Skip to main content

প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ

 


অর্থনীতি, রাজনীতি বা প্রযুক্তিগত উন্নতি একটি জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে কিন্তু তাদের প্রকৃত মহত্ত্ব নির্ধারণ হয় দুর্বল, অবলা প্রাণীদের প্রতি তাদের আচরণের মাধ্যমে। প্রাণীরা কথা বলতে পারে না, নিজেদের অধিকার দাবি করতে পারে না। তাই মানুষই একমাত্র সত্তা যাদের হাতে রয়েছে তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আর একটি জাতি কতটা দায়িত্বশীল তা সহজেই বোঝা যায় তারা প্রাণীদের প্রতি কেমন আচরণ করে।

প্রাণীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ কোনো নতুন ধারণা নয়। ইসলামে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা আছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “যে প্রাণীর প্রতি দয়া করে না, আল্লাহও তার প্রতি দয়া করবেন না।” (সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৪৭)। ইসলাম প্রাণীর প্রতি অমানবিক আচরণকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছে এবং দয়া ও সহমর্মিতাকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এভাবে ধর্মীয় শিক্ষা থেকে শুরু করে মহান দার্শনিকদের চিন্তা সবই প্রাণীদের প্রতি দয়া প্রদর্শনের গুরুত্বকে তুলে ধরে। আধুনিক সমাজেও এই নীতির প্রতিফলন দেখা যায়। উন্নত দেশগুলোতে প্রাণী কল্যাণের জন্য আলাদা আইন রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাজ্যের Animal Welfare Act 2006 প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক দেশে আশ্রয়কেন্দ্র, ভেটেরিনারি হাসপাতাল এবং প্রাণী উদ্ধার সংস্থা কার্যকরভাবে কাজ করছে। এসব উদ্যোগ শুধু প্রাণীদের সুরক্ষাই নিশ্চিত করে না বরং সেই সমাজের মানুষের মানবিকতা ও নৈতিক মান উন্নত হওয়ার প্রমাণ দেয়। কিন্তু আমাদের দেশে এখনও প্রাণীরা যথেষ্ট অবহেলার শিকার। পথের কুকুর বা বিড়ালকে অনেক সময় মারধর করা হয়, খাবার দেওয়া তো দূরের কথা। অথচ ছোট্ট একটি উদ্যোগ যেমন তাদের জন্য পানি রাখা, খাবার দেওয়া বা আহত প্রাণীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা... একটি বড় পরিবর্তন আনতে পারে। এর পাশাপাশি আইন প্রয়োগ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি। শিশুদের ছোটবেলা থেকেই যদি প্রাণীদের প্রতি দয়া শেখানো যায় তাহলে ভবিষ্যতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে। সবশেষে বলা যায়, গান্ধীর উক্তি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একটি জাতির প্রকৃত উন্নতি শুধু সড়ক, প্রযুক্তি বা অর্থনীতিতে নয় বরং নৈতিকতার সাথে যুক্ত। আর সেই নৈতিকতার অন্যতম প্রমাণ হলো প্রাণীদের প্রতি আমাদের আচরণ। তাই যদি আমরা সত্যিই উন্নত জাতি হতে চাই তবে আমাদের দায়িত্বশীল হতে হবে প্রাণীদের প্রতি কারণ অবলা প্রাণীদের প্রতি দয়া প্রদর্শনই মানবিকতার সর্বোচ্চ পরিচয়। রেফারেন্স: * Gandhi, M. K. (1948). The Moral Basis of Vegetarianism. Navajivan Publishing House. * সহীহ মুসলিম, হাদিস নং ২৪৪৭। * Animal Welfare Act 2006, UK Government. * Singer, P. (1975). Animal Liberation. HarperCollins.

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...