Skip to main content

ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) পরে

 


ফরাসি বিপ্লবের (১৭৮৯) পরে ফ্রান্সে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অরাজকতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, এবং সহিংসতা চলেছিল। এই সময়কে চারটি প্রধান ধাপে ভাগ করা যায়:

১. গণপরিষদ ও রাজতন্ত্রের অবসান (১৭৮৯-১৭৯২) ১৭৮৯ সালে বিপ্লব শুরু হলেও প্রথমে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা হয়। ১৭৯২ সালে রাজা ষোড়শ লুইকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং ফ্রান্সকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করা হয়। ২. সন্ত্রাসের রাজত্ব (Reign of Terror, ১৭৯৩-১৭৯৪) ১৭৯৩ সালে রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে শিরশ্ছেদ করা হয়। রবেসপিয়েরের নেতৃত্বে জ্যাকোবিনরা চরমপন্থী শাসন কায়েম করে, যেখানে হাজার হাজার মানুষকে শত্রু মনে করে হত্যা করা হয়। ১৭৯৪ সালে রবেসপিয়ের নিজেই উৎখাত ও শিরশ্ছেদ হলে সন্ত্রাসের রাজত্বের সমাপ্তি ঘটে। ৩. পরিচালক পর্ষদ (Directory, ১৭৯৫-১৭৯৯) ১৭৯৫ সালে নতুন সংবিধান চালু হয় এবং পাঁচ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ (Directory) ক্ষমতা গ্রহণ করে। এটি দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণে জনপ্রিয়তা হারায় এবং সামরিক অভ্যুত্থানের পথ তৈরি করে। ৪. নেপোলিয়নের ক্ষমতা গ্রহণ (১৭৯৯) ১৭৯৯ সালে নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কূ দে তা (Coup d'état) করে পরিচালনা পর্ষদকে উৎখাত করেন এবং প্রথম কনসাল হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। এটি ফরাসি বিপ্লবের বিশৃঙ্খল পর্বের সমাপ্তি ঘটায় এবং নেপোলিয়নের শাসন শুরু হয়। ফরাসি বিপ্লবের পর প্রকৃত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসতে প্রায় ১০ বছর লেগেছিল (১৭৮৯-১৭৯৯), এবং নেপোলিয়নের একনায়কতন্ত্রই দেশকে নতুনভাবে একত্রিত করে। সব বিপ্লবের পরের অবস্থা এমনই হয়। জুলাই বিপ্লবকে ঠিক এইরকম কালপর্বের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। আমাদের দেশে একজন সাহসী বলিষ্ঠ জনপ্রিয় নেতা আসবে। আমাদের সেই অনাগত উজ্জ্বল সেই নেতার আগমনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। গাজীপুরের ঘটনা সেই অনাগত সময়ের সুচনা মাত্র। -পিনাকী ভট্টাচার্য।

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...