Skip to main content

পানি পান করানোর জন্যই ভদ্রমহিলা জান্নাতে যান ?

 


একটা হাদিস পড়ে, অনেকেই মনে করেন যে একজন পাপী মহিলা একটা তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিল বলে আল্লাহ তাকে জান্নাতে নিয়ে যায়।

তারা মনে করেন যে শুধুমাত্র এই পানি পান করানোর জন্যই ভদ্রমহিলা জান্নাতে যান। ‌ এই ঘটনাটা এভাবে জানার ফলে অনেক মানুষ নানান রকম আজেবাজে কাজ করেও খুব আশায় থাকে যে সে জান্নাতে যাবে। এই হাদিসটার ব্যাখ্যা হিসেবে বলা আছে, আল্লাহ‌ এই ভদ্রমহিলার কাজটিতে খুশি হয়ে তাকে হেদায়েত দান করেন। এই হেদায়েত সে হেদায়েত যেটা আমরা সূরা ফাতিহা পরে প্রতিদিন চাই - ইহিদিনাস সিরাতুল মুস্তাকিম। হেদায়েত আল্লাহ সবাইকে দেন না। যার অন্তরে নূর আছে তাকেই সম্ভবত দেন। আমরা কেউ জানিনা আমরা হেদায়েত প্রাপ্ত কিনা। এবং এ হেদায়েত প্রাপ্তির পর সেই ভদ্রমহিলা ভালো-মন্দের পার্থক্য বুঝতে পারেন। ফলে সে অতীতের পাপকার্য ছেড়ে দেয়। তওবা করে। এবং ভবিষ্যতে ভালো পথে থাকে। এরপর সে জান্নাতে যায়। ‌ ........................................ আমাদের দেশে যারা চরম লেভেলের অসৎ এবং খারাপ মানুষ তারাও মনে করে আমি তো জীবনে কমপক্ষে ‌১০০ মানুষকে খাওয়াইসি। ‌ আমি চুরি করলে কি, আমি তো দশটা মাদ্রাসা দিয়েছি। ‌ সে ভেবে নেয় - একটা কুকুরকে যদি পানি খাওয়ানোর ফলে কেউ জান্নাতে যেতে পারে, তাহলে আমি তো আমারও জান্নাতে যাওয়ার বিশাল সুযোগ আছে, তা আমি যতই পাপ কাজ করি না কেন। ............................... আল্লাহকে আমরা অনেক সময় বোকা ভাবি। কিন্তু আল্লাহ ন্যায় বিচারক। ‌ তিনি অহেতুক কাউকে জান্নাতে দিবেন না, অহেতুক কাউকে জাহান্নামে দিবেন না। মানুষ এবং মুসলিম হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা আমরা আমাদের জীবনটা নিয়ে ভাবি না। ‌ আমরা সৃষ্টিকর্তাকে চেনার চেষ্টা করি না। ধর্মের একদম প্রাথমিক জ্ঞান ও আমাদের নেই। তাই বিভিন্ন মানুষ বিভিন্নভাবে আমাদেরকে ভুল পথে পরিচালিত করে। আমরা সবাই পাপী অবস্থায় আল্লাহর কাছে যাব। কিন্তু জ্ঞান থাকলে পাপ কাজ যেমন কম হবে, তেমনি আমরা ডিলিউশনাল হব না। ....................................... ঈমান হলো ভয় এবং আশার সংমিশ্রণ। অতিরিক্ত ভয় ভালো না, অতিরিক্ত আশা ও ভালো না। আমাদের কারো কারো সমস্যা আমরা অতিরিক্ত ভয় পাই। কারো কারো সমস্যা আমরা অতিরিক্ত আশা করি। এই দুই অবস্থাই দুর্বল ঈমানের পরিচয়াক।
dr kushal

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...