ক্লায়েন্ট MNC এর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। বেতন ৬ লক্ষ টাকা।
বয়স যেহেতু বেশি, রিটায়ারমেন্ট এর আগে একটি ব্যবসা করে সেটেল হতে চান। কিন্তু কি করা যায়? বন্ধুরা পরামর্শ দিল তারা গ্রামে মাছের প্রজেক্ট করবে, তিনি কেবল ইনভেস্টর হিসেবে থাকবেন। ৭০ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করলে বছরে নাকি ৩০ লক্ষ টাকা লাভ হবে। আমি বিস্ফোরিত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম, "কী??" ছোট বেলা থেকে ঢাকা থাকলেও নিয়মিত গ্রামে যাতায়াত। দেশী মাছ চাষ করে যে জীবন বর্ডার লাইনে থাকে সেই হিসাব আসলে জীবন দিয়ে দেখা। মাছ এলাকায় পৈতৃক নিবাস। এত লাভ যদি এই ব্যবসায় হতো গ্রামে গরীব থাকা তো দূরে থাক বাংলাদেশে অন্য কোনো ব্যবসা থাকতো না। সত্যি কথা বলতে আমি নিজেও ছোট খাট একজন কৃষক। আপনি যদি কেমিক্যাল ইউজ না করেন কৃষিতে পোষাতে পারবেন না। গরুর দুধ বলেন কি তরকারি, মুরগি বলেন কি ফল হেভি কেমিক্যাল ইউজ করেই লাভ করতে হবে। অন্যথায় খাবারের যেই দাম তাতে পোষাতে পারবেন না। কৃষি একটা ফ্যান্টাসি। ব্যবসা হিসেবে করা খুব কঠিন। সেজন্য বাংলাদেশে অল্প কিছু ক্ষেত্র বাদে কমার্শিয়াল ফার্মিং হয় নাই। সমস্ত সেক্টর প্রান্তিক কৃষকদের হাতে যারা জীবনে দরিদ্র থেকে বের হয়ে আসতে পারে না - কেবল পরিশ্রম করে। দ্বিতীয়ত কৃষি আত্মা দিয়ে করতে হয়। নিজে থেকে করতে হয়। কেবল টাকা দিলাম রিটার্ন আসবে এভাবে হয় না ( অল্প কিছু ক্ষেত্র বাদে)। সবশেষে বাংলাদেশে জমির যেই দাম এত দাম দিয়ে জমি কিনে কৃষি কাজ করা অসম্ভব। কিছু না করলে জমি খালি পড়ে থাকবে দেখে চাষ বাস করে মানুষ সামান্য আয় করে এই মডেল চলছে। আপনি যদি পৈতৃক সূত্রে এই দেশে বিশাল জমি না পান, কৃষক মানে গরীব এই কথা মোটা দাগে সত্য। সেই তুলনায় এই শ্রম এবং পুঁজি ব্যবসায় খাটালে অনেক উপরে উঠার সম্ভাবনা। সেজন্য গ্রামের কোন মানুষ টাকা হলে কৃষিতে খাটায় না। তারা জানে এইটা লস প্রজেক্ট। সেই তুলনায় শহরের ফুল বাবুরা আশা করে তাদের কিছু টাকা হলে কৃষি ধরে অর্থনৈতিক মুক্তি মেলবে। এতই যদি সোজা হতো গ্রামের কেউ টাকা থাকলে শহরে আসতো না। গ্রামে বসে চাষ বাস করতো। মোহাইমিন পাটোয়ারীঅস্ট্রেলিয়া প্রবাসী ক্লায়েন্ট আমার কাছে জিজ্ঞেস করলো তার ওয়ার্ক জব দ্বারা ভালো টাকা সঞ্চয় হচ্ছে। দেশে একটি দোকান দিবে।
কাজটা কেমন হবে?
আমি বললাম ,"যে দোকান চালাবে সে দক্ষ? "
উত্তরে তিনি বললেন, "না, তবে আমার খুব বিশ্বস্ত।"
আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আগে কি করেছেন?"
তিনি বললেন, "কিছুই করে নাই। ছোট বেলা থেকে চিনি, ভালো মানুষ তাকে দোকানে বসিয়ে দিলে আমার সাথে দুর্নীতি করবে না।"
এবারে আমি বললাম, " তাকে দেখে কি এমন কিছু মনে হয়েছে যে তিনি এই কাজ খুব ভালো পারবেন?"
উত্তরে বললেন, "না"
এবারে আমি দীর্ঘ শ্বাস ফেললাম।
কিভাবে ওনাকে বুঝাই?
একবার বললাম - ধরেন আমি কোনদিন গাড়ি চালাই নাই। মানুষ খুব ভালো। স্বদিচ্ছা আছে। আপনি আমাকে গাড়ি দিবেন?
ক্লায়েন্ট বুঝেও বুঝতে চাইলো না। ওনার কথা হচ্ছে ভালো মানুষের হাতে দোকান তুলে দিলে তো লাভ। ব্যবসাতে টাকা মেরে খাবে না এর থেকে বেশী আর কি আশা করার আছে ইত্যাদি।
বুঝলাম এভাবে কাজ হবে না।
এবারে কথা বন্ধ করে উল্টা প্রশ্ন করলাম, " আমি আমার মাকে সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করি। আপনিও নিশ্চয়ই।
তাহলে কেন মায়ের হাতে ব্যবসা তুলে দিবেন না?"
সাথে সাথে চুপ।
এবারে বুঝে গেলেন।
আমি বললাম, " যদি মনে করেন তিনি ব্যবসা উদ্যমী , যোগ্য এবং টাকা দিলে আরো টাকা বানিয়ে দিতে পারবে তাহলে তার হাতে দোকান দিন। কেবল সততা আসলে পর্যাপ্ত না।"
উনি বুঝতে পারলেন।
আলহামদুলিল্লাহ। এখন পর্যন্ত উদাহরণ দিয়ে মানুষকে বুঝাতে পেরেছি। অনেক সময় আমাদের স্বপ্ন ও আবেগ যা বুঝতে দেয় না।
আপনি কি ভাবছেন আমি কেবল না করি?
মোটেও না।
এমন ক্লায়েন্ট আছেন যিনি অফলাইনে আমার কাছে এসেছেন। ওনার সাথে কথা বলতে বলতে আমি বললাম আপনি বসে আছেন কেন। এক্ষণ দৌড় দিন ব্যবসা শুরু করতে। এক মুহুর্ত দেরি করার দরকার নাই।
সত্যি বলতে অস্টেলিয়ার ক্লায়েন্ট কেও হতাশ করি নাই। উনি নিয়মিত বিদেশী share এ ইনভেস্ট করেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন কিসে বিনিয়োগ করবেন। আমি বললাম যেহেতু সারা বিশ্বের ব্যাটারির প্রাইম সোর্স CATL এ বিনিয়োগ করতে পারেন।
জ্বালানি সংকট আর নবায়ন যোগ্য জ্বালানি বিপ্লব - সবকিছুর কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে ব্যাটারি। আর তার কেন্দ্র বিন্দু হচ্ছে CATL
উনি এই কোম্পানির নাম শুনে নাই। আজকে দেখলাম এর share গত ১৫ দিনে ১০% বৃদ্ধি পেয়েছে।
মাত্র ১৫ দিনে ১০% রিটার্ন যা ব্যাংক সুদের এক বছরের সমান।
মানুষ যদি উপকৃত হয় সেটা আমার সেরা পাওনা।
মোহাইমিন পাটোয়ারী
Comments
Post a Comment