Skip to main content

পোষা বিড়ালটি গর্ভবতী হলে

 


বিড়ালপ্রেমীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের প্রিয় পোষা বিড়ালটি গর্ভবতী হলে কীভাবে তার যথাযথ যত্ন নিতে হবে। একটি স্বাস্থ্যবান মা বিড়াল সুস্থ ও নিরাপদভাবে সন্তান জন্ম দিতে পারলে, শুধু বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎই নয় পুরো পরিবারেই এক আনন্দময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। তাই গর্ভাবস্থার সময়কাল, লক্ষণ এবং যত্নের বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত জরুরি।

একটি স্ত্রী বিড়াল সাধারণত প্রতি বছর একাধিকবার গর্ভবতী হতে পারে এবং প্রতিবার গড়ে ৩-৫টি বাচ্চা জন্ম দিতে পারে। একটি সুস্থ ও পূর্ণবয়স্ক স্ত্রী বিড়ালের গর্ভধারণকাল গড়ে ৬৩-৬৫ দিন, অর্থাৎ প্রায় দুই মাস। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এটি ৫৮ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেও সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। গর্ভকালীন সময় ও সঠিক পরিচর্যা জানার মাধ্যমে একজন পোষ্যপ্রেমী মালিক গর্ভবতী বিড়ালের জন্য যথাযথ প্রস্তুতি নিতে পারেন এবং তার নিরাপদ ও সুস্থ প্রসব নিশ্চিত করতে পারেন। গর্ভধারণের শুরুতে বিড়ালের আচরণে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা না গেলেও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কিছু লক্ষণ প্রকাশ পেতে থাকে। সবচেয়ে সহজ ও আগে দেখা যাওয়া লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে নিপলের রঙ পরিবর্তন, যা সাধারণত গোলাপি হয়ে যায় এবং সামান্য ফোলাভাবও দেখা যায়। এই পরিবর্তনকে ‘পিঙ্কিং আপ’ বলা হয়, যা গর্ভধারণের ১৫-১৮ দিনের মধ্যে দেখা যেতে পারে (সূত্র: VCA Animal Hospitals)। এছাড়া বিড়ালের খাওয়ার রুচি বৃদ্ধি পায়, ঘুমের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং সে আরও বেশি শান্ত স্বভাবের হয়ে পড়ে। অনেক সময় হালকা বমি বা “মর্নিং সিকনেস”-ও দেখা যেতে পারে। কিছু বিড়াল নিজের জন্য নিরাপদ জায়গা খোঁজে নেয় যা বাচ্চা প্রসবের ইঙ্গিত দেয়। গর্ভধারণ নিশ্চিত করতে চাইলে পশু চিকিৎসক দ্বারা আল্ট্রাসনোগ্রাফি বা পেট প্যালপেশন করানো যেতে পারে, যা ৩ সপ্তাহ পর থেকেই ফলপ্রসূ হয়। এই সময়টিতে বিড়ালের পুষ্টির দিকে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া দরকার। সাধারণত ভেটেরিনাররা “kitten food” খাওয়াতে পরামর্শ দেন কারণ এতে প্রোটিন, ফ্যাট এবং ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেশি থাকে যা মা বিড়াল এবং তার অনাগত সন্তানদের জন্য প্রয়োজনীয়। Royal Canin Mother & Babycat বা Hills Science Diet-এর মত ব্র্যান্ডের খাবার গর্ভবতী ও মা বিড়ালের জন্য বিশেষভাবে তৈরি। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি এবং ছোট ছোট ভাগে খাবার দেওয়া উচিত কারণ তার হজমশক্তি গর্ভকালীন সময়ে কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ওজন বাড়া স্বাভাবিক হলেও হঠাৎ ওজন কমে গেলে বা খাওয়া কমে গেলে তা চিন্তার কারণ হতে পারে। শারীরিক যত্নের পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও জরুরি। বিড়াল সাধারণত গর্ভকালীন সময়ে অতিরিক্ত স্পর্শ বা উচ্চ শব্দে বিরক্ত হয়। তাই তাকে একটি শান্ত, উষ্ণ ও নিরাপদ পরিবেশে রাখা উচিত। ঘরের এক কোণে একটি পরিস্কার নরম তোয়ালে বা কাপড় দিয়ে বিশেষ জায়গা তৈরি করে রাখা যেতে পারে যেখানে সে নিজের মতো করে বিশ্রাম নিতে পারবে ও প্রসবের প্রস্তুতি নিতে পারবে। এই পর্যায়ে অতিরিক্ত মানুষজন বা শিশুদের বিড়ালের কাছে যেতে না দেওয়াই ভালো। প্রসবের আগে সে “নেস্টিং বিহেভিয়ার” দেখাতে পারে যেমন জায়গা খোঁজাখুঁজি করা, তোয়ালে কামড়ে ধরার মত আচরণ। প্রসবের সময় ঘনিয়ে এলে তার শরীরের তাপমাত্রা হালকা কমে যেতে পারে, নিপল থেকে দুধ বের হতে পারে এবং সে সাধারণের চেয়ে বেশি ঘনঘন নিঃশ্বাস নিতে পারে। অধিকাংশ গৃহপালিত বিড়াল নিজেরাই নিরাপদভাবে বাচ্চা প্রসব করতে সক্ষম হয় এবং মানুষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হয় না। তবে যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রসব না হয় বা কোনো রকম রক্তপাত বা ব্যথার অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। এছাড়া গর্ভবতী বিড়ালের জন্য ডিওয়ার্মিং (কৃমিনাশক) এবং টিকাদানের সময় ঠিক করা প্রয়োজন হয় চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী। গর্ভাবস্থায় অনেক ওষুধ নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে তাই কোন মেডিসিন বা চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই ভেটেরিনারিয়ানকে জানাতে হবে। প্রসবের পরেও মায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি কারণ তখন তার দুধ উৎপাদন ও শক্তি ফিরে পেতে পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন হয় এবং মানসিক প্রশান্তিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সবমিলিয়ে, একটি গর্ভবতী বিড়াল শুধু একটি পোষ্য নয়, সে একটি ছোট প্রাণের জন্মদাত্রী। তাই তার প্রতি যত্নবান হওয়া, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা করানো এবং মানসিক ও শারীরিক স্বস্তি দেওয়া একজন দায়িত্ববান মালিকের কর্তব্য। সময় অনুযায়ী যদি আপনি প্রস্তুতি নিতে পারেন তবে তার গর্ভকাল ও প্রসব উভয়ই হবে নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় এবং সুখকর যা আপনাকেও এক অনন্য অভিজ্ঞতার সম্মুখীন করবে। ----------------------------------------------------------------------------- তথ্যসূত্র (References): Cornell University College of Veterinary Medicine – Feline Reproduction VCA Animal Hospitals – Pregnancy in Cats Royal Canin – Nutrition for Pregnant Cats American Animal Hospital Association (AAHA) Guidelines

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...