Skip to main content

ব্যবসা নাকি ঘুরিয়ে সুদ?


 ধরুন, আমি সুদ পছন্দ করি না।

আবার আমি কোন ব্যবসাও করি না। এমতাবস্থায় আমার intention টাকা দিয়ে বাড়তি টাকা খাওয়া। সেক্ষেত্রে কি করব? ধরুন আপনি আমার কাছে এসে বললেন এক লক্ষ টাকা দিয়ে একটি huawei ল্যাপটপ কিনতে চাই। ঋণ লাগবে। আমি তখন বলব খুব ভালো কথা। টাকা ফেরত দিতে পাঁচ বছর লাগবে? তাহলে এক কাজ করো। দুই লক্ষ টাকা দামে ল্যাপটপ আমি আপনার কাছে বিক্রি করে দেই। পাঁচ বছরে তো এমনিতেই এমন সুদ আসে। আপনি চিন্তা করে দেখলেন কথা ঠিক। সেই অনুযায়ী আমার লোক আপনার সাথে গেল। দোকানে টাকা জমা দেবার সময় আমার লোক পকেট থেকে ১ লাখ টাকা বের করে দিল। তারপর আপনার কাছে ২ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে বলল , "আমরা ব্যবসা করেছি। সুদের কোন করবার নেই। এই পণ্যের লাভ ক্ষতি কোন কিছুর অংশ আমি নিব না। যেহেতু মাল বিক্রি করে ফেলেছি। আপনি দুই লাখ টাকা দিয়েন।" এটাই হচ্ছে সেই পদ্ধতি যার অনুসরণ করে প্রায় সবাই ইসলামী ফাইন্যান্স করে যাচ্ছে। আপনাদের বিবেকের নিকট প্রশ্ন। এইটা কি ব্যবসা নাকি ঘুরিয়ে সুদ?

=================================
আমি একটা প্রশ্ন করেছিলাম, বলা যায় কেউই সঠিক উত্তর দিতে পারে নাই। প্রশ্নটি ছিল কেন একটি রাষ্ট্র উন্নত হয় এবং একই সময় আরেকটি রাষ্ট্র হয় না। জাপান এক সময় ছিল সস্তা পণ্যের দেশ। ছোট থাকতে প্রবাদ ছিল, যার নাম চায়না বেশি দিন যায়না। এখন তারা আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশন বানাচ্ছে। সেই তুলনায় আমরা কি করেছি? এই প্রশ্নের উত্তরে একজন তো মন্তব্য করেই বসলো কৃষি। অথচ চীন বিশ্বের সবচাইতে বড় কৃষি আমদানি কারক রাষ্ট্র। কৃষি যদি উন্নয়নের চাকা হতো বান্দরবন হতো মডেল। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার মত দেশে জিডিপির মাত্র দুই শতাংশ আসে কৃষি থেকে। মিসাইল কি ধান চাল দিয়ে বানায় মানুষ? আরো উত্তর আসলো দুর্নীতি। কিন্তু চীন প্রায় বাংলাদেশে কাছাকাছি দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। ব্রাজিল প্রচণ্ড দুর্নীতিগ্রস্ত। কিন্তু তাদের দেশে বিশ্ব সেরা গাড়ি কারখানা থেকে শুরু করে বিমান নির্মাণ কারখানা পর্যন্ত আছে। আর বাংলাদেশে? ভারতেও দুর্নীতি আছে। তারা এখন হাইপারসনিক মিসাইল বানিয়েছে যা সারা বিশ্বে মাত্র পাঁচ জন বানিয়েছে। জি, মাত্র পাঁচ। তাছাড়া তাদের নিজস্ব ডিজেল ও পেট্রোল ইঞ্জিন আছে। সব রকমের যানবাহন তৈরি করতে পারে। আরও অনেক কিছু। এগুলো কি দুর্নীতির মধ্য দিয়ে আসে নাই? আপনারাই তো বড় হবেন। কেউ যদি নাই জানে ভবিষ্যতেও তো অতীতের মত তাইরে নাইরে করে দেশ চালাবে। এবার দেশে যেই দল আসুক - ইসলামি বা অনৈসলামি কিংবা এমারত।

টাকা মূল সমস্যা না প্রযুক্তিতে। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের তুলনায় চীনের মাথাপিছু আয় আরও কম ছিলো। বর্তমান সেই তুলনায় আমাদের আয় অনেক বেশী। কিন্তু তখনই চীন সাবমেরিন বানাতে পারতো। গাড়ির ইঞ্জিন বানাতে পারতো। ছিল নিজস্ব যানবাহন ও জাহাজ। নিজস্ব স্যাটেলাইট - তৈরি ও উৎক্ষেপণ প্যাড, আণবিক ও হাইড্রোজেন বোমা, কেমিক্যাল ও মাইনিং শিল্প ইত্যাদি। সেই তুলনায় এখনও আমরা যোজন যোজন দূরে। প্রযুক্তির জন্য মূল টাকা না। টাকা নাই দেখে আমরা পারি নাই এইটা বাজে যুক্তি। টাকা তো কাতারেরও আছে তাদের প্রযুক্তি কোথায়? সবকিছু কেনা। তাদের টাকা বলেন কি আমাদের টাকা সব চীন, জাপান ও আমেরিকাতে যাচ্ছে? তার কারণ তারা এমন কিছু তৈরি পারে যা আমরা পারি না। তো মূল পার্থক্যটা কোথায়? দেখেন, বাজার থেকে ফল কিনতে বেশী কোন বিদ্যা লাগে না। আপনি টাকা দিলেই ফল বাজারে চলে আসবে। কিন্তু যদি আপনি একটি বাগান করতে চান? গাছের চারার দাম কিন্তু বেশী না। তবে এই গাছ লাগানো, বড় করা, জমি কেনা, পরিচর্যা করা থেকে শুরু করে বছরের পর বছর লেগে থাকা আরেক ধরণের বিদ্যা। আমরা সেই রাস্তায় না গিয়ে বরং রেডিমেড সব পেতে চেয়েছি। ৫০ বছর আগে আমরা এবং তেল সমৃদ্ধ দেশ গুলো সেই ভুল রাস্তা বাছাই করার কারণে পিছিয়ে গেছি। আর তাইওয়ান, চীন, কোরিয়া, মালয়সিয়া সঠিক রাস্তা বাছাই করেছে। এটাই আজকে এত বড় পার্থক্য করে দিয়েছে এই দুই অঞ্চলের মাঝে।

m.patwary

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...