Skip to main content

আপনি কোন থ্রেট না


 ধরুন ইউক্রেনের উপর রাশিয়া আক্রমণ করেছে।

প্রতিবাদ হিসেবে কিয়েভে বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। ব্যাস শেষ। ফলাফল কী হবে? রাশিয়া কি ভয় পেয়ে লেজ গুটিয়ে পালাবে? তারপরে ইউক্রেন রাশিয়াকে বয়কট করলো। রাশিয়া পালাবে? নাকি ইউক্রেনের টাকায় রাশিয়া চলে যে এর দ্বারা তার কোন ক্ষতি হবে। একেবারে সহজ একটা উদাহরণ সেই। সিংহ যখন হরিণকে আক্রমণ করে খায়, বাকি হরিণগুলো কিন্তু একত্রে দাঁড়িয়ে দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে দেখে। এতে কি সিংহ ভয়ে পালিয়ে যায়? কিন্তু সব হরিণ একসাথে দৌড়ানি দিলেই সিংহ ভয় পেয়ে যেতো। পালিয়ে যেতো। তাহলে সবাই দাঁড়িয়ে থাকে কেনো? আল্লাহ সেই বুদ্ধি হরিণকে দেয় নাই। সাহসও দেয় নাই। সেজন্য। জগতের নিয়মটাই এমন। একতাই সব কিছু না। লড়াইয়ের ময়দানে একতার মূল্য শূন্য যদি না তা বলে পরিণত হয়।

আপনার ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান যদি কোন সংঘর্ষে না জড়ায় বুঝতে হবে অন্যায় শক্তির জন্য আপনি কোন থ্রেট না। সে আপনাকে পাত্তা দিচ্ছে না। বিভিন্ন আবাসিক প্রকল্পের ভূমি দস্যুতার গল্প এই দেশের ভিতরের হিজ ইলের গল্পের মতোই। আপনি প্রথমে প্রতিবাদ করতে গেলেন। সাথে সাথে বলল, অভিযোগ থাকলে কোর্টে যাও। আপনি গেলেন সেখানে কোন বিচার পাবেন না কারণ সব তাদের দখলে। আপনি রাগ করে তার দেয়ালে ঢিল ছুঁড়লেন, সাথে সাথে বয়ে যাবে নিন্দার ঝড়। আপনি তখন মনের দুঃখে প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানব বন্ধন করবেন। সবাই বলবে রাস্তার পাশে দাঁড়াও, আপনি সেই কথা মানলেন। এভাবে আপনি দাঁড়িয়ে থাকেন আর আপনার সামনে দিয়ে দস্যু পার হয়ে যায় আরও জায়গা দখল করে। আপনি এক সময় বিরক্ত হয়ে হতাশ হয়ে বাসায় ফিরে যান। তার কোম্পানির পণ্য কিনবেন না বলে শপথ করেন - ভাবখানা এমন যেনো আপনার টাকায় সে চলে। এভাবে নতুন নতুন দখলবাজ ও ভুক্তভোগী আসে। শান্তিপূর্ণ রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা চলতে থাকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। আর সবাই বলে কিচ্ছু করার নেই। জি, তার দেখানো রাস্তায় সত্যিই কিছু করার নেই। এই বুঝটা যদি আমাদের থাকতো!

ধরা যাক পৃথিবীতে কোকাকোলা কিংবা পেপসি কোম্পানি নেই। নেই kfc কিংবা স্টার বাকসও। তাহলে কি যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে? নাকি যেমন চলছিলো তেমনই চলবে? m. patwary

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...