মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী। চিফ এডভাইজার্স প্রেস উইং। এসএসএফ (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) এর ডিজি (ডাইরেক্টর জেনারেল), যে কি না আর্মির একজন মেজর জেনারেল পদের অফিসারও, সে নিজের বাসায় লুকিয়ে আশ্রয় দিয়ে রেখেছিলো আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য উপ কমিটির সদস্য ও নরসিংদীর কুকুর মোঃ আলী হোসেন শিশিরকে। পাবলিক এবং ছাত্ররা খবর পেয়ে রাত তিনটার সময় গিয়ে হৈ হুল্লোড় শুরু করলে এবং পুলিশকে ডেকে আনলে জেনারেল স্যারের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু এই গ্রেফতার সহজ কাজ ছিলো না। স্যারের অনুগত সেনাবাহিনীর সেপাইরা ও অফিসাররা এই গ্রেফতার আটকানোর জন্য অনেক চেষ্টা করেছে। এমন কি এরা এখনো ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছাত্র এবং অন্য মানুষদেরকে নানা রকম হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ পনেরো বছরের গুম খুন হুমকি নির্যাতনের পাক্কা ট্রেইনিং কি আর পাঁচ মাসেই ভুলে যাওয়া যায়? ইলিয়াস হোসেন এই নিউজ ব্রেক করে। ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ফ্যাক্টস নামের সরকারী পেইজ থেকে বলা এক ঘন্টা আগে বলা হয়েছে, আলী হোসেন নিজেকে একজন গার্মেন্টস মালিক হিসেবে পরিচয় দেয়। সুতরাং এসএসএফ ডিজি মনে অনেক সরল বিশ্বাস নিয়ে তার সাথে নিজের বউয়ের আকদের চুক্তি থুক্কু বাসার ভাড়ার চুক্তি সাইন করেছিলো। পুলিশ যখন রাত তিনটা পয়তাল্লিশে তাকে গ্রেফতার করতে আসে, এসএসএফ ডিজি স্যার তখন ঘুম থেকে উঠে চোখ কচলাতে কচলাতে ঘটনা জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে হুংকার দিয়ে অপরাধীকে দ্রুত গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে আদেশ দিয়ে আইন ও সংবিধানকে সমুন্নত রাখার পবিত্র দায়িত্ব পালন করেন। প্রেস উইং এর এ বিবৃতিটা চমৎকার। এটা একটা মনে রাখার মতো, মন দিয়ে পড়ার মতো ঘটনা। প্রেসটিটিউট উইং এর কুকুরগুলো এ স্টেটমেন্টে কিন্তু এ কথা সরাসরি বলেনাই, "মেজর জেনারেল স্যার আওয়ামী আলী হোসেনকে চিনতো না"। তারা সুন্দর করে দুধভাত নিস্পাপ শিশুর স্টাইলে বলেছে, "আলী হোসেন মেজর জেনারেল স্যারের কাছে নিজেকে একজন গার্মেন্টস মালিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলো"। সুতরাং মেজর জেনারেল স্যার তার বউকে ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন। বালেরদেশের মেজর জেনারেল স্যাররা পিলখানার ঘটনার সময় থেকেই এ কাজ করে আসছেন। কেউ এখানে আবার অন্য কিছু খুঁজতে যাবেন না যেন। প্রেস উইং এর পেইজের নাম হলো "ফ্যাক্টস"। এর চাইতে বড় কৌতুক আর কি হতে পারে? বাংলাদেশের সাংবাদিকরা যে রাস্তার নোংরা দগদগে ঘায়ে ভর্তি কুকুরেরও অধম, এইসব হলো তাদের কাজ। মেজর জেনারেল স্যারকে রক্ষায় নেমে এসেছে "ফেইক নিউজ" একটা সিল মেরে দিয়ে। ইলিয়াস হোসেন তাদের সবার মাথার উপর লিটারের পর লিটার নায়াগ্রা জলপ্রপাত একদম মোতে দিয়েছে, এই সিল দেখিয়ে সেই মোতের বন্যা ঠেকানোর কাজ হবে? সেই মোত এখন প্রেস উইং ও ঢক ঢক করে পান করতেছে। গুগল সার্চ করলে দেখা যায়, এ এক ঘন্টার ভেতরেই বাংলাদেশের মেজর নিউজ আউটলেটগুলো আর্মির প্রেসক্রিপশনে এবং প্রেস উইংস এর নির্দেশনায় নিউজ করেছে - "এসএসএফের ডিজি অপরাধীকে আশ্রয় দিয়েছেন, এ অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা"। এই হলো অবস্থা। সব মেইনস্ট্রিম নিউজ মিডিয়া লাইন ধরে মালিকদেরকে ফু দেয়ার চাকরি করে। অন্যদিকে ইলিয়াস হোসেনরা ফেইসবুকে তাদেরকে উদোম করে দেয়। তবে কোথাও মেজর জেনারেল স্যারের নাম পাবেন না। একটা খবরেও না। এসএসএফ ডিজি স্যারের নাম কোথাও নাই। এমন কি ইলিয়াস হোসেন ও সরাসরি নাম উল্লেখ করেনাই। সম্ভবত স্ট্রাটেজিক কারণে। বরং বাসার বোর্ডের মালিকদের নামের তালিকার ছবি দিয়েছে। উনার নাম মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী। বিল্ডিং এর অধিবাসীদের নামের তালিকায় বাংলাদেশ সোনাবাহিনীর এই কৃতি মেজর জেনারেলর নাম ছিলো। ইলিয়াস হোসেন উনার লুঙ্গি খুলে দেয়ার পর বোর্ড থেকে এখন সব নাম হাপিস হয়ে গেছে। কেন সব নাম সরানো হলো? ইয়ে মানে, খুশীতে। ঠেলায়, ঘোরতে। সুতরাং বিষয়টা হলো, যদিও বাসাটা জেনারেল স্যারের ছিলো, নেমপ্লেটে তার নাম ছিলো, কিন্তু যেহেতু ধরা খেয়ে গেছেন, সুতরাং এখন ভাড়ার চুক্তিনামা আছে। সুতরাং "ফ্যাক্টস" নামওয়ালা সরকারী পেইজের সাংবাদিকরা "ফেইক নিউজ" সিল লাগিয়ে দাবী করতেছেন, মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী স্যার চুক্তি করে উনার স্ত্রী কন্যা সবাইকে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির নেতা আলী হোসেনের কাছে, যাকে উনি সরল বিশ্বাসে কেবল একজন গার্মেন্টস ব্যাবসায়ী মনে করেছিলেন, তার কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। ঠিক আছে। আমরা মেনে নিলাম। বিশ্বাস আনয়ন করলাম। যেহেতু ফ্যাক্টস এ বিষয়। প্রেস উইংস এর সাংবাদিকরাও এরকম আওয়ামী আলী হোসেনদের কাছে ভাড়া দিয়েছেন। কোন আপত্তি নাই। মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী স্যারের নামটা মনে রাখেন। আর প্রেস উইং এর ফ্যাক্টস স্যারকে তো আমরা সবাই চিনিই। ভদ্রলোকের এই ঐতিহাসিক চাটাংবাদিকতার ক্যারিয়ার অক্ষয় হোক। "ফ্যাক্ট চেক" বা "ফেইক নিউজ" এইসব ট্যাগ ব্যবহারের আওয়ামী আরাফাতীয় প্রশিক্ষণ ও চর্চা অব্যাহত আছে, এটা তো আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের বিষয়। -আমান আব্দুল্লাহ।

Comments
Post a Comment