Skip to main content

কুকুরের জ্বর


 কুকুরের জ্বর একটি সাধারণ অথচ গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার মতো শারীরিক সমস্যা, যা অনেক সময় মালিকের অজান্তেই ঘটতে পারে। সাধারণত সুস্থ কুকুরের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা থাকে ১০০.৫°F থেকে ১০২.৫°F (৩৮°C থেকে ৩৯.২°C)। যদি এই তাপমাত্রা ১০৩°F বা তার বেশি হয়, তাহলে বুঝতে হবে কুকুরটি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে। কুকুরের জ্বরের বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে, যার মাধ্যমে একজন সচেতন মালিক সহজেই বুঝতে পারেন তার পোষা প্রাণীটি অসুস্থ। যেমন—নাক ও কান ছুঁলে অতিরিক্ত গরম অনুভব হওয়া, সারাদিন নিস্তেজ ও অলস হয়ে থাকা, সাধারণত যে খাবারটি আগ্রহ নিয়ে খায় সেটি না খাওয়া, চোখে পানি আসা, নাক দিয়ে পানি পড়া, আচরণে পরিবর্তন বা ঘন ঘন ঘুমানো ইত্যাদি। কখনো কখনো কুকুরের শরীরে কাঁপুনি বা দম নেওয়ায় সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে আগে তাপমাত্রা মেপে নিশ্চিত হওয়া জরুরি, যা পেট থার্মোমিটার ব্যবহার করে করা যায়।

জ্বরের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসজনিত সংক্রমণ। যেমন ঠান্ডা লেগে যাওয়া, কুকুর ইনফ্লুয়েঞ্জা বা প্যারোভাইরাস ইত্যাদি। অনেক সময় টিকা নেওয়ার পরেও সাময়িক জ্বর দেখা যায়, যেটা ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেরে যায়। এছাড়া শরীরের কোথাও ইনজুরি, অস্ত্রোপচারের পর জটিলতা, বিষাক্ত বস্তু খাওয়া বা অটোইমিউন রোগের কারণেও কুকুর জ্বরে ভুগতে পারে। কিছু সময় হিটস্ট্রোকের কারণেও শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। জ্বর দেখা দিলে প্রথমেই ঘরোয়া পর্যায়ে কিছু ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। যেমন, কুকুরকে ঠান্ডা জায়গায় বিশ্রামে রাখা, তাকে পর্যাপ্ত পানি পান করানো এবং ঠান্ডা ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মোছানো। তবে কখনোই মানুষের জন্য তৈরি ওষুধ—বিশেষ করে প্যারাসিটামল, ইবুপ্রোফেন ইত্যাদি কুকুরকে দেওয়া উচিত নয় কারণ তা তাদের জন্য প্রাণঘাতী হতে পারে। জ্বর যদি ২৪ ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হয় অথবা অন্যান্য জটিল উপসর্গ দেখা দেয়—যেমন বমি, ডায়রিয়া, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি—তাহলে দ্রুত একজন অভিজ্ঞ পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিয়মিত টিকা প্রদান, পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, পরিচ্ছন্ন পরিবেশে রাখা এবং কুকুরকে অজানা বস্তু খেতে না দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের প্রিয় পোষা প্রাণীগুলো কথা বলতে পারে না তাই তাদের ছোট ছোট আচরণ লক্ষ্য করেই আমাদের বুঝতে হবে তারা অসুস্থ কি না। ভালোবাসা, যত্ন আর সময়োচিত চিকিৎসাই পারে কুকুরকে সুস্থ ও সুখী রাখতে।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...