Skip to main content

"সালাম" জান্নাতের ভাষা


 ১. জান্নাতের ভাষা ও পরিবেশ:

কুরআন আমাদের জানায়, জান্নাত হবে একটি নিখুঁত শান্তিময় স্থান, যেখানে কোনো অনর্থক বা পাপপূর্ণ কথা থাকবে না। সেখানকার অধিবাসীদের এবং ফেরেশতাদের কথোপকথন ও অভিবাদন হবে "সালাম" বা শান্তি। সাধারণ কথোপকথন: জান্নাতবাসীরা কোনো অসার বাক্য শুনবে না, শুনবে কেবল এক বাক্য— "সালামান সালামা" (শান্তি, আর শান্তি)। (সূরা ওয়াক্বি'আহ, ৫৬:২৫-২৬) পারস্পরিক অভিবাদন: সেখানে তাদের অভিবাদন হবে "সালাম"। (সূরা ইউনুস, ১০:১০) ফেরেশতাদের অভ্যর্থনা: জান্নাতের দরজায় রক্ষী ফেরেশতারা বলবেন, "সালামুন ‘আলাইকুম তিবতুম" (আপনাদের প্রতি শান্তি, আপনারা পবিত্র জীবন যাপন করেছেন)। (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৭৩) ২. দুনিয়াতেও আল্লাহর নির্দেশ: আল্লাহ তা'আলা কেবল পরকালেই নয়, এই পৃথিবীতেও তাঁর আয়াতে বিশ্বাসী মুমিনদেরকে পরস্পরের সাথে দেখা হলে "সালামুন ‘আলাইকুম" (তোমাদের উপর শান্তি) বলে অভিবাদন জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সূরা আল-আন‘আম, ৬:৫৪) ৩. দুনিয়া ও আখিরাতের সংযোগ স্থাপন: যেহেতু জান্নাত আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এবং সেখানকার ভাষা হলো 'সালাম', তাই দুনিয়াতেই সেই পরিবেশ ও ভাষার অনুশীলন করা উচিত। এর মাধ্যমে কয়েকটি উদ্দেশ্য সাধিত হয়: জান্নাতী অভ্যাস গঠন: দুনিয়াতে জান্নাতের আমল চর্চা করলে তা আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়, যা সেই চূড়ান্ত লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। অহীর সাথে জীবন্ত সংযোগ: প্রতিনিয়ত কুরআনের এই শব্দগুলো ব্যবহারের মাধ্যমে আল্লাহর নাযিলকৃত অহীর সাথে একটি জীবন্ত ও সক্রিয় সম্পর্ক বজায় থাকে। আত্ম-সচেতনতা ও স্মরণ: এই অভিবাদন আমাদেরকে অনর্থক কথা পরিহার করতে মনে করিয়ে দেয় এবং আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য—জান্নাতের—জন্য সর্বদা সচেষ্ট রাখে। আমার এই প্রচেষ্টা মূলত নিজেকে এবং আপনাদেরকে কুরআনের ভাষায় ও জান্নাতের পরিবেশে অভ্যস্ত করে তোলার একটি সচেতন প্রয়াস। এটি কেবল একটি সম্ভাষণ নয়, বরং এটি অহীর সাথে সংযোগ স্থাপন এবং আত্মশুদ্ধির একটি মাধ্যম। একটু ভাবুন তো, আমরা উন্নত জীবনের আশায় আমেরিকা, ইউরোপ বা কানাডায় যাওয়ার জন্য TOEFL, IELTS-এর মতো কঠিন ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। তাহলে যে জান্নাত অনন্তকালের সফলতার স্থান, সেই জান্নাতের ভাষার জন্য আমরা দুনিয়াতে প্রস্তুতি নেব না? জান্নাত কি এর চেয়েও কম দামী? দিনশেষে, এটি কোনো চাপাচাপি নয়। আল্লাহ যেমনটি বলেছেন, "সত্য তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে, সুতরাং যার ইচ্ছা বিশ্বাস করুক এবং যার ইচ্ছা প্রত্যাখ্যান করুক।" (দ্র: সূরা আল-কাহফ, ১৮:২৯)। ভালো লাগলে গ্রহণ করতে পারেন, নতুবা বিষয়টি আপনার বিবেচনার উপর ছেড়ে দিলাম Choice is yours! । কলমে : মতিউর রহমান খান।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...