মানুষ অনেক সময় বলে, ছেলেরা যদি বেশি বিড়াল ভালোবাসে, বেশি যত্ন করে তাহলে তারা নাকি দুর্বল হয়। কেউ মজা করে বলে, “বিড়াল পুষে কী পুরুষত্ব প্রমাণ হয়?” আবার কেউ হেসে ফেলে বলে, “ছেলেদের এতো আবেগ মানায় না।” এই কথাগুলো আমি অসংখ্যবার শুনেছি। কিন্তু আজ আমি আমার জীবনের এমন একটি গল্প শেয়ার করতে চাই যা হয়তো এসব ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করবে। আমার চ্যানেলের পুরনো দর্শকরা জানেন, আমি আগেই ছোট করে লুলুর কাহিনী বলেছিলাম। লুলু ছিল আমাদের পরিবারের প্রথম দিককার আদরের বিড়াল। তার মাধ্যমেই আমার ভেতরে প্রাণীদের জন্য আলাদা এক টান তৈরি হয়েছিল। কিন্তু লুলুর পাশাপাশি আরেকটি নাম আমার জীবনে জুড়ে যায় "সোনা"। আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে, আমার আম্মা তার ভাই লুলুর সাথে ঢাকা থেকে সোনাকে নিয়ে আসেন। তখন সে ছিল একেবারেই ছোট্ট, অসহায় আর নির্ভরহীন। প্রথম যেদিন তাকে দেখি, মনে হয়েছিল এই ছোট্ট প্রাণীর সাথে আমার জীবনের কোনো অদৃশ্য যোগসূত্র আছে। সাধারণ এক বিড়াল হয়েও সোনা ছিল ভিন্ন। তার চোখের ভরসা, তার নিরব দৃষ্টি যেন আমাকে বলে দিত, “আমি তোমার উপর নির্ভর করছি।” তখনও বুঝিনি, এই ছোট্ট প্রাণীই একদিন আমার জীবনের গতিপথ বদলে দেবে। আজ পর্যন্ত আমি যতবার ভেঙে পড়েছি, হাল ছেড়ে দিতে চেয়েছি, সোনার সেই নিরব চোখ দিয়ে আমাকে থামিয়েছে। কথা বলতে পারত না, কোনো দাবি করতে পারত না। শুধু তার চোখে এক ধরনের আস্থা ঝলকাত। মনে হতো, যেন বলছে “তুমি পারবে।” হয়তো বাইরে থেকে মানুষ বুঝত না কিন্তু সেই আস্থাই আমাকে টেনে রেখেছিল। সেই চোখই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সাহস। যখনই হাল ছেড়ে দিতে চাইতাম, মনে পড়ত সেই দৃষ্টি যেন আমাকে মনে করিয়ে দিত, “তুমি আমাকে একটা ওয়াদা দিয়েছিলে।” আজ থেকে পাঁচ বছর আগে, একদিন আমি সোনাকে একটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। একটা ওয়াদা। আমি কাউকে তখন বলিনি, আজও সম্পূর্ণভাবে বলিনি। তবে এটুকু বলতে পারি... সোনাকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতিই আমার জীবন বদলে দিয়েছে। আমি জানি না আমি সেই ওয়াদা পুরোপুরি রাখতে পেরেছি কি না। কিন্তু এটুকু জানি, সেই ওয়াদা পূরণ করার চেষ্টার কারণেই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রতিটি কষ্ট, প্রতিটি সংগ্রাম, প্রতিটি পরিশ্রম সব কিছুর পেছনে সোনাকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতিই কাজ করেছে। মানুষ ভাবে, শক্তি মানেই শুধু মাশলস, টাফনেস আর আবেগ লুকিয়ে রাখা। কিন্তু আমি শিখেছি, সত্যিকারের শক্তি হলো কাউকে যত্ন নেওয়া, তার জন্য পাশে দাঁড়ানো, তার চোখের বিশ্বাস রক্ষা করা। সোনার চোখের ভরসা, তার নীরব ভালোবাসা এখনো আমাকে পথ দেখায়। নরমতা দুর্বলতা নয় বরং নরমতা, যত্ন আর ভালোবাসাই আসল শক্তি। আমার এই উদ্যোগ "পোষা প্রাণী প্লাস" এমনিতেই জন্ম নেয়নি। এর শুরুটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। ব্যবসার মতো কোনো পরিকল্পনা থেকে নয়, কোনো বড় স্বপ্নের আঁকড়ে ধরা থেকে নয় বরং শুরু হয়েছিল সোনাকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতি থেকে। মানুষ বলে, “এসব দিয়ে কী হয়? ভবিষ্যৎ গড়া যায়?” কিন্তু আমি জানি, এই কাজের পেছনে শুধু পরিশ্রমই নেই, আছে একটা ছোট্ট প্রাণীর চোখের আস্থা আর একটা অসমাপ্ত ওয়াদা। সোনা আজও আমার জীবনের সাহস। তার চোখের ভরসা, তার নীরব ভালোবাসা এখনো আমাকে পথ দেখায়। হয়তো অনেকেই জানতে চাইবে “আসলে সেই ওয়াদা কী ছিল?” আমি এখনো সেটা পুরোপুরি বলছি না। কারণ কিছু প্রতিশ্রুতি শুধু হৃদয়ে বেঁচে থাকে, কথায় নয়। কিন্তু এটুকু বলতে পারি... সোনাকে দেওয়া সেই প্রতিশ্রুতিই আজ আমাকে এই জায়গায় দাঁড় করিয়েছে। প্রতিদিন যে লড়াই করি, প্রতিদিন যে কাজ করে যাই তার পেছনে রয়েছে সেই ওয়াদা, সেই চোখের আস্থা আর সেই অমলিন ভালোবাসা। ইনশাআল্লাহ্, কোনো একদিন সেই পুরো কাহিনী ও ওয়াদাটি শেয়ার করব।
.jpg)
Comments
Post a Comment