২০২২ সালে আমাকে ডিবির কোথাও নেয়া হয়, সাথে সজল ছিল। দুজনেরই চোখ বাঁধা ছিল। এটা ছিল প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগে কোটা বাতিলের মামলার ফাইলিং করার সময়। আমি এডভোকেট একলাস উদ্দিন ভুইয়া স্যারের চেম্বার হতে নেমে ফটোকপি করছিলাম তখন সাদা পোশাকে কিছু লোক তুলে নেয়। লাগাতার একদিন নির্যাতনেত পর ছেড়ে দেয়। সেখানে কোথায় বসে রাখছিল, চোখ বাঁধা রাখায় বলতে পারি না।
২০২৪ সালের ২২ জুলাই, আমাকে ডিজিএফ আই নেয় তা গণ অভ্যুত্থান এর পর জানতে পারি। সেখানে দেয়ালে ৩ ফুট পর পর হাত বাঁধাত ও পা বাঁধার লোহার রিং ছিল দেয়ালে লাগানো। এটা সম্ভবত র্যাব - ১ বা ডিজিএফআইয়ের হেড কোয়ার্টার এ হবে। তবে ৩য় দিনে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে নেয়ার সময় চোখ খোলে তখন র্যাব-১ এ ছিলাম এটা সেখানেই হতে পারে, এখানে টয়লেট ছিল, সিসি ক্যামেরাও ছিল দেখেছি।
জীবনে তিনবার জোরপূর্বক অন্তর্ধান এর অভিজ্ঞতায় প্রতিবারই মনে হচ্ছিল এবারই শেষবার।
তবে যে চেয়ার দেখা যাচ্ছে এই চেয়ারের সাথে আমার পরিচয় ছিল না। আমাকে বসানো চেয়ার ছিল কাঠের হাতলযুক্ত। আর আমাকে ৩ বারই ইলেক্টিক শর্ট দেয়া হয়েছিল। ইলেকট্রনিক শর্ট এর সময় যে ডিভাইস দিয়ে শর্ট দিত তা দিয়ে কট কট কট আওয়াজ হত।
এটা দিয়ে উরুর নরম অংশ, ঘার, বাহু পুরুষাঙ্গ পেটের নরম অংশ নাভির পাশে শর্ট দেয়। ২০২৪ এর গজুভ্যুত্থানে প্রায় ২৪-২৫ বার শর্ট দেয় আমায়। ২০১৮ তে বিদ্যুৎ এর উপর প্রস্রাব করিয়েছিল, যার রেশ প্রায় ৩ মাস ছিল। সে সময় হাত বেঁধেছিল তার দিয়ে, হাতের চামরা উঠে দাগ হয়ে আছে এখনো। অবশ্য ২০২৪ সালে কখনো দড়ি কখনো হ্যান্ডকাপ, কখনো গামছা দিয়ে বেঁধে ছিল।
চোখ খুলে দিলে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারের একটা ছোট কক্ষে আবিষ্কার করলাম নিজেকে। সেখানে র্যাবের ডিজি এলোপাথারি মারল। রুমটি ছিল ৩ ফুট/৩ ফুট এর মত। ওখানে শুধু বসে থাকা যায় বা দাঁড়ানো যায়। এর চেয়ে ছোট হাজত আমি জীবনেও দেখি নাই। র্যাবের ডিজি মারতে মারতে নিজের হাত ছিলে গেল, রেগে গিয়ে আমার মাথা ধরে দেয়ালে বাড়ি মারল ৬-৭ বার এর পর থেকে ডিবি অফিসে হস্তান্তর পর্যন্ত কিছু জানি না আমি।
প্যান্ট ছিল দুর্গন্ধময়, ডিবি কর্মকর্তা বলল, ওর গায়ে এত গন্ধ কেন, র্যাবের প্রতিনিধি বলল বুঝেন না?
মূলত মারের চোটে অনেকবার প্যান্টেই মল মূত্র ত্যাগ করি। সেখান হতে নিল কেরানীগঞ্জ এ, পিঠে গুলির ক্ষত হতে পূজ বের হত। কোন ডাক্তার দেখালো না। কেরানীগঞ্জ এও এমন স্পেশাল কক্ষ আছে সেখানে ছিলাম ২ দিনের মত। শুধু একজন এসে খাবার দিয়ে যেত।
ইউনূস স্যারের সাথে অনেক লোক গুম করার জায়গা দেখতে গিয়েছিল। সেটা দেখে আমারো অনেক শখ হচ্ছিল। আমাকে যে জায়গা গুলোতে রেখেছিল সেখানটা একটু গিয়ে দেখতে ইচ্ছা হচ্ছিল, দেয়ালে দেয়ালে আমার চিৎকার গুলো এখনো লেগে আছে হয়ত।
by tarek,ajd
==============================================================
“আমি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করেছি ইতোমধ্যেই ডিজি*এফআই এর আয়*না*ঘরের অনেক পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে যাতে করে নির্যা*তনের মাত্রার আলামত সঠিকভাবে বুঝা না যায়।
উদাহরণস্বরূপ, দরজার গ্রীলের কপাট এবং ষ্টীলের দরজা খুলে কাঠের দরজা লাগানো হয়েছে, জানালার গ্রীল খুলে ফেলা হয়েছে, দরজা ও জানালার কাঁচের চার স্তর কালো রং এর আস্তর মুছে কাঁচ পরিষ্কার ও স্বচ্ছ করে ফেলা হয়েছে, দেয়াল ভেঙ্গে ভেন্টিলেটার বানানো হয়েছে, ছোট দুই রুমের মাঝের দেয়াল ভেঙ্গে রুমের সাইজ বড় দেখানো হয়েছে, যেই কক্ষে নির্যাতন করা হতো সেই কক্ষে নির্যাতন করার যত রকমের আলামত ছিল সব সরিয়ে ফেলা হয়েছে ইত্যাদি।
এই অপকর্ম যারা করেছে তারা নিঃসন্দেহে অপ*রা*ধীদের দোষ ধামাচাপা দেয়ার জন্যই এই কাজ করেছে। অপরাধীদের অপরাধের মাত্রা কম দেখিয়ে তাদের বাচানোর বা শা*স্তি লঘু করার চেষ্টার সাথে কারা জড়িত তা অনুসন্ধান করে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনার জন্য আমি সরকারের প্রতি আবেদন জানাচ্ছি।”
-আব্দুল্লাহিল আমান আযমী
Comments
Post a Comment