Skip to main content

অনেক আমল করার চেষ্টা

 


জিলহজ্ব মাসের এই ১০ দিন আমরা অনেক আমল করার চেষ্টা করি।

জীবন জুড়েই আমাদের চেষ্টা থাকে প্রচুর আমল করার। কিন্তু আমরা অনেকেই খুব বেশি আমল করতে পারিনা। তখন আমরা হীনমন্যতায় ভুগি। যারা অনেক ধার্মিক মানুষ তাদের আমলের পরিমাণ দেখে আমরা হতাশ হই। যারা অনেক বেশি নামাজ রোজা করতে পারেন না,‌তারা কিন্তু অন্যভাবেও আমল করতে পারেন। প্রথম যে কাজটা করতে পারেন সেটা হল গুনা থেকে বেঁচে থাকা। ‌ আপনি মিথ্যা কম বলুন, গীবত কম করুন - এটাও ‌একটা বিশাল ইবাদত।‌ প্রতিদিন আপনি কিছু দান করতে পারেন। অসুস্থ মানুষকে দেখতে যেতে পারেন। আপনি কন্টিনিউয়াস জিকির করতে পারেন। আপনার যদি অনেক রাগ থাকে তাহলে সে রাগ সংবরণ করতে পারেন। আপনি যদি শিক্ষক হন তাহলে ছাত্রদের আরো ভালো করে পড়াতে পারেন। আপনি যদি ডাক্তার হন, রোগীদের প্রতি আন্তরিকতার বৃদ্ধি করে আপনি কাজটি করতে পারেন। এই প্রতিটা জিনিসই ইবাদত। কিয়ামতের দিনে একেক জন মানুষ একেক ধরনের আমল নিয়ে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে। আমরা মানুষ হিসেবে সবাই এক ধরনের আমল করতে পারি না। কেউ নামাজ বেশি পড়ে, কেউ দান বেশি করে, কেউ গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করে, কেউ ‌ধর্মের পথে যুদ্ধ করে। প্রত্যেকের অবদানই আল্লাহর কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কখনো হীনমন্যতায় ভুগবেন না। যে আমল করাটা আপনার জন্য সহজ সেটা বারবার করার চেষ্টা করবেন। ‌ আর আল্লাহর ক্ষমা অনুগ্রহ করবেন। যেগুলো আমাদের জন্য একেবারে ফরজ চেষ্টা করবেন সেগুলো বাদ না দিতে। যেমন আপনার ইচ্ছা করুক বা না করুক, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আপনাকে পড়তেই হবে। রোজার ৩০ টা রোজা আপনাকে রাখতে হবে। হয়তো আপনার সুন্নত নামাজ পড়তে অতো ভালো লাগেনা। এজন্য মন খারাপ করবেন না। হয়তো আপনার কোরআন পড়তে ভালো লাগে, আপনি কোরআন বেশি বেশি পড়ুন। আপনার হয়তো রোজা রাখতে কষ্ট হয় তাই আপনি নফল রোজা রাখেন না, মন খারাপ করবেন না। আপনার হয়তো মানুষকে সাহায্য করতে ভালো লাগে, আপনি আল্লাহর নামে প্রচুর দান সদকা করুন। আমাদের সবার আমূল এক হবে না। আমাদের আল্লাহর প্রতি আশা এবং ভয় থাকতে হবে যে তিনি আমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ যেন আমাদের সবার সহায় হোন।
DR KUSHal

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...