Skip to main content

একই মাছি, ভিন্ন প্রভাব!

 একই মাছি, ভিন্ন প্রভাব!

একটি সাধারণ মাছির ওজন খুবই সামান্য—মাত্র কয়েক মিলিগ্রাম। সবজি ওজন করার সময় যদি সেই মাছিটি স্কেলের উপর বসে, তাহলে তেমন কোনো পার্থক্য দেখা যায় না। কারণ সবজির মূল্য ওজনের তুলনায় অনেক কম। কিন্তু সেই একই মাছি যদি স্বর্ণ ওজনের স্কেলে বসে, তখন তার প্রভাব হয় বিস্ময়কর—মাত্র এক-দুই মিলিগ্রাম পার্থক্যের কারণেই ১৫-২৫ হাজার টাকার দাম উঠানামা করতে পারে! এই উদাহরণটি আমাদের জীবনের জন্য গভীর একটি বার্তা বহন করে— ওজন নয়, আপনি কোথায় অবস্থান করছেন এবং কার সংস্পর্শে আছেন, সেটিই নির্ধারণ করে আপনার মূল্য কতটুকু। একটি সাধারণ আচরণ, চিন্তা, বা অবদানও অনেক বড় হয়ে ধরা দিতে পারে যদি আপনি সঠিক জায়গায় থাকেন, সঠিক মানুষদের মাঝে অবস্থান করেন। তাই— নিজের পরিবেশ বেছে নিন যত্নের সাথে। চেষ্টা করুন জ্ঞানী, সদাচারী ও ইতিবাচক মানুষদের সান্নিধ্যে থাকতে। নিজেকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে আপনার গুণাগুণকে সম্মান করা হবে। আর সবখানে নিজেকে উপস্থাপন করার দরকার নেই—সবাই সবকিছুর মূল্য দিতে জানে না। মূল্য আপনি নির্ধারণ করেন না, নির্ধারণ করে আপনার অবস্থান। তাই নিজেকে মূল্যবান করতে চাইলে, আগে নিজেকে উপযুক্ত জায়গায় নিয়ে যান।

===============================
বারান্দায় শুকানো কাপড় আর স্ত্রীর সম্মান — দুইটা বিষয় একসাথে ভাবা দরকার! শহরের ফ্ল্যাট কালচারে বারান্দা হচ্ছে একমাত্র জায়গা যেখানে আমরা আমাদের কাপড়চোপড় শুকাতে দেই। বিশেষ করে মা-বোনদের পরিধেয় কাপড়গুলোও অনেকে খোলা বারান্দায় নির্দ্বিধায় ঝুলিয়ে দেন রোদে শুকানোর জন্য। এটিই কিন্তু অনেক সময় বড় একটি ভুলের সূচনা করে। ভুলটা কোথায়? একটা কথা মনে রাখবেন, আমরা যেটাকে সাধারণ মনে করি, সেটার দিকেই দুশ্চরিত্র মানুষরা অসাধারণ আগ্রহ দেখায়। ঘিঞ্জি শহরের ফ্ল্যাটে পাশের ফ্ল্যাট বা সামনের ভবন থেকে কেউ যদি আপনার স্ত্রীর বা মেয়ের অন্তর্বাস, কামিজ বারান্দায় ঝুলতে দেখে, তার চোখ যদি খারাপ হয়—সে সেখান থেকেই নানারকম কু-ধারণা গড়ে নিতে পারে। একবার মনে করুন, কোনো অচেনা ব্যক্তি প্রতিদিন সেই বারান্দার দিকে তাকিয়ে হাসছে বা ছবি তুলছে। অথচ আপনি নিজে বুঝতেই পারছেন না—আপনার পরিবারের সম্মান কীভাবে অনলাইনের শিকার হয়ে যাচ্ছে। এটা শুধু চোখের লালসার ব্যাপার নয়। এটা হয় ‘পর্যবেক্ষণ’ থেকে, তারপর হয় টার্গেট। এরপর? ইভটিজিং, হুমকি, হয়রানি, এমনকি গোপনে ভিডিও তোলা—সবই সম্ভব। সমাধান কী? কিছু সহজ কিন্তু জরুরি সতর্কতা: 1. বারান্দায় বড় পর্দা দিন: গাঢ় রঙের নেট জাতীয় কাপড় বা ক্যানভাস দিয়ে পর্দা টানান, যেন বাইরের কারো চোখ বারান্দা পর্যন্ত না পৌঁছায়। 2. ডাবল রশির বুদ্ধিমত্তা: দুইটি স্তরে রশি দিন — বাইরেরটায় শুকান পুরুষদের কাপড়, ভেতরেরটায় মহিলাদের। এতে মহিলাদের কাপড় বাইরের কারো চোখে পড়বে না। 3. রাতে কাপড় ঝুলিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকুন: ছাদে বা বারান্দায় সারা রাত কাপড় ঝুলে থাকা অনুচিত। বদজিন বা অশুভ আত্মার প্রভাব পড়তে পারে। রাতে কাপড় ভিজে থাকলে তাতে অশরীরী সত্ত্বার আশ্রয় নেওয়ার সম্ভাবনা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। 4. কাপড় পরা ও খোলার সময় দুআ পড়া: হাদীসে এসেছে, কাপড় পরার সময় এই দুআ পড়া উচিত — "বিসমিল্লাহ, আল্লাহুম্মা ইননি আসআলুকা খাইরাহু ওয়া খাইরা মা হুয়া লাহু, ওয়া আউযু বিকা মিন শাররিহি ওয়া শাররি মা হুয়া লাহু" অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি এই কাপড়ের ভালো ও যেটা ভালো উদ্দেশ্যে তৈরি তার কল্যাণ কামনা করছি এবং এর অমঙ্গল ও যেটা খারাপ উদ্দেশ্যে তৈরি তার অমঙ্গল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।" 5. পোশাক-আশাকে হালকা ভাববেন না: আমাদের প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, নারীরা যেন এমন পোশাক না পরে যা দেহ ঢেকে রেখেও আকর্ষণ সৃষ্টি করে। আজকালকার কিছু পোশাকের ডিজাইন এমন, যা শুকাতে দিলেও মানুষের দৃষ্টি টানে। চিন্তা করে দেখুন, তা যদি কারো কামভাব জাগায় তাহলে গুনাহের কিছু অংশ আপনার দিকেও আসবে কি না? সম্মান রক্ষার কাজটা বাইরে থেকে নয়, ঘর থেকেই শুরু করতে হয়। আপনার স্ত্রীর, বোনের, মেয়ের সম্মান রক্ষা করা শুধু দায়িত্ব নয়, বরং তা হচ্ছে এক ধরনের ইবাদত। আসুন, সতর্ক হই—এই ছোট্ট বিষয়গুলো নিয়েই। যেন আমাদের বাড়ির জানালা না হয়ে ওঠে ইভটিজারদের গোপন দর্শন ঘর!


Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...