প্রযুক্তি, রাজনীতি ও অর্থনীতি এক সাথে জড়িত। কিন্তু অনেক সময় আমরা তা দেখতে পাই না।লক্ষ্য করেন, রাশিয়ার উপর সর্বপ্রথম অবরোধ আসে ডলারে, তারপরে আসে প্রযুক্তিতে। কারণ এই দুইটার কোনটার বিকল্প রাশিয়ার ছিলো না। তখন চীন শূন্যস্থান পূরণে এগিয়ে আসে এবং মোটা অংকের টাকা কামিয়ে নেয়। আরেকটা বিষয় লক্ষ্য করুন, আমেরিকা ২০১১ র দিকেই ঠিক করেছিলো চীন থেকে সরে আসবে তার জন্য প্রথমে সে ল্যান্ডিং স্টেশন নির্মাণ কাজ শুরু করে। অর্থাৎ, কোন দেশের উপর নির্ভরশীলতা বাড়াবে, নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ভূমি কোথায় হবে তার প্রস্তুতি কাজ শুরু করে। তারা বেছে নেয় দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলো এবং ইন্ডিয়াকে। সাথে সাথে ওবামা শুরু করে সাউথ চায়না সি বয়ান। যাদের মনে আছে তারা বলতে পারবেন। তখন প্রায় প্রতি দিন দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে কোন না কোন বক্তব্য থাকতো। সেই অঞ্চলের দেশ গুলোর নেতাদের সাথে মিটিং হতো। হটাত করে এই অঞ্চল এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলো কেনো? উঠলো কারণ সেখানে তারা চীনের বিরোধী একটা ভাব তৈরি করে আমেরিকার ব্যবসা আনার নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে চেয়েছিলো। আমেরিকার একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশে নিজেদের ব্যবসা আনার আগে ক্ষমতা বলয় তৈরি করে, নিজেদের পুঁজির জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে। যেই দেশে আমেরিকার সাথে মিত্রতা ও সমঝোতায় রাজি হয়, যেই দেশে আমেরিকার প্রভাব থাকে, নিজস্ব লোক থাকে, মিডিয়া থাকে এবং রাজনীতির উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে সেই দেশ গুলোতেই বিনিয়োগ করে। দক্ষিণ চীনের পাশপাশি সেই সময় বাছাই করা হয় ভারতকে। ওবামার পলিসি তাই ছিলো ভারত মুখী। এমনকি ভারত যখন ইরানের সাথে চুক্তি করতে যায় তখন নিকি হ্যালীকে ভারতে পাঠিয়ে চুক্তি থেকে সরিয়ে আনা হয়। সব মিলিয়ে ওবামার সময় গ্রাউন্ড তৈরি হয়ে গেলে ট্রাম্প এসে চীনের উপর ট্যারিফ আরোপ করে। সেই সময় ভারত কিংবা দক্ষিণ চীনের সাগরের আসে পাশের কোন দেশের উপর ট্যারিফ আরোপ করা হয় না। তাই বাণিজ্য সেদিকে যেতে থাকে। এবার আসা যাক যেই কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম সেখানে। চীন বিকল্প প্রযুক্তি তৈরি করলে কীভাবে মোকাবেলা করা হবে? প্রথমে বলেছিলাম দুইটা বস্তুর বিকল্প চীনের হাতে নেই। ১ ডলার ২ কিছু কাটিং এজ টেকনোলজি। আর যেই মাত্র ব্রিকস বলল তারা ডলারের বিকল্প বানাতে চায় সেই মাত্র ঘোষণা আসলো ১০০ ভাগ ট্যারিফ আরোপ করা হবে তাহলে। আর চীন যেন কাটিং এজ টেকনোলজি না আবিষ্কার করতে পারে সেজন্য এনভিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আছে তারা যেনো উন্নত চিপ চীনকে না দেয়। অছচ এইটা প্রাইভেট কোম্পানি। একটা প্রাইভেট কোম্পানিকে চীনের সাথে ব্যবসা করতে দিচ্ছে না বল পূর্বক। একই ঘটনা হয়েছে নেদারল্যান্ডের এএসএমএলের সাথে যারা উন্নত লিথোগ্রাফি তৈরির একমাত্র কোম্পানি। চীন সম্প্রতি কমার্শিয়াল বিমান বানাতে শুরু করেছে যার পুরাটা আগে আমদানী করতো। কিন্তু রাশিয়ার উপর স্যাংশনের কারণে সেই কাজও পিছিয়ে গেছে। এভাবে তাদের মাস্টার প্ল্যান গুলো বজায় রাখা হয় এবং ব্যবসা প্রতিপত্তি ও অর্থ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়।
m patwary

Comments
Post a Comment