Skip to main content

কলহের সাক্ষী

 


বাসায় বাবা-মায়ের ঝগড়া প্রতিনিয়তই লেগে থাকে।

চিৎকার-চেঁচামেচি থেকে শুরু করে জিনিসপত্র ভাঙচুর, এমনকি মারামারিও যেন নিত্যদিনের ঘটনা। আমাকে বাবা-মা দুজনেই ভালোবাসে, যত্নে রাখে। কিন্তু তাদের এই কলহের সাক্ষী হওয়াটা বাসায় একটা দমবন্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে সব ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছা করে। মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনটাই শেষ করে ফেলি। পারি না, শুধু মায়ের কথা ভেবে। তাকে যে আমি এই ঝগড়া আর মারধর থেকে বাঁচিয়ে সুন্দর একটা জীবন দিতে চাই। কিন্তু আর সহ্য হয় না। এখন তো বাসার বাইরেও ভালো থাকি না। কোথাও জোরে কোনো শব্দ, কারও জোরে ডাক দেওয়া, বা সামান্য কোলাহলেও মনটা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। ছটফট করতে থাকি। সারাক্ষণ এই অশান্তি আর বয়ে বেড়াতে পারি না। এই যন্ত্রণা থেকে একটু যদি রেহাই পেতাম!! এই চিত্র অনেক পরিবারেই দেখা যায়। বাবা-মায়ের কলহের সাক্ষী হওয়া যেকোনো সন্তানের জন্যই মারাত্মক ট্রমাটিক। এই ট্রমা তাদের ব্যক্তিগত কাজ থেকে শুরু করে প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত সকল কাজেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে থাকে। সন্তানের সুস্থ বিকাশের জন্য বাবা-মায়েরও যেমন পারিবারিক কাউন্সেলিং বা দাম্পত্য কাউন্সেলিং নেওয়া উচিত, তেমনি সন্তানেরও ট্রমা হিলিং-এর জন্য কাউন্সেলিং নেওয়া দরকার।

----------------------------------------------------------------------------------------------------------

অনেক সময় আমরা সন্তানদের আচরণ দেখে ভাবি, "ও তো একটু চুপচাপ, হয়তো ইন্ট্রোভার্ট স্বভাবের।" কিন্তু একটু গভীরে তাকালে দেখা যায়, এই চুপচাপ থাকার পেছনে হয়তো লুকিয়ে আছে কিছু অপ্রকাশিত মানসিক চাপ, ভয়, উদ্বেগ বা একাকীত্বের কষ্ট। আপনি কি লক্ষ্য করছেন, আপনার সন্তান এখন আর আগের মতো খোলামেলা কথা বলে না? তার মন খারাপ হলে সে চুপ করে থাকে, কিছু বলতে চায় না? নতুন মানুষের সাথে মিশতে চায় না, অকারণে এড়িয়ে চলে? একা থাকতে চায়, এমনকি অন্ধকার জায়গা বেশি পছন্দ করে? কোথাও যেতে গেলে অস্থির হয়ে পড়ে, কিংবা কথাবার্তা শুনলে বিরক্তি প্রকাশ করে? এগুলো কি কেবল ‘ইন্ট্রোভার্ট’ হওয়ার লক্ষণ, নাকি কোনো মানসিক অস্বস্তি থেকে সে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে—এই প্রশ্নটা আমরা অনেকেই এড়িয়ে যাই। কিন্তু বাস্তবতা হলো, প্রতিটি শিশুর আচরণের পেছনে থাকে তাদের মানসিক জগতের একটা গল্প। তাদের ছোট ছোট আচরণ আমাদের অনেক বড় সংকেত দিতে পারে—যদি আমরা মন দিয়ে তা বুঝতে চাই। একজন ইন্ট্রোভার্ট শিশু সাধারণত নিজের মতো থাকতে ভালোবাসে, কিন্তু সে নিরাপদ বোধ করে এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশে স্বচ্ছন্দ। কিন্তু যখন কোনো শিশু ভেতরে ভেতরে কষ্টে থাকে, তখন সে চুপ করে যায়, কারো সাথে কথা বলতে চায় না, আর এভাবেই ধীরে ধীরে সে আরও গুটিয়ে যেতে থাকে। তাই শুধু “ও একটু শান্ত” বলে থেমে না থেকে, সন্তানের মনের ভেতরটা বোঝার চেষ্টা করুন। তার পাশে থাকুন, জোর না দিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করুন। তার অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। প্রয়োজনে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। কারণ, ছোটবেলার মানসিক অস্বস্তিগুলো সময়মতো বুঝে সমাধান না করলে তা বড় হয়ে আরও জটিল সমস্যায় রূপ নিতে পারে। আপনার সচেতনতা, সময় এবং সহানুভূতিই পারে সন্তানের জন্য নিরাপদ একটি মানসিক পরিবেশ তৈরি করতে।
-----------------------------------------------------------------------------------------------
টিনএজার মানেই আবেগের ঝড়। একদিকে শরীরে ও মনে ঘটে চলেছে নানা রকম পরিবর্তন, অন্যদিকে জীবনের নানা বিষয়ে নিজের মতো করে ভাবতে শেখার সময় এটি। এ বয়সেই তৈরি হয় আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদাবোধ এবং মূল্যবোধ। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই সময়কার আবেগগুলোকে আমরা, পরিবার ও সমাজ, কতটা গুরুত্ব দিচ্ছি? 🔸 পরিবারে অনেক সময় টিনএজারদের আবেগকে “অহেতুক” মনে করে এড়িয়ে যাওয়া হয়। 🔸 এই উপেক্ষা তাদের মনে একাকিত্ব ও মূল্যহীনতার অনুভূতি তৈরি করে। 🔸 সন্তানের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। মন দিয়ে শুনুন। 🔸 ভয়ের নয়, ভালোবাসা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে গড়ে তুলুন সম্পর্ক। আমরা যদি তাদের কান্না, হতাশা, রাগ বা উচ্ছ্বাসকে গুরুত্ব না দিই, তাহলে তারা ধীরে ধীরে নিজেদের গুটিয়ে নেয়। হয়তো বলে না কিছু, কিন্তু মনে তৈরি হয় এক ঘোর অন্ধকার—"আমার অনুভূতির কোনো দাম নেই"। সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু শাসন দিয়ে নয়, গড়ে তুলুন সহানুভূতি আর সম্মান দিয়ে। 👉 তাকে বলুন, "তোমার অনুভূতি আমাকে জানানো যাবে" 👉 তাকে বুঝিয়ে দিন, "তোমার কথা আমি গুরুত্ব দিয়ে শুনি" 👉 তার পাশে থাকুন, ভয় দেখিয়ে নয়—ভালোবাসার হাত ধরে। ✅ আমরা যদি আজ মন দিয়ে শুনি, তারা আগামীকাল মন খুলে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে। ✅ আমরা যদি এখন গুরুত্ব দিই, তারা ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসী মানুষ হয়ে উঠবে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...