Skip to main content

তাযকিয়ার কতগুলো পথ

 প্রিয় ভাই বোনেরা, বাহিরের পৃথিবীটা আপনার জন্য যতই বেদনাদায়ক বা হতাশাজনক হউক না কেন, আপনি ধনী হোন বা দরিদ্র হোন তাতে কিছু যায় আসে না, আপনি পুরুষ হোন বা নারী হোন তাতে কিছু যায় আসে না, আপনার পরিবার থাকুক বা আপনি একা থাকেন তাতেও কিছু যায় আসে না, আপনি বিশাল ক্ষমতার অধিকারী সম্রাট হোন বা জেলে থাকুন তাতেও কিছু যায় আসে না—এভাবে মানব জাতির প্রতিটি সদস্যের জন্য অপার সম্ভাবনার এক পথ নিজের ভেতরেই লুকায়িত আছে।

জাস্ট নিজের আত্মশুদ্ধির উপর ফোকাস করুন, অন্তরটাকে পবিত্র করে তুলুন আর এভাবে সেরাদের মাঝে সেরাতে পরিণত হোন। আল্লাহ তাআলা বলেন—"কাদ আফলাহা মান যাক্কাহা। সেই সফলকাম হয়েছে যে নিজ আত্মাকে পবিত্র করেছে।" তাই, আল্লাহ তায়ালা আমাদের জানাচ্ছেন তোমার নিজের ভেতরেই আছে তোমার সফলতার সিক্রেট আবার তোমার নিজের ভেতরেই নিজের ব্যর্থতার কারণগুলো লুকায়িত আছে। তাযকিয়ার কতগুলো পথ আপনাদের সংক্ষেপে বাতলে দিচ্ছি। ১। আল্লাহর কাছে দুয়া করুন তিনি যেন আমাদের অন্তরগুলো পবিত্র করে দেন। ২। গোপনেও কিছু ইবাদাত করুন। কিছু দান গোপনে করুন। ৩। আত্মসমালোচনা করুন। ৪। তাওবা করুন। ৫। তাওবা করাটাকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলুন। ৬। আন্তরিক থাকুন। ৭। নিজের কাছে নিজে সৎ থাকুন। ৮। জ্ঞানার্জনের সাথে সাথে ধার্মিকতাও বাড়িয়ে তুলুন। ৯। আল্লাহর জন্য অন্তরে ভালোবাসা অনুভব করুন। ১০। অন্যের উপকার করুন। ১১। আল্লাহর প্রতি সুধারনা রাখুন। অর্থাৎ, সওয়াবের কোন কাজ করলে সেটার জন্য আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশা করুন। আর আল্লাহর কাছে যখন ক্ষমা চাইবেন তখন এমন আশা করবেন যে, আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যখন দুয়া করবেন তখন আশা করবেন যে, আল্লাহ কোন না কোনভাবে এই দুয়ার উত্তর দিবেন। ১২। অন্তরে খুশু অনুভব করুন। ১৩। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকুন। ১৪। ধৈর্য ধারণ করুন। ১৫। আল্লাহর ইবাদাতে সুখ অনুভব করুন। ১৬। বিনম্র থাকুন। ১৭। সর্বদা আল্লাহর জিকিরে জিহ্বাটাকে ব্যস্ত রাখুন। ১৮। আখিরাতে উপকারে আসবে না এমন কিছুর প্রতি কোন আন্তরিক কানেকশন বা উদ্বেগ ফিল করবেন না। আর সন্দেহজনক জিনিস পরিত্যাগ করার চেষ্টা করুন। যেসব ব্যাপারে বিবেকে খুঁতখুঁত তৈরি হয় তা পরিত্যাগ করুন। ১৯। পরিশুদ্ধির এই যাত্রায় নিজেকে একা মনে হতে পারে তবু থামবেন না। নিজেকে এক অদ্ভুত পরিব্রাজক মনে হতে পারে। তবু এগিয়ে যান। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন মানুষদের সুসংবাদ প্রদান করেছেন। —শায়েখ ইয়াসির কাদির আলোচনা অবলম্বনে

Comments