Skip to main content

সবসময় সন্দেহ

 


সবসময় সন্দেহ করে — এটা কি ভালোবাসা, নাকি কন্ট্রোল?

ভালোবাসা মানে বিশ্বাস, বোঝাপড়া, আরেকজনের প্রতি শ্রদ্ধা। কিন্তু যখন ভালোবাসার নামে প্রতিনিয়ত সন্দেহ করা হয়—"তুমি কোথায় ছিলে?", "কার সঙ্গে কথা বললে?", "আমাকে এতক্ষণ উত্তর দিলে না কেন?"—তখন সেটা আর ভালোবাসা থাকে না, সেটা হয়ে যায় নিয়ন্ত্রণের এক ধরণের খেলা। অনেকেই ভেবে বসে, "ও আমাকে সন্দেহ করে মানে ভালোবাসে।" কিন্তু আসলেই কি তাই? ভালোবাসা যদি হয় মুক্তি, তাহলে সন্দেহ হয় শৃঙ্খল। ভালোবাসা যদি হয় নিরাপত্তা, তাহলে সন্দেহ হয় ভয় আর অনিরাপত্তা থেকে জন্ম নেওয়া। সন্দেহ যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন তা ধীরে ধীরে সম্পর্কটাকে গিলে ফেলে। যাকে আপনি ভালোবাসেন, তাকেই যদি প্রতিনিয়ত প্রশ্নবিদ্ধ করেন, তাহলে সেই ভালোবাসার জায়গাটা আর নিরাপদ থাকে না। তাই নিজেকে প্রশ্ন করুন: আপনার "ভালোবাসা" কি কাউকে দমিয়ে রাখছে? নাকি আপনার "ভালোবাসা" কাউকে নিজের মত বাঁচতে সাহায্য করছে? সত্যিকারের ভালোবাসা কখনো কারো ওপর নিয়ন্ত্রণ চাপায় না। বরং, সেটা হয় ভরসার জায়গা, যেখানে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করতে পারে, এমনকি দূরত্ব থাকলেও। ভালোবাসা হোক সম্মানের, স্বাধীনতার আর সত্যিকারের বোঝাপড়ার নাম। সন্দেহ নয়, বিশ্বাস হোক সম্পর্কের ভিত্তি।
=================================================================
নাম: রিমন (ছদ্মনাম) বয়স: ১৭ বছর একাদশ শ্রেনির শিক্ষার্থী, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, দু’জন কর্মজীবী অভিভাবক 🔸 ক্লাসে শিক্ষক কিছু বললেই সে মুখ ফিরিয়ে নেয়, কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে বই ফেলে দেয়, আবার কখনো সহপাঠীদের বিরক্ত করে। মায়ের কথা শুনে সে প্রায়ই রেগে যায়, দরজা বন্ধ করে দেয়, এমনকি কখনো কখনো জিনিস ভাঙচুর করে। বাবা-মা ভেবেছিলেন, হয়তো এটা "শুধু বয়সের ব্যাপার", কিন্তু রিমনের এই আচরণ দিনে দিনে আরও খারাপ হতে লাগল। রাগের মাথায় জিনিস ছুড়ে ফেলা, দরজা বন্ধ করে কান্না করা এবং ছোট ভাইকে মারধর করা ছিল নিয়মিত ঘটনা। একদিন স্কুলে সে শিক্ষককে কথা বলার সময় মাঝখানে বাধা দেয় এবং পরে অভিযোগ করে— “স্যার শুধু আমাকেই বকেন। আমি কিছু করলেই দোষ!” বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার মনোভাবও গড়ে ওঠে। মা বলেন— “আমরা কিছু বললেই ও চিৎকার করে, বলে ‘তোমাদের কিছু শুনব না’, ইচ্ছে করেই উল্টো কাজ করে।” শিক্ষক বুঝলেন, বিষয়টি সাধারণ দুষ্টুমি নয় এবং রিমনের মাকে ডেকে পরামর্শ দিলেন একজন সাইকোলজিস্ট এর সঙ্গে কথা বলতে, কারণ ও অনেকদিন ধরেই এ ধরনের আচরণ করে আসছে। ✏ উপরোক্ত কেইস স্টাডি থেকে রাহুলের কিছু আচরণ খুবই স্পষ্ট: 🔥 ১. রাগ এবং বিরক্তি • প্রায়ই রেগে যায় বা সহজেই মেজাজ হারায় • প্রায়ই বিরক্ত বা হতাশ মনে হয় • প্রায়ই অন্যদের প্রতি রাগ প্রকাশ করে বা তাদের উপর চিৎকার করে ⚡ ২. বিরোধী এবং অমান্য আচরণ • প্রায়ই বড়দের কথা শোনে না বা নির্দেশ উপেক্ষা করে • ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যকে বিরক্ত করে বা চ্যালেঞ্জ করে • নিজের দোষের জন্য প্রায়ই অন্যকে দায়ী করে 🎯 ৩. হঠকারী ও প্রতিশোধপরায়ণ আচরণ • প্রায়ই হঠকারী বা ক্ষতিকর আচরণ করে • প্রায়ই প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করে বা প্রতিশোধ নিতে চায় 💡 উপরোক্ত সমস্যাগুলো যে ডিজঅর্ডারের কারণে হয়ে থাকে তা হলো Oppositional Defiant Disorder (ODD)। মূলত টিনএজ বা অ্যাডোলেসেন্ট পিরিয়ডে ছেলে-মেয়েরা এই সমস্যায় বেশি ভুগে থাকেন। আমরা প্রায়ই এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিই না বা ভাবি যে ছেলে/মেয়ে "বেয়াদব হয়ে গেছে" অথবা "বয়সের সঙ্গে সঙ্গে এই বিষয়গুলো ঠিক হয়ে যাবে"। কিন্তু বাস্তবে এগুলো ODD এর কারণে হয়ে থাকে। সময়মত সঠিক কাউন্সেলিং এর মাধ্যমে এই- ধরনের ডিজঅর্ডার থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।


Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...