আমি আল্লাহর রহমত পেতে চাই! আপনিও?কিন্তু কীভাবে সেই রহমত পাওয়া যায়? এর উত্তর স্বয়ং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাই দিয়েছেন। আসুন, তাঁর কাছ থেকেই জেনে নেই। 📖 এর উত্তর লুকিয়ে আছে কুরআনের এই আয়াতে: "এবং এই কিতাব (কুরআন) আমি অবতীর্ণ করেছি, যা বরকতময়। সুতরাং তোমরা এর অনুসরণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, যেন তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত (রহমতপ্রাপ্ত) হও।" (সূরা আল-আন‘আম, আয়াত: ১৫৫) সুবহানাল্লাহি রব্বিল আলামিন! পথ কতই না সহজ! আল্লাহর রহমত পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো: ১. কুরআনের অনুসরণ করা। ২. তাকওয়া (আল্লাহসচেতনতা) অবলম্বন করা। এই কিতাবকে আঁকড়ে ধরলেই তিনি আমাদের তাঁর অনুগ্রহের চাদরে ঢেকে নেবেন। কী চমৎকার নির্দেশনা! তাঁর পাঠানো কিতাবই তাঁর রহমত লাভের পথ। আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামিন! আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর রহমতের যোগ্য করে তুলুন।
==================================
আমার/ আপনার পাপগুলো কি পুণ্য দিয়ে বদলে যেতে পারে?
হ্যাঁ তাই তো! আল্লাহ বলেন-
সূরা আল-ফুরকানে (আয়াত ২৫: ৬৮-৬৯) এই পাপগুলোর কথা বলার পরেই আল্লাহ আমাদের ক্ষমা লাভের একটি পথ দেখিয়েছেন। সেই পথের জন্য প্রয়োজন মাত্র তিনটি কাজ:
যে তওবা করে ও ঈমান আনে এবং আমলে সলেহ করে। সুতরাং তারাই, আল্লাহ যাদের মন্দ কাজগুলোকে ভাল কাজে পরিবর্তন করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাশীল, দয়ালু। সূরা আল-ফুরকান, আয়াত ২৫:৭০
-----------------------------------------------------------------------------------------
আল কোরআনের মানদণ্ডে, সৃষ্টির সেরা "হ্যান্ডসাম নায়ক" বা "বিউটিফুল সেলিব্রেটি কে বা কারা? "হিরোইজম" বা নায়কত্ব প্রকাশ পায় কি করলে?
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَٰئِكَ هُمْ خَيْرُ الْبَرِيَّةِ
“ইন্নাল্লাজিনা আমানু ওয়া ‘আমিলুস সালিহাতি উলায়িকা হুম খইরুল বারিয়্যাহ” -"নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে ও কর্মকে সংশোধন করেছে, তারাই সৃষ্টির সেরা।"
— (সূরা আল-বাইয়্যনিাহ, আয়াত: ৭)
এখানে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা "সেরা" বা "শ্রেষ্ঠ" হওয়ার জন্য দুটি শর্ত দিয়েছেন: ঈমান এবং কর্মকে সংশোধন।
শারীরিক চেহারা, গায়ের রঙ, বংশমর্যাদা বা ধন-সম্পদকে শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
সুতরাং, আল্লাহর দৃষ্টিতে সবচেয়ে সুন্দর ও আকর্ষণীয় ব্যক্তি (নর-নারী) তারাই, যারা আল কোরআন অনুযায়ী বিশ্বাসে অটল এবং নিজ নিজ কর্মকে সংশোধন করে।
----------------------------------------------------------------------------------------------
আল-কোরআনের নামগুলো নিচে একটি তালিকা আকারে দেওয়া হলো। প্রতিটি নামের পাশে সংশ্লিষ্ট সূরা ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করা হলো।
আল-কোরআনের নামসমূহ (আয়াতের রেফারেন্সসহ)
💚 আল-কোরআন (الْقُرْآن) - যা পঠিত হয় (সূরা আল-কিয়ামাহ, ৭৫:১৭-১৮)
💚 আল-কিতাব (الْكِتَاب) - গ্রন্থ (সূরা আল-বাকারা, ২:২)
💚 আল-ফুরকান (الْفُرْقَان) - সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী (সূরা আল-ফুরকান, ২৫:১)
💚 আয-যিকর (الذِّكْر) - উপদেশ (সূরা আল-হিজর, ১৫:৯)
💚 আন-নূর (النُّور) - জ্যোতি (সূরা আন-নিসা, ৪:১৭৪)
💚 আর-রূহ (الرُّوح) - আত্মা/প্রাণ (সূরা আশ-শূরা, ৪২:৫২)
💚 আশ-শিফা (الشِّفَاء) - আরোগ্য (সূরা ইউনুস, ১০:৫৭)
💚 আল-হুদা (الْهُدَى) - পথপ্রদর্শক (সূরা আল-বাকারা, ২:১৮৫)
💚 কালামুল্লাহ (كَلَامُ اللَّهِ) - আল্লাহর বাণী (সূরা আত-তাওবাহ, ৯:৬)
💚 আল-হাকীম (الْحَكِيم) - প্রজ্ঞাময় (সূরা ইয়া-সীন, ৩৬:২; সূরা লোকমান, ৩১:২)
💚 মুবীন (مُبِين) - সুস্পষ্ট (সূরা আল-হিজর, ১৫:১)
💚 আল-মাজীদ (الْمَجِيدُ) - মহিমান্বিত (সূরা ক্বাফ, ৫০:১)
💚 আল-কারীম (الْكَرِيمُ) - সম্মানিত (সূরা আল-ওয়াক্বিয়াহ, ৫৬:৭৭)
💚 মুবারাক (مُبَارَكٌ) - বরকতময় (সূরা আল-আন'আম, ৬:৯২)
💚 আল-আযীয (الْعَزِيزُ) - মহাপরাক্রমশালী (সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৪১)
💚 বুশরা (بُشْرَىٰ) - সুসংবাদ (সূরা আন-নামল, ২৭:২)
💚 বাশীর (بَشِير) - সুসংবাদদাতা (সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৪)
💚 নাযীর (نَذِير) - সতর্ককারী (সূরা ফুসসিলাত, ৪১:৪)

Comments
Post a Comment