আপনার বাসায় যদি আদরের বিড়াল থাকে তাহলে নিশ্চয়ই দেখেছেন... কালো শার্ট পরলেই সাদা লোম, সোফায় বসলেই লোম এমনকি বিছানার চাদরেও লোম! অনেক সময় মনে হয়, বিড়ালের শরীরে যত লোম আছে তার চেয়ে বেশি লোম যেন ঘরেই পড়ে আছে। আসলে এটা একদম স্বাভাবিক আর এর পেছনে পরিষ্কার বৈজ্ঞানিক কারণ আছে।
প্রথম কারণ হলো স্থিরবিদ্যুৎ বা স্ট্যাটিক ইলেকট্রিসিটি। সহজভাবে বললে, যখন দুইটা জিনিস একে অপরের সাথে ঘষা লাগে তখন হালকা বৈদ্যুতিক চার্জ তৈরি হয়। যেমন শীতকালে উলের সোয়েটার খুললে ছোট্ট শক লাগে বা চুল খাড়া হয়ে যায়, এটাই স্থিরবিদ্যুৎ। বিড়াল যখন শুকনো সোফা, কার্পেট বা কাপড়ে শরীর ঘষে তখন তার লোমে এই চার্জ তৈরি হয়। ফলে আলগা লোম আশেপাশের কাপড় বা আসবাবে আটকে যায়। বিশেষ করে নাইলন, পলিয়েস্টার বা সিনথেটিক কাপড়ে এই সমস্যা বেশি হয়। Journal of Applied Physics-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখানো হয়েছে, ঘর্ষণের ফলে তৈরি চার্জ হালকা তন্তু বা লোমকে অন্য জিনিসের সাথে আটকে দিতে পারে। দ্বিতীয় কারণ হলো বিড়ালের লোমে থাকা প্রাকৃতিক তেল। বিড়ালের ত্বক থেকে সিবাম নামে এক ধরনের তেল বের হয় যা লোমকে নরম ও স্বাস্থ্যকর রাখে। কিন্তু এই তেলের কারণে লোম সামান্য আঠালোও হয়। তাই যখন লোম ঝরে পড়ে তখন তা মাটিতে গড়িয়ে না গিয়ে কাপড় বা সোফায় আটকে থাকে। ধরুন, আপনার হাতে একটু তেল লাগানো আছে তাহলে ধুলা সহজে হাতে লেগে যাবে। একইভাবে লোমেও তেল থাকার কারণে তা সহজে আটকে যায়। ত্বকের তেল ও লোমের আচরণ নিয়ে Journal of Cosmetic Dermatology-তে গবেষণায় এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তৃতীয় কারণ হলো বিড়ালের লোমের গঠন। সাধারণত বিড়ালের শরীরে তিন ধরনের লোম থাকে... গার্ড হেয়ার (উপরের শক্ত লোম), আওন হেয়ার (মাঝের স্তর) এবং আন্ডারকোট (নিচের নরম ঘন লোম)। আন্ডারকোটই সবচেয়ে বেশি ঝরে, বিশেষ করে মৌসুম বদলের সময়। যেমন গরম আসার আগে শীতের মোটা লোম ঝরে যায়। তখন ঘরে লোমের পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে যায়। ভেটেরিনারি গবেষণায় দেখা গেছে, আলো ও তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে লোম ঝরার সরাসরি সম্পর্ক আছে। চতুর্থ বিষয় হলো গ্রুমিং বা নিজেকে পরিষ্কার করা। বিড়াল খুব পরিষ্কারপ্রিয় প্রাণী। তারা প্রতিদিন জিহ্বা দিয়ে শরীর চেটে আলগা লোম সরায়। কিন্তু সব লোম তারা গিলে ফেলতে পারে না। অনেক লোম মুখ থেকে পড়ে যায় বা শরীর থেকে ঝরে পড়ে ঘরে ছড়িয়ে যায়। Animal Behaviour জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, গ্রুমিং হলো বিড়ালের স্বাভাবিক আচরণ আর এর সময়ই অনেক আলগা লোম আলাদা হয়ে যায়। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। স্বাভাবিকভাবে লোম ঝরা ঠিক আছে। কিন্তু যদি হঠাৎ খুব বেশি লোম ঝরে, ত্বকে লালচে দাগ, খুশকি, ফাঁকা জায়গা বা বেশি চুলকানি দেখা যায় তাহলে সেটা অসুস্থতার লক্ষণ হতে পারে। এমন হলে দেরি না করে ভেটেরিনারির পরামর্শ নেওয়া উচিত। সব মিলিয়ে, আপনার জামাকাপড়ে বা সোফায় লেগে থাকা বিড়ালের লোম কোনো অস্বাভাবিক ব্যাপার নয়। স্থিরবিদ্যুৎ, প্রাকৃতিক তেল, তিন স্তরের লোম এবং নিয়মিত গ্রুমিং... এই চারটি কারণ মিলেই লোমকে ঘরের সব জায়গায় পৌঁছে দেয়। তাই নিয়মিত ব্রাশ করা, ঘর পরিষ্কার রাখা এবং বিড়ালের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রাখলেই বিষয়টি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর সত্যি বলতে কী... এই ছোট ছোট লোমই তো প্রমাণ করে, আপনার ঘরে এক আদুরে সঙ্গী আছে।
প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...
Comments
Post a Comment