যে সুদ ছাড়া কোন টাকা থাকে না। প্রায় পাঁচ জায়গায় নিয়মিত সুদ দিয়ে যান লাখ লাখ টাকা। সংসার চলে আয় ব্যয়ের সমান সমানে। আমার কাছে জিজ্ঞেস করলেন "কোথায় বিনিয়োগ করতে পারি?" আমি একটা কথাই বলতে থাকলাম - যত টাকা আয় করেন সবটা দিয়ে আগে সুদ মুক্ত হন। তারপরে আসেন। তিনি তারপরও বিভিন্ন ভাবে জানতে চাইলেন। আমি বললাম ভাই মনে করেন আপনি নেতানিয়াহু কে টাকা দিচ্ছেন কেবল ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য। দিবেন? তিনি বললেন না। কুরআন মোতাবেক আল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ হচ্ছে সুদ। আপনি তো সেই নিকৃষ্ট কাজই করছেন। আমি তো বলছি না সব পাপ ছেড়ে দেন। আপনি সুফি হন। কিন্তু তাই বলে কি ইজরাইলের সেনাবাহিনীর হাতে অস্ত্র তুলে দিবেন? ভদ্র লোক চিন্তায় পড়ে গেলেন। আমি বললাম আপনার যদি মনে হয় আপনি অসন্তুষ্ট আমাকে পে করার প্রয়োজন নেই। মানি ব্যাক গ্যারান্টি আছে সকল কাউন্সেলিং এ। তিনি কিছুক্ষন চিন্তা করলেন। আসলে সুদের থেকে মুক্তি পেতেই আমার কাছে এসেছেন। আমি যথা রীতি পথ দেখালাম। কঠিন পথ। উনি চিন্তায় পড়ে গেলেন। তারপরে বলেলন ইনশাআল্লাহ হব সুদ মুক্ত। কিন্তু তারপরে টাকা কি করবো। হাতে তো টাকা আসবে তখন তো ইনভেস্ট করতে হবে। কোথায় করবো? আমি বললাম সুদমুক্ত হন। এর আগে কোন কথা নেই। আমি আছি ইনশাআল্লাহ। তখন সব রকম সাহায্য করতে পারি। তিনি বললেন বলবেন না তাহলে? আমি বললাম আপনার শরীরে মনে করেন আগুন ধরে গেল। এখন কি করা উচিত? নিশ্চই আগুন নেভানো। এখন যদি প্রশ্ন করেন আগুন নেভাতে পারলে কোন বাগানে বসে বিশ্রাম করা উচিত সেটা কি ভাবার সময় হলো? আগে আগুন নিভুক। এদিকে পূর্ণ মনযোগ দিন। ইনশাআল্লাহ আমরা ভালো জায়গায় যাবার শ্রেষ্ঠ চেষ্টা করবো। আমি আছি। চিন্তা করবেন না। মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...