Skip to main content

ভারতীয় ন্যারেটিভের কাউন্টার

 


ভারতীয় বার্তাসংস্থা ANI এর সাথে সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স ডাইরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ডকে জার্নালিস্ট স্মিতা প্রশ্ন করেন “How important your spiritual belief?” জবাবে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন “My own spiritual practice is the center of my life and Krishna's teaching to Arjun on Bhagabat Gita is the strength of mine. From Krishna to Arjun, they give me peace and great comfort”

তুলসী গ্যবার্ড এবং স্মিতার কনভারসেশনের উপরোক্ত অংশটুকু থেকে এটা একদম পরিষ্কার যে তিনি একজন গর্বিত হি ন্দু, উপরন্তু ই স ক ন সদস্য। এছাড়া তাকে বহুদিন যাবৎ ফলো করার সুবাদে আমি খুব স্পষ্টভাবেই উপলব্ধি করেছি, বর্তমান ইউএস ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স ডাইরেক্টরের হিন্দুইজমের প্রতি বেশ ভাল সফট কর্নার রয়েছে। পাঁচ আগস্টের পরই বাংলাদেশ ইস্যুতে ভারতীয় পলিসি মেকার থেকে শুরু করে আর্মড ফোর্স কিংবা মিডিয়া উইং― প্রত্যেকের ন্যারেটিভ ছিল বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান ঘটেছে, বাংলাদেশে ইসলামিক টেরো রিজম মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে ইত্যাদি। ভারত খুব করে চেষ্টা চালিয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‛বাংলাদেশে ইসলামিক টেরোরিজমের উত্থান ঘটেছে’ ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর জন্য। কিছুদিন আগে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার প্রকাশিত পঞ্চাশ পেজের রিপোর্টে যে ছবিটি এটাচ করা হয়েছিল তা সম্ভব হয়েছিল ভারতীয় লবিং এর কারনে। ওই রিপোর্টে যে ছবিটি যুক্ত করা হয়েছিল তা হলো- অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে ঢাবিতে কোনো এক প্রোগ্রামে ঢাকা সিটি কলেজের ছেলেদের হাতে কালেমাখচিত পতাকা। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, এই ছবি ছাপানোর জন্য যে লবিং করেছে সে সুবিধাজনক নয়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ওই ছবি ছাপানোর পরও কোনো কন্ট্রোভার্সিই তৈরি হয়নি। অর্থাৎ সেখানেও ভারত ফেল করে। অতঃপর তারা ইউএস ডিএনআই তুলসিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ ইস্যুতে তাদের ন্যারেটিভ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছে। কিন্তু ভারত যেটা কল্পনাও করতে পারেনি সেটা হচ্ছে, ইউএস ন্যাশনাল ইন্টিলিজেন্স ডিরেক্টরের কথার জবাব দেওয়ার সক্ষমতাও বাংলাদেশ রাখে। ইসলামিক টের রিজম, খিলাফত ইত্যাদি ধরনের ফ্রিঞ্জ এলিগেশনের এগেইন্সটে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানানো হয় “A nation whose traditional practice of Islam has been famously inclusive and peaceful and that has made remarkable strides in its fight against extremism and ter*rism” এই একটা স্টেটমেন্টেই ভারত আবারও চেকমেট খায়। তবে বাংলাদেশ যে শুধুমাত্র ইউএস ডিএনআই'র ভিত্তিহীন অভিযোগ এবং ভারতীয় ন্যারেটিভের কাউন্টার দিয়েছে তাই নয় বরং ব্রিটিশ ইন্টিলিজেন্সকেও ব্যালেন্স করেছে। কিভাবে..? আপনাদের নিশ্চয়ই মনে থাকবে, বেশ কিছুদিন আগে ব্রিটিশ ইন্টিলিজেন্স উইং এমআই-৬ একটি রিপোর্টে জানায়, চলতি বছরের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি ইসলামিক আপরাইজিং বা ইসলামী স ন্ত্রাস বাদ দেখা দিতে পারে। উল্লেখ্য যে, তুলসী গ্যাবার্ড কিন্তু একা ভারতে আসেন নাই, তার সাথে ফাইভ আইস, ব্রিটিশ এমআই-৬ এর কর্মকর্তাও এসেছেন। তাদের সবার মাঝে ইন্টিলিজেন্স কোলাবরেটের একটি ফর্মালিটি অনুষ্ঠিত হয়েছে; যা প্রতিবছরই হয়ে থাকে। তবে যেহেতু ব্রিটিশ ইন্টিলিজেন্স ভারতে অবস্থান করছেন, তাই বাংলাদেশ ইন্টারিভ গভমেন্টের এই বার্তা বাংলাদেশ ইস্যুতে তাদের নিকটও পৌঁছাবে এবং নিঃসন্দেহে তাদের প্রেডিকশনকেও ব্যালেন্স করবে। অর্থাৎ ডক্টর ইউনুস এক হাতে ভারতীয় ন্যারেটিভের কাউন্টার এবং বিশ্বের দুই পরাশক্তির ইন্টিলিজেন্সকে সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করলেন। গত পনেরো বছরে যুক্তরাষ্ট্র তো দূর, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয় কোনো মিথ্যাচার অপপ্রচারের জবাব বাংলাদেশ এডমিনস্ট্রেশনকে দিতে দেখেছেন? আপনি কি চিন্তা করতে পারছেন, এক ডক্টর ইউনুস একাই কিভাবে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এদেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানের ভ্যানগার্ড হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন..? -সাফিন রহমান॥

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...