Skip to main content

শিশু সামলাতে গিয়ে


 নিশু (ছদ্মনাম) মা হয়েছেন তিন মাস হলো। ঘরে নতুন অতিথি এসেছে, সবাই ব্যস্ত তাকে ঘিরে। অতিথিরা আসছে, সেলফি তুলছে, আদর করছে শিশুটিকে।

কিন্তু নিশুর মুখে সেই আগের হাসি নেই। চুপচাপ, মনমরা, মাঝে মাঝে কান্নায় ভেঙে পড়েন হঠাৎ করেই। ঘুম ঠিকমতো হচ্ছে না, খাবারে রুচি নেই, নিজের দিকে একটুও খেয়াল নেই। সবাই ভাবে, "শিশু সামলাতে গিয়ে হয়তো একটু বেশি ক্লান্ত। সময় গেলে ঠিক হয়ে যাবে।" কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিশুর ভিতরের অন্ধকার যেন আরও ঘন হয়ে উঠছে। একদিন হঠাৎ একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে যায় — যা কেউ আশা করেনি, যা পরিবারের সবাইকে স্তব্ধ করে দেয়। আমরা অনেক সময় খবরের কাগজে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখি— মা সন্তানকে ফেলে দিয়েছে❗নিজেকে আঘাত করেছে, অথবা করিয়েছে। কখনও কখনও আত্মহত্যা কিংবা সন্তানের প্রতি সহিংসতা — এমন অপ্রত্যাশিত অপরাধের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এক ভয়ংকর, অথচ নিরব ক্লিনিক্যাল ডিপ্রেশন, যার নাম Postpartum Depression। এই গল্পটা শুধুই নিশুর নয়। আজকের সময়ে সন্তান লালন-পালন যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। শিশুকাল থেকে শুরু করে কৈশোর পর্যন্ত— প্রতিটি ধাপে মায়েদের নানা মানসিক ও শারীরিক চাপে পড়তে হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সবচেয়ে দরকার পরিবারের সংবেদনশীলতা, সহানুভূতি এবং সাপোর্ট। আমরা যারা পরিবারের সদস্য, আমাদের উচিত এইসব ছোট ছোট পরিবর্তনের দিকে খেয়াল রাখা। কোনো মা যদি হঠাৎ মনমরা হয়ে যান, কান্না করেন, আগের মতো না থাকেন কিংবা নিজেকে আড়াল করে রাখে— তবে তা অবহেলা না করে তাকে সহানুভূতির সাথে বোঝার চেষ্টা করা দরকার। 💚 তাকে সাহস দিন কথা বলার, সময় দিন, পাশে থাকুন। 💚 প্রয়োজন মনে হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে দ্বিধা করবেন না। Postpartum depression লুকিয়ে থাকতে পারে আপনার ঘরেই। আপনার মা, বোন, স্ত্রী, বা ঘনিষ্ঠ কেউ হয়তো লড়ছেন চুপচাপ। একটু ভালোবাসা, একটু যত্ন, একটু সচেতনতা হয়তো বাঁচিয়ে দিতে পারে একটা জীবন — একটা পরিবার। আপনি কি খেয়াল করেছেন, আপনার আশেপাশের কেউ এমন কিছু অনুভব করছেন?

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...