Skip to main content

গোমাংস সঙ্গে রাখার বা খাওয়ার "অপরাধে"

 


গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে ভারতের দিল্লী ও উত্তর প্রদেশের দুই জেলা সম্ভল ও মেরাঠে পুলিশ জানিয়ে দেয় যে রাস্তাতে আলবিদা জুম্মা ও ঈদের নামাজ পড়া যাবে না। সম্ভলে পুলিশ আরো জানায় যে নিজেদের বাসার ছাদেও কোনো মুসলমান নামাজ পড়তে পারবে না। মেরাঠে পুলিশ জানিয়ে দেয় যে রাস্তায় নামাজ পড়া মুসলমানদের পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

ভারতে হিন্দুদের উপর রাস্তাতে ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ে কোনো বিধিনিষেধ নেই। সারাদেশে রাস্তায় প্যান্ডেল করে লক্ষ লক্ষ পূজা, ভজন, কীর্তন ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হয়। সারা শ্রাবণ ধরে উত্তর ভারতে ভগবান শিবের মাথায় জল ঢালতে ভক্তরা জাতীয় সড়ক সহ অনেক রাস্তা দখল করে রাখে। রাম নবমী ও অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠান হিন্দুরা রাস্তা দখল করেই করতে পারে। কয়দিন আগে হোলিতে দেখলাম কীভাবে রাস্তা দখল করে মুসলমানদের গায়ে ও প্লাস্টিকে ঢাকা মসজিদের উপর হিন্দুরা নর্দমার কাদা ও গোবর ছুঁড়ছিলো। এক বয়স্ক মুসলিম মহিলার মুখেও জোর জবরদস্তি করে কালো রং বা কালি দিলো তার ছেলের বয়সী হিন্দুরা। বিজেপি-শাসিত ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানদের উপর ধর্মীয় আচার-আচরণের উপর এমনই পর্যায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি বা জুলুম করা হচ্ছে। এই ভারতীয় বিজেপি সরকার ৫ই আগস্টের পর আমেরিকা সহ অনেককে জানায় যে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর জুলুম হচ্ছে। ভারত কি দেখাতে পারবে ভারতে সংখ্যালঘু মুসলমানেরা যেভাবে নির্যাতিত হচ্ছে সেইভাবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুরা নির্যাতনের শিকার হয়েছে? ভারতে মুসলমানদের পিটিয়ে "জয় শ্রীরাম" বলতে বাধ্য করা হচ্ছে। বাংলাদেশে কোথাও কোনো হিন্দুকে কি ঐরকম জবরদস্তি করে "আল্লাহু আকবর" বলতে বাধ্য করেছে কেউ? গোমাংস সঙ্গে রাখার বা খাওয়ার "অপরাধে" মুসলমানদের পিটিয়ে মারা হচ্ছে। কোনো হিন্দু কি বাংলাদেশে এমন কোন হিংস্র মুসলিম আক্রমণের শিকার হয়েছে ধর্মীয় কারণে? কোনো হিন্দুদের কি বলা হয়েছে যে তারা রাস্তায় প্যান্ডেল করে পূজা করলে তাদের পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হবে? বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতন হচ্ছে, এই বিজেপি-শাসিত ভারতের এমন অভিযোগ অত্যন্তই হাস্যকর। On Friday, hours ahead of the Albida Jumma (last Friday of the month of Ramadan) prayer, the police in India’s Delhi and Uttar Pradesh’s Sambhal and Meerut issued orders that no Muslim would be allowed to offer Friday and Eid prayers on the road. In Sambhal, no Muslim would be allowed to offer prayer also on the roof of their homes, a police order said. And in Meerut, the police also said that driving licences and passports of those offering namaaz on the road would be confiscated. In India, Hindus face no restriction in organising any religious ritual or festival on the road. Hundreds of thousands of pandals for pujas, bhajans and kirtans are erected on the roads across India. During the entire Indian calendar month of Shraban or Sawan, Hindu devotees walk along roads and national highways carrying Ganga water for Lord Shiva. They can occupy roads again during Ram Navami processions. A few days ago, we saw video clips of young Hindu men playing Holi hogging a road and throwing colour water on mosque, which was covered with a plastic sheet. The colour water was a mixture of cow dung and mud from drain — which often replaces colour during Holi in India — many social media posts said. Another video showed some young Hindus forcibly applying an unknown black colour to the face of an elderly Muslim woman. Only Muslims are not being allowed to offer namaaz on the road or the roof of their houses. In the BJP-ruled Indian states, minority Muslims are facing persecution at a terrible level. After Sheikh Hasina’s ouster, the BJP-led Indian government started a global campaign alleging that minority Hindus were being violently persecuted in Bangladesh. Can India produce evidence showing that Bangladeshi Hindus are facing the same brutal level of persecution as Muslims do in India? Muslims in India are being beaten up and forced to chant “Jai Sri Ram”. Has any Hindu been coerced into exclaiming “Allahu Akbar”? For eating or carrying beef, many Muslims have been lynched in India. Has any Hindu been so violently attacked in Bangladesh for any religious reason? Have the police in Bangladesh ever threatened to confiscate passports or any important identity-related document of Hindus for erecting puja pandals on the roads? India's accusation claiming that Hindus are being persecuted in Bangladesh is utterly ridiculous.
by pinaki B

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...