অনেকে ভাবেন এগুলো নিছক দুষ্টামি কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণগুলো আসলে কুকুরের আবেগ, মানসিক অবস্থা ও প্রশিক্ষণের অভাবের প্রতিচ্ছবি। কুকুর যখন কাউকে খেতে দেখে তাকিয়ে থাকে বা খেতে চায়, সেটি প্রাকৃতিক আচরণের অংশ হলেও অতিরিক্ত হলে এটি ‘begging behavior’ বলে পরিচিত হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কুকুরেরা মানুষের চোখের অভিব্যক্তি পড়ে নিতে পারে এবং সেটার ওপর ভিত্তি করে প্রতিক্রিয়া দেয় (Hare & Tomasello, 2005)। এই অভ্যাস বন্ধ করতে হলে তাকে ‘sit’, ‘stay’ বা ‘go to place’ কমান্ড শেখানো জরুরি এবং খাওয়ার সময় তাকে নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখা ভালো।
অপরদিকে, ঘরের বিভিন্ন জিনিস যেমন জুতা, মোজা, কাঠের আসবাব ইত্যাদি চিবিয়ে ফেলা অনেক সময় শুধুই দুষ্টামি নয় বরং একঘেয়েমি, মানসিক চাপ বা দাঁতের অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশ হতে পারে। আমেরিকান সোসাইটি ফর দ্য প্রিভেনশন অফ ক্রুয়েলটি টু অ্যানিম্যালস (ASPCA) মতে, বিশেষ করে ছোট বয়সের কুকুরেরা নতুন দাঁত উঠলে এ ধরনের আচরণ করে থাকে। এর প্রতিকার হিসেবে কুকুরকে চিবানোর জন্য নিরাপদ খেলনা দিতে হবে এবং নিয়মিত মানসিক উদ্দীপনা (mental stimulation) জোগাতে হবে। কিছু কুকুর সারাক্ষণ মালিকের পাশে থাকতে চায় এবং মালিক সামান্য দূরে গেলেও অস্থিরতা প্রকাশ করে। এটি মূলত ‘separation anxiety’ নামক এক মানসিক অবস্থা, যেখানে কুকুর একা থাকতে ভয় পায় বা মানসিক অস্বস্তি অনুভব করে। Sherman et al. (2008)-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের কুকুরেরা একা থাকলে চিৎকার, কান্না বা ঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করতে পারে। এর সমাধানে কুকুরকে ধীরে ধীরে একা থাকার অনুশীলন করানো ও ধৈর্যসহকারে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ানো জরুরি। অতিরিক্ত ঘেউ ঘেউ করাও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে বিশেষ করে যখন সেটা নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হয়ে থাকে। অনেক সময় কুকুররা বিরক্তি, একাকীত্ব, ভয় বা শুধুই আপনার মনোযোগ পাওয়ার জন্য অহেতুক ঘেউ ঘেউ করে। কুকুর প্রশিক্ষক ড. ইয়ান ডানবার বলেন, “Excessive barking is often a result of unspent energy or lack of structure.” তাই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে “Quiet” কমান্ড শেখানো, পর্যাপ্ত হাঁটাহাঁটি ও খেলাধুলা করানো অত্যন্ত জরুরি। সব মিলিয়ে, এই সাধারণ মনে হওয়া আচরণগুলো আসলে গভীর মনস্তাত্ত্বিক এবং আচরণগত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কুকুরের আচরণ বোঝার চেষ্টা, সঠিক প্রশিক্ষণ, মানসিক উত্তেজনা ও ভালোবাসাই তার মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে পারে। একটি সুখী কুকুর শুধু আপনাকে খুশি রাখে না বরং আপনার সঙ্গে গড়ে তোলে এক অটুট বন্ধন। রেফারেন্স: * Hare, B., & Tomasello, M. (2005). Human-like social skills in dogs? Science. * ASPCA (2022). Destructive Chewing. www.aspca.org * Sherman, B. L. et al. (2008). Separation Anxiety in Dogs. Journal of Veterinary Behavior. * Dunbar, I. (2009). Before and After Getting Your Puppy. New World Library
প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...
Comments
Post a Comment