প্রথম কথা হলো, সুস্থ একজন মানুষের পেটে অল্প পরিমাণ বিড়ালের লোম চলে গেলে সাধারণত কোনো বড় সমস্যা হয় না। আমাদের হজমতন্ত্র এমনভাবে তৈরি যে ছোটখাটো অজানা বস্তু (যেমন ধুলা, চুল) অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই মলত্যাগের মাধ্যমে বের হয়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর সাধারণত সামান্য চুল বা লোম হজম না করলেও তা ক্ষতি না করে বের করে দিতে পারে।
তবে সমস্যা হতে পারে দুইভাবে। প্রথমত, যদি কারও বিড়ালের লোমে অ্যালার্জি থাকে। আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মানুষ লোমে নয়, বিড়ালের ত্বক থেকে বের হওয়া প্রোটিনে (যেমন Fel d 1) অ্যালার্জিক হয়। American College of Allergy, Asthma & Immunology জানায়, বিড়াল অ্যালার্জির মূল কারণ হলো তাদের ত্বক ও লালায় থাকা প্রোটিন, যা লোমের সাথে বাতাসে ছড়ায়। এতে হাঁচি, চোখ চুলকানো, নাক দিয়ে পানি পড়া বা শ্বাসকষ্ট হতে পারে। অর্থাৎ সমস্যা সরাসরি “লোম পেটে যাওয়া” নয় বরং অ্যালার্জি প্রতিক্রিয়া।
দ্বিতীয়ত, খুব বিরল ক্ষেত্রে যদি কেউ দীর্ঘ সময় ধরে প্রচুর পরিমাণ চুল বা লোম গিলে ফেলে তাহলে পাকস্থলীতে চুল জমে “ট্রাইকোবিজোয়ার” (hair ball in stomach) তৈরি হতে পারে। এটি সাধারণত মানুষের মধ্যে খুবই বিরল এবং মানসিক স্বাস্থ্যজনিত অবস্থার (যেমন চুল খাওয়ার অভ্যাস) সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। সাধারণভাবে ঘরের লোম খাওয়া থেকে এমন অবস্থা হওয়া প্রায় অসম্ভব।
আরেকটি বিষয় হলো পরিচ্ছন্নতা। যদি বিড়াল নিয়মিত ডিওয়ার্মিং না করা হয় তাহলে তার লোমে পরজীবীর ডিম থাকতে পারে। তবে এটিও সাধারণত মুখে সরাসরি মাটি বা মল লাগা হাত দেওয়ার মাধ্যমে বেশি ছড়ায়, শুধু বাতাসে ভাসা লোম থেকে নয়। Centers for Disease Control and Prevention উল্লেখ করে, পোষা প্রাণীর সাথে থাকার ক্ষেত্রে নিয়মিত হাত ধোয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাই সংক্রমণ প্রতিরোধের মূল উপায়।
তাহলে কি একদম কোনো ঝুঁকি নেই? ঝুঁকি খুব কম কিন্তু শূন্য নয়। বিশেষ করে যাদের অ্যালার্জি, হাঁপানি বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে তাদের ক্ষেত্রে বিড়ালের উপস্থিতি উপসর্গ বাড়াতে পারে। তাই এমন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সবশেষে বলা যায়, বিড়ালের লোম পেটে গেলেই বড় অসুখ হবে... এ কথা পুরোপুরি সঠিক নয়। সুস্থ মানুষের জন্য এটি সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে অ্যালার্জি বা পরিচ্ছন্নতার অভাব থাকলে সমস্যা হতে পারে। নিয়মিত ব্রাশিং, ঘর পরিষ্কার রাখা, বিড়ালকে ডিওয়ার্ম করা এবং হাত ধোয়ার অভ্যাস... এই কয়েকটি বিষয় মানলেই ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
অর্থাৎ, ভয়ের কিছু নেই কিন্তু সচেতন থাকা জরুরি।
Comments
Post a Comment