Skip to main content

ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলার চেষ্টা

 


মধ্যপ্রাচ্যের ক্যান্সারের শত্রুরাষ্ট্র কোনটা বাকি ছিল না। সব কাবু - কেবল ইরান ছাড়া।

তাকেও বধ করতে হবে। পরিকল্পনা অনেক দিনের। প্রথমে উত্তরে হজব ল্লাহকে দুর্বল ও নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এর জন্য যথেষ্ট রক্ত ও অর্থ দিতে হয়েছে। কিন্তু প্রাপ্তি আরও বিশাল। দক্ষিণে নিষ্ক্রিয় করে ফেলেছে হা মাছকে। বাকি ছিল পূর্বে সিরিয়া। সেখানে অত্যাচারী আসাদকে উৎখাত করে নিজেদের মন মত সমস্ত সামরিক স্থাপনা শেষ করে পঙ্গু বানিয়ে রেখেছে দেশটিকে। আর গোলান মালভূমি দখল নিয়ে নিয়েছে। সব দিক থেকে নিরাপদ। এবার বাকি মূল টার্গেট। কিন্তু এত বড় দেশ কি দখল করা যায়? উপায়? মাথা পরিবর্তন। সেজন্য হুট করে মিডিয়াতে ইরান শব্ধ বলতেই রেজিম উচ্চারণ করা হতো। এমন ভাবসাব যেন সেই দেশের মানুষ রেজিমের কারণে খুব কষ্টে আছে। সেইটা পরিবর্তন করার মহান কর্ম সাধন করলে বিশাল ভালো কাজ হবে। ইরানের শাহ ছিল ইতিহাসে হারিয়ে যাওয়া একটি নাম। কিন্তু হটাত করে তার ছেলে মিডিয়াতে আসা শুরু করে। কিন্তু কেন? তার কারণ এর আগেই যত যত মাথা টার্গেট করা দরকার সবার লোকেশন ও তাদের ঘায়েল করার উপায় ও প্রস্তুতি শেষ। বহু বছর ধরে, উপহার, ধর্মান্তর, সাইবার ফোর্স ও গুপ্তচর বৃত্তির মাধ্যমে যেই মুকুট অর্জন হয়েছে আজ তা পরার সময়। তো মুকুট কাকে পরানো হবে সেই ব্যক্তিকে রাজ পোশাকে সজ্জিত করার নামি হচ্ছে মিডিয়াতে আগমন। দিন ক্ষণ প্রস্তুত এক যোগে সকল মাথা বধ। মিলিটারি কমান্ড পুরো ভেঙ্গে গেছে। এবার অতর্কিত হামলা শুরু। আকাশ জুড়ে বিমান ও ড্রোন যা উড়ে আসছে সিরিয়া ও ইরাকের আকাশ দিয়ে। এই দুইটি দেশকে নিরস্ত্র করার কাজ বিশ বছর ধরে চলেছে কিন্তু বিপদের দিনে সেই কঠিন কাজ সুফল বয়ে এনেছে শতভাগ। এই সেই দিন যার অপেক্ষায় ছিল বিশ্ব। আজ বিষ ফোঁড়া তোলা হবে। কিন্তু সমীকরণ কেমন যেন বদলে যেতে থাকে। ভয় না পেয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইরান। একের পর এক এন্টি মিসাইল প্রতিরক্ষা দিয়েও কাজ হলো না। তিন লেয়ারের প্রতিরক্ষা ছিল দূর পাল্লার , মধ্য পাল্লার ও স্বল্প পাল্লার। সব গুলো ভেদ করে ৫-১০ টি ল্যান্ড করলো। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল আমেরিকা ও ব্রিটেন। আজ জীবন মরণ খেলার পালা। কিন্তু যত দিন যেতে থাকলো এত দ্রুত এন্টি মিসাইল শেষ হতে থাকলো যে এক পর্যায়ে জনগণকে অরক্ষিত রেখে কেবল সামরিক স্থাপনা রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা শক্তি ব্যবহৃত হতে থাকলো কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না একেবারে তাদের গোয়েন্দা দফতর ও সামরিক হাসপাতালে সফল ভাবে হামলা পরিচালিত হলো। সেই সময়টা ছিল ইতিহাসের সন্ধিক্ষণ। সমগ্র পশ্চিমা বিশ্ব এক হয়েছিল এক উদ্দেশ্যে। আর ইরান একা বীরের মত লড়ে গেছে। তার পাশে কেউ ছিল না। সেবার যদি ইরান পড়ে যেতো আজ সবকিছু অন্যরকম দেখতেন। এখন সেই কাপুরুষ শক্তি ঝাল মেটাচ্ছে ক্ষুধার কষ্ট দিয়ে এবং শেখদের রত্ন কাতারের উপর হামলা করে। আমেরিকা তার খরচ পোষাচ্ছে ট্রিলিয়ন ডালরের বিনিয়োগ করিয়ে, আর শয়তান তার আব্রাহাম চুক্তি বড় করে মনে জ্বালা মেটাচ্ছে। কিন্তু মিশন কি শেষ? মোটেও না। সামনে সম্ভবত দুই দিক থেকে আক্রমণ চলবে। সেজন্য হয়তো চাইছে বাগরাম বিমানঘাঁটি। আর একই সাথে চাহাবার বন্দরের উপর দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা। আবার একই সাথে পাকিস্তানের সাথে সৌদির সামরিক চুক্তি হয়েছে। খুব সম্ভবত এর মাধ্যমে ইরানকে কোণঠাসা করে ফেলার চেষ্টা করা হবে আর একই সাথে আফগানিস্তানকে নিষ্ক্রিয় করার প্রচেষ্টা থাকবে। দেখা যাক সামনে আরও কি কি হয়। তখন সম্পূর্ণ চিত্র পরিষ্কার ভেসে উঠবে।
মোহাইমিন পাটোয়ারী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...