Skip to main content

গুম করার জায়গা

 


আমাকে ২০১৮ তে গুম করা হলে এমন একটি ঘরেই রাখা হয়। তবে এভাবে দুটো ফুটো ছিল না। একটা লাল রং এর এডজাস্ট ফ্যান ছিল। প্রচণ্ড শব্দ হত সেটার। এখানে কোন টয়লেট ছিল না। টয়লেট পেলে দরজা ঝাঁকাইলে মাস্ক পড়া লোক এগিয়ে আসত। দুটো দরজা ছিল। একটা কাঠের আর একটা লোহার শিকের।

২০২২ সালে আমাকে ডিবির কোথাও নেয়া হয়, সাথে সজল ছিল। দুজনেরই চোখ বাঁধা ছিল। এটা ছিল প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে কোটা বাতিলের মামলার ফাইলিং করার সময়। আমি এডভোকেট একলাস উদ্দিন ভুইয়া স্যারের চেম্বার হতে নেমে ফটোকপি করছিলাম তখন সাদা পোশাকে কিছু লোক তুলে নেয়। লাগাতার একদিন নির্যাতনেত পর ছেড়ে দেয়। সেখানে কোথায় বসে রাখছিল, চোখ বাঁধা রাখায় বলতে পারি না। ২০২৪ সালের ২২ জুলাই, আমাকে ডিজিএফ আই নেয় তা গণ অভ্যুত্থান এর পর জানতে পারি। সেখানে দেয়ালে ৩ ফুট পর পর হাত বাঁধাত ও পা বাঁধার লোহার রিং ছিল দেয়ালে লাগানো। এটা সম্ভবত র‍্যাব - ১ বা ডিজিএফআইয়ের হেড কোয়ার্টার এ হবে। তবে ৩য় দিনে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে নেয়ার সময় চোখ খোলে তখন র‍্যাব-১ এ ছিলাম এটা সেখানেই হতে পারে, এখানে টয়লেট ছিল, সিসি ক্যামেরাও ছিল দেখেছি। জীবনে তিনবার জোরপূর্বক অন্তর্ধান এর অভিজ্ঞতায় প্রতিবারই মনে হচ্ছিল এবারই শেষবার। তবে যে চেয়ার দেখা যাচ্ছে এই চেয়ারের সাথে আমার পরিচয় ছিল না। আমাকে বসানো চেয়ার ছিল কাঠের হাতলযুক্ত। আর আমাকে ৩ বারই ইলেক্টিক শর্ট দেয়া হয়েছিল। ইলেকট্রনিক শর্ট এর সময় যে ডিভাইস দিয়ে শর্ট দিত তা দিয়ে কট কট কট আওয়াজ হত। এটা দিয়ে উরুর নরম অংশ, ঘার, বাহু পুরুষাঙ্গ পেটের নরম অংশ নাভির পাশে শর্ট দেয়। ২০২৪ এর গজুভ্যুত্থানে প্রায় ২৪-২৫ বার শর্ট দেয় আমায়। ২০১৮ তে বিদ্যুৎ এর উপর প্রস্রাব করিয়েছিল, যার রেশ প্রায় ৩ মাস ছিল। সে সময় হাত বেঁধেছিল তার দিয়ে, হাতের চামরা উঠে দাগ হয়ে আছে এখনো। অবশ্য ২০২৪ সালে কখনো দড়ি কখনো হ্যান্ডকাপ, কখনো গামছা দিয়ে বেঁধে ছিল। চোখ খুলে দিলে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারের একটা ছোট কক্ষে আবিষ্কার করলাম নিজেকে। সেখানে র‍্যাবের ডিজি এলোপাথারি মারল। রুমটি ছিল ৩ ফুট/৩ ফুট এর মত। ওখানে শুধু বসে থাকা যায় বা দাঁড়ানো যায়। এর চেয়ে ছোট হাজত আমি জীবনেও দেখি নাই। র‍্যাবের ডিজি মারতে মারতে নিজের হাত ছিলে গেল, রেগে গিয়ে আমার মাথা ধরে দেয়ালে বাড়ি মারল ৬-৭ বার এর পর থেকে ডিবি অফিসে হস্তান্তর পর্যন্ত কিছু জানি না আমি। প্যান্ট ছিল দুর্গন্ধময়, ডিবি কর্মকর্তা বলল, ওর গায়ে এত গন্ধ কেন, র‍্যাবের প্রতিনিধি বলল বুঝেন না? মূলত মারের চোটে অনেকবার প্যান্টেই মল মূত্র ত্যাগ করি। সেখান হতে নিল কেরানীগঞ্জ এ, পিঠে গুলির ক্ষত হতে পূজ বের হত। কোন ডাক্তার দেখালো না। কেরানীগঞ্জ এও এমন স্পেশাল কক্ষ আছে সেখানে ছিলাম ২ দিনের মত। শুধু একজন এসে খাবার দিয়ে যেত। ইউনূস স্যারের সাথে অনেক লোক গুম করার জায়গা দেখতে গিয়েছিল। সেটা দেখে আমারো অনেক শখ হচ্ছিল। আমাকে যে জায়গা গুলোতে রেখেছিল সেখানটা একটু গিয়ে দেখতে ইচ্ছা হচ্ছিল, দেয়ালে দেয়ালে আমার চিৎকার গুলো এখনো লেগে আছে হয়ত।
by tarek,ajd
==============================================================
“আমি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছি ইতোমধ্যেই ডিজি*এফআই এর আয়*না*ঘরের অনেক পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে যাতে করে নির্যা*তনের মাত্রার আলামত সঠিকভাবে বুঝা না যায়। উদাহরণস্বরূপ, দরজার গ্রীলের কপাট এবং ষ্টীলের দরজা খুলে কাঠের দরজা লাগানো হয়েছে, জানালার গ্রীল খুলে ফেলা হয়েছে, দরজা ও জানালার কাঁচের চার স্তর কালো রং এর আস্তর মুছে কাঁচ পরিষ্কার ও স্বচ্ছ করে ফেলা হয়েছে, দেয়াল ভেঙ্গে ভেন্টিলেটার বানানো হয়েছে, ছোট দুই রুমের মাঝের দেয়াল ভেঙ্গে রুমের সাইজ বড় দেখানো হয়েছে, যেই কক্ষে নির্যাতন করা হতো সেই কক্ষে নির্যাতন করার যত রকমের আলামত ছিল সব সরিয়ে ফেলা হয়েছে ইত্যাদি। এই অপকর্ম যারা করেছে তারা নিঃসন্দেহে অপ*রা*ধীদের দোষ ধামাচাপা দেয়ার জন্যই এই কাজ করেছে। অপরাধীদের অপরাধের মাত্রা কম দেখিয়ে তাদের বাচানোর বা শা*স্তি লঘু করার চেষ্টার সাথে কারা জড়িত তা অনুসন্ধান করে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার জন্য আমি সরকারের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।” -আব্দুল্লাহিল আমান আযমী

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...

নিকটবর্তী মানসিক রোগ

  ১. অস্বাভাবিক আচরণ ও কথাবার্তা ২. খাবারে ও পানিতে কিছু মেশানোর সন্দেহ ৩. ভাংচুর, সন্দেহ প্রবনতা ৪. গায়েবী কথা শোনা ৫. একা হাসা ও কথা বলা ৬. টেনশন, অস্থিরতা, উদ্বেগ, বিষন্নতা, হতাশা, একই চিন্তা ও কাজ বারে বারে করা ৭. খিটখিটে মেজাজ ৮. দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা, ঘাড় ও বুক সহ শরীরে বিভিন্ন স্থানে ব্যথা ও জ্বালাপোড়া মাথা ঘোরা, বুক ধরফর, হাত-পা ঝিনঝিন ৯. অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হিস্টিরিয়া, কথা বন্ধ ১০. অসামাজিক আচরণ মাদকাসক্তি সহিংসতা ও নিজের শরীরে আঘাত করা উপরের সমস্যাগুলোর যেকোন একটা হলে আপনি দ্রুত সময়ের মাঝে নিকটবর্তী মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ========================================= বিয়ের পর প্রত্যেক পুরুষের semen fluid analysis করা উচিত। ‌ এটা একটা বেসিক infertility টেস্ট যাতে দেখা হয় পুরুষ‌ মানুষটি বাবা হওয়ার যোগ্য কিনা। বিয়ের আগে করলে আরো ভালো। এটি করতে খরচ হয় স্থানভেদে মাত্র এক থেকে দেড় হাজার টাকা।সরকারি হাসপাতালে করলে ১০০ টাকায় করতে পারবেন। আমাদের দেশে কোন দম্পতির বাচ্চা না হলে এখনো অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে ব্লেইম করা হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সমস্যাটা থাকে ...