এক গ্লাস পানি পানে কিংবা ২৫০ মি.লি. ড্রিংস পানেও অহীর সংযোগ স্থাপন হতে পারে যেভাবে: 'আলহামদুলিল্লাহ' – অভ্যাসের ঊর্ধ্বে, আয়াতের আয়নায় এক গভীর সংযোগ: আমরা অনেকেই পানি পানের পর অভ্যাসগতভাবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলি। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি, এই ছোট্ট আমলটির শেকড় আল কুরআনিল হাকিমের কতটা গভীরে প্রোথিত? এটি কি কেবলই একটি শেখানো বুলি, নাকি এর পেছনে রয়েছে আল্লাহর পক্ষ থেকে সরাসরি এক বুদ্ধিবৃত্তিক ও আধ্যাত্মিক আহ্বান? আসুন, আমাদের এই সাধারণ অভ্যাসটিকে কুরআনের আয়াতের আয়নায় ফেলে দেখি। ১. সরাসরি প্রশ্ন: যে পানি তুমি পান করছো... আল্লাহ আমাদেরকে সরাসরি জিজ্ঞেস করছেন, আমাদের হাতে থাকা এক গ্লাস পানি নিয়ে ভাবতে বলছেন। "তোমরা যে পানি পান করো, সে সম্পর্কে কি ভেবে দেখেছো? তোমরাই কি তা মেঘ থেকে নামিয়ে আনো, নাকি আমি নামাই? আমি ইচ্ছা করলে তা লবণাক্ত (অপেয়) করে দিতে পারতাম। তবুও কি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে না?" (সূরা আল-ওয়াক্বি'আহ, আয়াত: ৬৮-৭০) ২. বুদ্ধিবৃত্তিক স্বীকৃতি: সত্য অস্বীকারকারীদের মুখেও আল্লাহর প্রশংসা: "আর যদি আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, ‘কে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করে এবং তার মাধ্যমে ভূমিকে তার মৃত্যুর পর পুনরুজ্জীবিত করে?’ তারা অবশ্যই বলবে, ‘আল্লাহ’। বলুন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। কিন্তু তাদের অধিকাংশই অনুধাবন করে না।" (সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত: ২৯:৬৩) এখানে লক্ষ্য করুন, যারা আল্লাহর সাথে শরীক করত, তারাও প্রকৃতির এই বিশাল কর্মকাণ্ডের কৃতিত্ব আল্লাহকেই দিত। তাদের এই স্বীকারোক্তির পরই আল্লাহ নির্দেশ দিচ্ছেন, "বলুন, আলহামদুলিল্লাহ"। কেন? কারণ সত্য এতটাই স্পষ্ট যে, প্রতিপক্ষও তা স্বীকার করতে বাধ্য। কিন্তু আয়াতের শেষ অংশটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ: "بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ" (কিন্তু তাদের অধিকাংশই অনুধাবন করে না/ আকল খাটায় না)। তারা মুখে স্বীকার করলেও এর প্রকৃত তাৎপর্য—অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহই ইবাদতের যোগ্য—তা অনুধাবন করত না। যখন আমরা পানি পান করি ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলি, তখন আমরা শুধু কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করি না, বরং আমরা ঘোষণা দেই যে—আমরা সেই "অধিকাংশদের" অন্তর্ভুক্ত নই। আমরা জেনে, বুঝে ও অনুধাবন করে স্বীকার করছি যে, এই পানির প্রতিটি ফোঁটার দাতা একমাত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা ও ইবাদত কেবল তাঁরই প্রাপ্য। সারসংক্ষেপ: অভ্যাস থেকে ইবাদতে উত্তরণ: সুতরাং, পরের বার যখন আমি/আপনি পানি পানের জন্য গ্লাসটি হাতে তুলে নিব, তখন এই আয়াতগুলো স্মরণ করি (রবের নেট-কানেকশনে)। সূরা ওয়াক্বি'আহ'র প্রশ্নগুলো আমাকে/আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর নেয়ামতের কথা ভাবাবে। এতে পানির অপচয় রোধে আপনা হতেই বাধাঁ দিবে ওয়াশরুমে কিংবা গোছলে। সূরা আনকাবূতের ঘোষণাটি আমাকে/আপনাকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করতে শেখাবে। তখন আমার/আপনার মুখ থেকে বের হওয়া ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দটি আর কোনো অভ্যাসগত উক্তি থাকবে না; এটি পরিণত হবে আল্লাহর সাথে এক সচেতন কথোপকথনে—একই সাথে কৃতজ্ঞতা, স্বীকৃতি এবং একনিষ্ঠ ইবাদতের প্রকাশে। আর এভাবেই একটি সাধারণ কাজ অহীর সংযোগে অসাধারণ হয়ে ওঠে।

Comments
Post a Comment