Skip to main content

জাহাজ নির্মাণ শিল্প

 কেন অপার সম্ভাবনাময় বলা হচ্ছে জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে?

একদা জাহাজ নির্মাণ শিল্পের কেন্দ্র ছিল আমেরিকা। তারপরে হয়েছে জাপান। তারপরে তা এসেছে কোরিয়াতে। বর্তমানে চীন বিশ্বের মোট জাহাজের ৬০% উৎপাদন করে। এই একটি দেশ এক বছরে এত জাহাজ নির্মাণ করে যে দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমেরিকা তা করেনি। তারপরেও কীভাবে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময়? তার মূল কারণ হচ্ছে চীন ২০৩০ সাল পর্যন্ত বুকড। বর্তমানে এত বেশী অর্ডার আসছে যে তার নেওয়ার জায়গা নেই। ফলে কম দামী জাহাজ নির্মাণের অর্ডার নেওয়া বাদ দিয়ে বরং কেবলমাত্র দামী, উন্নত প্রযুক্তির জাহাজের অর্ডার নিতে পারছে - যেগুলোতে লাভ বেশী। সেরা সুযোগ আমাদের জন্য। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারত বাগিয়ে নিয়েছে এক বছরে দ্বিগুণ অর্ডার। ১০০% গ্রোথ! অনেকে প্রশ্ন করতে পারে চীন নিজে ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করলেই তো পারে। অন্য দেশকে দিতে হবে কেন? উত্তর হচ্ছে চীন কিছু ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করলেও কিছু জাহাজ আর বানাবে না। যেভাবে গার্মেন্টস এর কিছু অংশ চীন অন্যান্য দেশে দিয়েছে, বর্তমানে জাহাজ নির্মাণেও সেই স্রোত শুরু হয়েছে। এক কথায় একটা মোক্ষম সুযোগ অপেক্ষা করছে।


সামনে বাংলাদেশের জন্য যেই সংকট অনেক বড় হয়ে উঠতে পারে তা হচ্ছে গ্যাস সংকট। কুপ থেকে উত্তোলন কমে আসছে আবার নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কারও হচ্ছে না। কোটি টাকার বিদ্যুতের প্ল্যান্ট অলস পড়ে আছে উৎপাদন করার জ্বালানি নেই। এলএনজি অত্যন্ত দামী একটি বিকল্প কিন্তু এখন সেদিকেই যেতে হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও শিল্প পতিদের দাবী যেন গ্যাসের সরবরাহ ঠিক থাকে। একটি কাপড় তৈরি করতে সুতা, কর্মী, ভবন, মেশিন, রং, বিদ্যুৎ সহ অনেক ইউনিট লাগে। যদি একটির দাম বাড়ে ব্যবসায়ীরা দাম সামান্য বাড়িয়ে দিয়েও ম্যানেজ করে নিতে পারে। সব মিলিয়ে একমাত্র সমাধান জ্বালানি নিরাপত্তা। সকল উন্নয়নের সুপ্ত কারিগর হচ্ছে জ্বালানি। বিশ্বাস করেন, চেতনা, শিক্ষা, রাজনীতি, কূটনীতি, সততা কোন কিছু দিয়ে কিচ্ছু হবে না যদি জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। একটি সুবিশাল সেনাবাহিনীকে মাত্র দুই দিন খাবার না দিলে সে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল বাহিনীতে পরিণত হবে। শিল্পের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমন। এই ব্যাপারটি মাথায় রেখে পলিসি সাজানো উচিৎ। - মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...