মাটির অনেক গভীরে মিসাইল রাখার সুন্দর ব্যবস্থাপনা যা শত্রুর আক্রমকে ফাঁকি দিতে তৈরি করেছিল ইরান। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তির কাছে সে ধরা খাচ্ছে।
প্রতিটি ভূ গর্ভস্থ মিসাইল শহরের দরজা আছে। আমেরিকা এখন সেগুলো টার্গেট করে বোম্বিং করছে যেন শহর কবরে পরিণত হয়। এর পাশাপাশি বাতাস চলাচলের স্থান গুলো বোম্বিং করে পুতে ফেলছে। ভাবছেন একাধিক মুখ থাকতে পারে এইতো? সত্যিকার অর্থে একাধিক মুখ আছে। সেগুলোর প্রতিটি ধরে ধরে লক করে ফেলছে। এভাবে মিসাইল মাটির নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। এই সাফল্যের পিছে আছে প্রযুক্তি। স্যাটেলাইট দিয়ে আমেরিকা আপনার হাতের তালু পর্যন্ত দেখতে পারে। সেই ভিডিও এতদিন বিশ্লেষণ করে ai সাহায্যে ট্রাকের সাইজ, চাকার দাগ থেকে শুরু করে নড়াচড়া ট্র্যাক করে গুহা মুখ গুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এর পাশাপশি ইনফ্রা রেড প্রযুক্তি দিয়ে কোন স্থানে গরম বাতাস বের হচ্ছে তা দেখে বাতাস পরিবহনের রাস্তাও বের করে ফেলেছে। এবারে সেগুলো টার্গেট করে দুর্গকে পরিণত করছে কবরে। সব মিলিয়ে মিসাইল তার জায়গায় থাকবে কিন্তু কোন ব্যবহার তো দূরে থাক এগুলো যারা চালাতে পারেন তারা পর্যন্ত চলে যাবে পৃথিবী থেকে। ধারণা করা হচ্ছে বেশিরভাগ মিসাইল সিটি আক্রমণ করা শেষ। এখন আর কোন মুখ আছে কিনা বাকি তা আবিষ্কার করে সেগুলো নিয়মিত চেক করে মারা হচ্ছে। এটাই প্রযুক্তির খেলা। আপনি যতই সাহসী হন না কেন হেরে যেতে পারেন। যদি প্রযুক্তির দৌড়ে আপনি পিছিয়ে পড়েন। মোহাইমিন পাটোয়ারীযুদ্ধ বিশ্লেষণ
১
এই মুহূর্তে যুদ্ধ এমন পর্যায়ে আছে যে দুই পক্ষ একে অপরের উপর কেবল আক্রমণ করছে।
অর্থাৎ, এখানে ডিফেন্স বা গ্রাউন্ড ফোর্স একটিভ না।
দুই পক্ষের ডিফেন্স স্টক সীমিত।
সমস্ত খেলা এয়ারো স্পেস ফায়ার পাওয়ারের।
২
ইরান একটু একটু করে ধ্বংস হচ্ছে। প্রতিপক্ষ ধ্বংস হচ্ছে কিন্তু প্রতিপক্ষ কেবল বিশ্বের সর্ববৃহৎ বললে কম হবে। বিপুল বিপুল ব্যবধানে বৃহৎ এবং জোট বদ্ধ।
৩
এই বিচারে ইরানের আত্ম মর্যাদা আত্ম ঘাতি। কিন্তু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কিন্তু কেন? বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে একটি মুভির আলোচনা করি।
লর্ড অফ দা রিংস মুভিতে একটি সিন আছে যেখানে দশ হাজার সুসজ্জিত বাহিনীর বিপরীতে সামান্য কিছু ব্যাক্তি দুর্গে ঢুকে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে।
সবাই জানে মৃত্যু নিশ্চিত কিন্তু রাজা খুব উৎসাহে তাগিত দিতে থাকে। সেনাপতি হতাশ হয়ে বলে আপনি কি জানেন না যে এইটা অসম লড়াই? এভাবে কি কেউ যুদ্ধ করে?
রাজা উত্তরে বলে। আমরা তো এমনিতেই শেষ। শেষ হতেই যদি হয় শত্রুকে এমন কষ্ট দিয়ে শেষ হব যেন মনে রাখার মত স্মৃতি হিসেবে তা প্রতিষ্ঠিত থেকে যায়।
রাজা নিজে প্রস্তুত হয়। সবাই জানে আজকে শেষ দিন। রাজা বলে এই পর্যন্ত আমার উপর আস্থা রাখার জন্য ধন্যবাদ।
তিন দিন যুদ্ধ করে সব শেষ হয়ে যায়। মাত্র কিছু ব্যাক্তি বাকি থাকে। তারা পালিয়ে বাঁচতে না চেয়ে বরং সমস্ত অস্ত্র সজ্জিত হয়ে বলে for death and Glory, for our people আক্রমণ।
এটা হচ্ছে জীবন। এমন জীবন ইতিহাস হয়ে থাকে। জি, ইরান সেই জীবন বাছাই করে নিয়েছে যা কাপুরুষদের কাছে সব সময় ভুল মনে হয়।
মোহাইমিন পাটোয়ারী
Comments
Post a Comment