ইসলামি ব্যাংক কি করে? ধরেন আপনি ঋণ নিবেন। ব্যাংক জিজ্ঞেস করবে এই ঋণ দিয়ে আপনি কি করবেন? আপনি বলেন বাড়ি নির্মাণ করবো। তখন ব্যাংক বলে, “এই নিন টাকা। এখন বাড়ি নির্মাণ করেন। অন্য কোন কাজে টাকা ব্যয় করবেন না। আপনি বাড়ি নির্মাণ করে দশ বছরের কিস্তিতে ১০% সুদের হারে ঋণ পরিশোধ করে দিবেন।" এবার আপনি একটি ইসলামি ব্যাংকে গেলেন। প্রথমে আপনি কি করেন? ঋণের জন্য আবেদন করবেন। ব্যাংক তখন জিজ্ঞেস করবে এই ঋণ দিয়ে আপনি কি করবেন? আপনি বলবেন বাড়ি করবো। তখন ব্যাংক বলে, “এই নিন টাকা। মনে মনে ধরে নিবেন আপনি আমাদের প্রতিনিধি। তারপরে আপনি বাড়ি নির্মাণ করবেন। অন্য কোন কাজে টাকা ব্যয় করবেন না। আপনি বাড়ি নির্মাণ করে দশ বছরের কিস্তিতে ১০% লাভে ঋণ পরিশোধ করে দিবেন।” আপনি চমকে উঠে বলবেন, “ আমি যখন কনভেনশনাল ব্যাংকে গিয়েছিলাম তখন তারা আমাকে টাকা ধরিয়ে একই কথা বলেছিল কেবল আপনি লাভ বলেছেন, তারা সুদ বলেছিল। তফাতটা কোথায়?” আপনার মুখ দিয়ে লাভ শব্দ উচ্চারিত হলেই কি হারাম হালাল হয়ে যায়? তাহলে তো আপনি মদকে গরম শরবত বলে হালাল করে ফেলতে পারেন। এই ধরণের মন্তব্যে ইসলামি ব্যাংকার বিরক্ত হয়ে বলবে, “মাঝখানে যে একবার বলেছিলাম আপনি আপনার নিজেকে প্রতিনিধি ধরে নিবেন সেই কথাটা কি শোনেন নাই? আপনি যখন মাল কিনবেন তখন আপনি আমার জন্য মাল কিনেছেন। অর্থাৎ, আপনি আমার কর্মী এবং যা কিনছেন তা আমার জন্যই কিনছেন। তারপরে যখন মাল হাতে নিবেন তখন ধরে নিবেন বাজারে সুদের যেই হার সেই হারের লাভে নিজের কাছে নিজেই এই মাল বিক্রি করে দিয়েছেন। হয়ে গেল ব্যবসা। আর আমরা হয়ে গেলাম হালাল ব্যাংক।” আপনি এবারে বললেন, “বুদ্ধি তো সুন্দর, কিন্তু এই বুদ্ধির জন্য কি বিশেষ কোনো প্রযুক্তি লাগে? ইসলামি ব্যাংকার বললেন, “ এতো বছর ধরে এই মডেলে ব্যবসা করে আসছি এমন প্রশ্ন জীবনে শুনি নাই। প্রযুক্তি লাগবে কেন? আপনি টাকা নিয়ে যা কেনার কিনবেন। আপনার নিজ পছন্দ মতন সিমেন্ট, রড কিংবা সুইচ, মোটর, রং, কর্মচারীর বেতন, মার্কেটিং খরচ থেকে শুরু করে সব করতে পারবেন। কিন্তু শর্ত হচ্ছে আপনি মাঝখানে প্রতিনিধি বসিয়ে দিবেন।“তারপর?” “তারপর ব্যবসা হবে।” অর্থাৎ, দুইটি ব্যাংকই ১০ কোটি টাকা দিয়ে ১২ কোটি টাকা নিশ্চিত রূপে ফেরত নিচ্ছে। কেবল একজন বলছে মাঝখানে প্রতিনিধি বসাতে হবে। এইটা কিন্তু কোন প্রযুক্তি না। নবী রাসূল কিংবা সাহাবীরা ইতিহাসের যেই কোন সময় ক্যাশ বক্স নিয়ে বসে থেকে এই ব্যবসা করতে পারতেন। সেই সময়ও সুদ ছিলো মক্কাতে। তারা কেউ করেন নাই। আর আমরা বলছি এইটা ব্যবসা। অছচ জুলুম দুই জায়গাতেই সমান্তরালে চলমান। আল্লাহ ইহুদী জাতিকে বলেছিলো শনিবারে মাছ ধরো না। তারা আল্লাহর কথা রেখেছে। তারা শনিবারে মাছ ধরে নাই। কিন্তু বাঁধ দিয়েছে। আল্লাহ কোথাও বলেন নাই যে বাঁধ দেওয়া নিষেধ। তারপরে সেই বাঁধে আটকা পড়া মাছ তারা রবিবারে ধরে। কারণ আল্লাহ কোথাও বলেন নাই যে রবিবারে মাছ ধরা নিষেধ। এভাবে আল্লাহর আইন নিয়ে তামাশা করাতে তাদেরকে ঘৃণিত বানর বানিয়ে দেওয়া হয় (সুরা বাকারাতে এদের ব্যাপারে আয়াত নাজিল হয়েছে)। আল্লাহ কেনো আমাদের জন্য এই আয়াত নাজিল করেছেন? আমার মতে আমরা যেনো আল্লাহর আইন নিয়ে তামাশা না করি সেজন্য। কুরআনের মাঝেই রয়েছে আমাদের জন্য শিক্ষা। আল্লাহ আমাদের বোঝার তৌফিক দিক।

Comments
Post a Comment