আমেরিকা চাইছে যুদ্ধ বন্ধ করে ফেরত আসতে।
কারণ আকাশ থেকে বোম্বিং করার বেশী কিছু বাকি নাই। ১৭,০০০ টার্গেটে হামলা করা হয়েছে। নৌবাহিনীর জাহাজ, কল কারখানা, গবেষণাগার, বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পুলিশ ভবন পর্যন্ত বোম্বিং করা হয়েছে। বড় বড় লিডার শেষ। এখন আর কি করবে? এখন বাড়ি যাবার পালা। তো চলে যাক। কিন্তু? জি, কিন্তু হচ্ছে হরমুজ। জাপান , কোরিয়া সহ সকলে বলছে আমাদের এ কোন বিপদে ফেলে উল্টা রওনা দিলা। কাতার বলছে কিছুদিন আগে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বৈধ ঘুষ দিলাম। সৌদি বলছে এত বছর পেট্রো ডলার দিলাম। এখন তুমি হরমুজ খুলে যাও। আমেরিকা এতদিন বলেছে আমি আরও বোম্বিং করে খুলে যাচ্ছি। কিন্তু লাভ হয় নাই। এজন্য আমেরিকা বলছে তোমরা লড়াই কর। বাকি সবার কথা আমরা শুরু করি নাই। আপনি আসলেন আপনি সমাধান করে যান। লাগলে কিছু টাকা দেই, তাও সমাধান করে যান। আপনি না গুরু? আমরা ছোট মানুষ কি লড়াই করবো? এখন আমেরিকা বলছে আমি মুল কাজ করে দিচ্ছি। আমি হরমুজ দিয়ে তেল নেই না। তোমাদের সমস্যা তোমরা সমাধান কর। ইরান বলছে এই অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার কর। এতদিন পর্যন্ত আরবরা নীরব ছিল। কিন্তু দিন দিন তারা আমেরিকার দিকে ঘেঁষে যাচ্ছে। যুদ্ধ আসলে মানুষের ভিতরের রূপ বের করে আনে। এই যেমন চীন রাশিয়া অনেক বুঝাচ্ছে আমেরিকা এই কাম করেছে তাকেই সমাধান করতে হবে। কিন্তু এত কথা বোঝার সময় কোথায়? যেখানে আরব দেশ গুলোর ট্রিলিয়ন ডলার আমেরিকা চাইলে এক নিমিষে ফ্রিজ করে দিতে পারে সেখানে বেশী বুঝলে সমস্যা। আর ইরানের প্রতি অবিশ্বাস ও শত্রুতা একটি ফ্যাক্ট। বাহীর দিয়ে যতই ভালো রূপ ধারণ করুক। তার ধ্বংস তো এনজয় করছে অনেকে। সব মিলিয়ে তেল গ্যাসের দাম কমার কোন লক্ষণ নেই। সরকার যতদিন ভর্তুকি দিতে পারে ততদিন আমরা কমে পাবো। কিন্তু বাস্তবে এলএনজি এখন তিন গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে বিশ্ব বাজারে। জি, তিন গুণ। সারা বিশ্ব কাড়াকাড়ি করছে এলএনজি কিনতে। বলা যায় কুরবানির গরু আছে তিনটি বাজারে ক্রেতা দশ জন। কে নিতে পারে তার জন্য গ্রাহক নিজেদের থেকেই দাম বাড়াচ্ছে। বিক্রেতা বিন্দাস। দুনিয়ার সবচেয়ে বড় বিক্রেতা আমেরিকা নিজেও বেশ সুখে আছে। প্রচণ্ড বিপদে ইউরোপ। অতি প্রচণ্ড। না পারে ডিভোর্স দেওয়া স্বামী রাশিয়ার কাছে ফিরে যেতে না পারে নতুন প্রেমিক কাতারের থেকে মাল নিতে। তাই মুখ কালো করে বস আমেরিকার কাছেই যাচ্ছে সমাধান খুঁজতে। বস বলেছে তোমার লড়াই তুমি কর। কিন্তু কেউ মানছে না। তাই এবারে বস দেখলো আর কোন সামরিক স্থাপনা নেই হুমকি দেবার মত। তাই বলছে তোমাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করবো আর তেল স্থাপনার দ্বীপ দখল নিব। ইরান তাতেও মানবে না পরাজয়। মানার মত অবস্থা নেই আসলে। তার জন্য বাঁচা মরার লড়াই। সে যেই কোন মূল্যে লড়ে যেতে প্রস্তুত। এই যুদ্ধ আর কিছু না হলেও এই একটি জিনিস আমাদের নিশ্চিত শেখাতে পেরেছে যে স্বাধীনতা রক্তের চেয়েও মূল্যবান। যদি ইরান জিতেও যায় আমার মতে এটা অসম্ভব যে দাসেরা স্বাধীন হবে। বরং তারা নতুন প্রভু খুঁজে নিবে এবং পূর্বের স্বভাব বজায় রাখবেইরানের সমস্ত বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধ্বংস করে ফেলা হবে যদি হরমুজ না খোলে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি এই হুমকি দিয়েছে।
একটা বার কল্পনা করেছেন স্বাধীনতা কত মূল্যবান?
অছচ আপনি কি আশা করেন আরাম করতে করতে স্বাধীনতা পাবেন?
একটি মাত্র বশ্যতার চুক্তিকে স্বাক্ষর না করার জন্য কি পরিণতি।
সুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বললে বলে - সমাধান দাও। কিন্তু কোন কষ্ট করা যাবে না। ঝুঁকি বাড়বে না।
বিনিয়োগ করতে বললে অনেকে বলে - পুঁজি নিরাপদ থাকতে হবে , লাভ কম আসলেও চলবে।
অছচ এর নামই সুদ।
ঘুরে ফিরে আমরা সবাই হালাল সুদ চাই। সেজন্য ইসলামি ব্যাংক বানাই।
আর মার্কিনীদের সাথে বশ্যতার চুক্তি করে উল্লাসে লাফাই। অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ দিয়ে ফটো কার্ড বানাই।
ইরান কি বলেছে সারা দেশ অন্ধকার করে দিলে সারেন্ডার করবে?
না, বরং লড়াই চালিয়ে যাবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
জি, যে জাতি রক্তে শরীর ভেজায় সে ইতিহাস বদলায়।
গত এক শতাব্দী রক্তে শরীর ভিজিয়েছে ইজরাইল । তাই সে ইতিহাস বদলেছে। আমেরিকাও অনেক রক্ত দিয়েছে। তাই সেও ইতিহাস গড়েছে।
এখন হাতি ঘোড়ার সাথে সাহসী এক রাখালের যুদ্ধ চলছে। জগতের সব হিসাব বলে এটা অসম লড়াই। কিন্তু রাখালের ত্যাগ ও সাহস তাকে এত দূর নিয়ে এসেছে।
এমন জায়গা থেকে আমাদের নিজেদের জন্য শিক্ষা নেবার অনেক কিছু আছে কী?
মোহাইমিন পাটোয়ারী
Comments
Post a Comment