"জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংবিধান সংস্কার কমিশন। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সংসদের নিম্নকক্ষে আসন থাকবে ৪০০, নির্বাচন হবে বর্তমান পদ্ধতিতে। এর মধ্যে ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। তাঁরা নির্বাচিত হবেন সরাসরি ভোটে। আর উচ্চকক্ষে আসন থাকবে ১০৫টি। নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে। সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট আসন হবে ৫০৫টি।" > উচ্চকক্ষে আসন থাকবে ১০৫টি। নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে এর মানে কী? অনুপাতটা কি সারা দেশের দেয়া ম্যাংগো পিপলের ভোটের ভিত্তিতে না - নিম্ন কক্ষের সীটের ভিত্তিতে? আপনি যদি সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা করেন - তাহলে সমস্যা হোলো নিম্নকক্ষের যেই সমস্যা - ঠিক সেই সমস্যা আপনি উচ্চকক্ষে নিয়ে যাবেন। সরাসরি নির্বাচনে গেলে বাংলাদেশের প্রায় যেকোনো এলাকায় "রাইট মার্কা-পাওয়ারফুল" কম্বো ক্যান্ডিডেট জিতবে। আইডিয়াল ক্যান্ডিডেট হোলো যার দ্বারা দ্রুত জাগতিক সমস্যার সমাধান হয়। rapid boy টাইপ। চাল্লুবান্টি। অনন্ত জলিল ও ওয়াজ মাস্টার মনোয়ারের মাঝখানে কিন্তু করিৎকর্মা - এমন একটা লোক যে শার্ট-প্যান্ট অথবা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে। কিন্তু এই লোকটা, যে মোটামুটি অশিক্ষিত এবং ল-মেকিং সম্বন্ধে কিছুই জানে না - সে যদি উচ্চ-কক্ষে যায় - সেটা নিম্নকক্ষের মতোই মেস হবে। আর যদি পলিটিকাল পার্টি নমিনেট করে আইডিয়াল ক্যান্ডিডেটকে উচ্চকক্ষে পাঠায় - তাহলে পার্টিগুলার জেন্টেলমেন'স এগ্রিমেন্টের উপর আপনাকে নির্ভর করতে হবে। যে তারা কম্পিটেন্ট লোকদের ওখানে পাঠাবেন। এটা এইবার কাজ করতে পারে কিন্তু লংটার্মে কাজ করবে কি না - আমার সন্দেহ আছে। বাংলাদেশের মানুষের ডিসিশান মেকিং খুব আলাদা। সাধারণত তিন মাস পরে তারা ভুলে যায় এই ট্রেনে তারা কেন এই ট্রেনে উঠেছিলো। বাংলাদেশে জেন্টেলমেনস এগ্রিমেন্ট কাজ করে না। আওয়ামী লীগ থাকলে আমি ২০০% নিশ্চয়তা দিতে পারতাম যে এই এগ্রিমেন্ট কাজ করবে না। যেহেতু আওয়ামী লীগ নাই - সেহেতু কাজ করলেও করতে পারে। মানে সম্ভাবনাটা অন্তত এন্টারটেইন করতে রাজী আছি। আমার একটা অকাম'স রেজার আছে। যেকোনো সরকার, প্রচুর নতুন পদ তৈরী করে। যেই পদের বেতন সর্বোচ্চ স্কেলের আশেপাশে - সেই চাকরির কারণে যতো সমস্যার সমাধান হবে - তার চেয়ে অনেক অনেক বেশী নতুন সমস্যা তৈরী হবে। এবং যখন ১০ বছর পর পিছনে তাকাবেন - মনে হবে যে এই পদগুলো সৃষ্টি করা হয়েছিলো শুধুমাত্র এপ্লয়মেন্ট সমস্যা সমাধানের জন্য। দেশের বা প্রতিষ্ঠানের কোনো একচুয়াল সমস্যা সমাধানের জন্য না। উদাহরণ হোলো বাংলাদেশ আর্মির লিউটেনেন্ট জেনরেল ও জেনরেল পদ। আগে লিউটেনেন্ট কর্নেল/কর্নেল যেই কমান্ড করতো - ক্ষেত্রবিশেষে সে একই কমান্ড এখন মেজর জেনরেলরা করে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এমন মেজর জেনরেল আছে যার কমান্ডে ২৫ জন অফিসার নাই এবং এই মুহূর্তে বাংলাদেশে এমন লিউটেনেন্ট কর্নেল আছে যার কমান্ডে ২৫ জনের চেয়ে বেশী অফিসার আছে। এই তামাশা কোন লেভেলে গেছে গত ১৫ বছরে - আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। সরকারি সম্পদ ধ্বংস করাকে যদি আল্লাহ কবিরা গুনাহ হিসাবে ট্রীট করেন এবং মাফ না করেন - বাংলাদেশ আর্মির কর্নেল থেকে উপরে কেউ কোনোদিন বেহেস্তে নাও যেতে পারে বলে আমার অনুমান। (আর্মি চীফ যেই প্রাসাদে থাকেন - সেটা বানাতে সম্ভবত ১০০ কোটি টাকার উপরে খরচ হয়েছে) একটা দেশের এডাল্টরা যে কত ধ্বংসাত্মক, স্বার্থপর ও মায়োপিক হতে পারে - এর নজির দেখবেন বাংলাদেশ মিলিট্ৰীর কমান্ড-স্ট্রাকচারে। আমার মাথায় এখন একটাই প্রশ্ন: এই দেশে এতোগুলো লিউটেনেন্ট জেনরেল তৈরী করা হয়েছিলো কেন? "শুধুমাত্র" লোভ ও ইগোকে জায়গা করে দেয়ার জন্য। ...................... আমার ভয় হোলো - আমরা যদি সুপার-সিরিয়াস না হই - ১০ বছর পর এমন লোকদেরকে আমরা উচ্চকক্ষে পাঠাবো - যারা ওয়াজ মাস্টার মনোয়ার কিংবা তাহেরী হুজুর লেভেলের। এবং তখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন - আচ্ছা এই উচ্চকক্ষ বানানো হয়েছিলো কেন? আনফর্চুনেটলি আপনি ৫০ হাজার সমাধান কল্পনা করতে পারেন - অনেক চালাক চালাক কথা বলতে পারেন - কিন্তু জেন্টেলমেনস এগ্রিমেন্ট ছাড়া একটাও চলবে না। সাংবিধানিক গ্যারান্টি দিয়ে আপনি য়েটাও ছিড়তেও পারবেন না। উচ্চকক্ষের প্রয়োজন আছে। বিএনপির প্রস্তাবটাও ঠিক - স্বীকার করি। কিন্তু বাঙালি যেকোনো সুন্দর জিনিসকে ধ্বংস করে ফেলে। য়ে করে দেয়। এই জায়গাটাতেই আসল ভয়। ........................... >সংসদের নিম্নকক্ষে আসন থাকবে ৪০০, নির্বাচন হবে বর্তমান পদ্ধতিতে। এর মধ্যে ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এইটা একটা ২৫% কোটা-সিস্টেম। বুঝতেছেন তো? এটা একটা ফান্ডামেন্টালি স্টুপিড আইডিয়া। আপনি পার্লামেন্টের ২৫% লোক ভরাইতেছেন তাদের দিয়ে যাদের মূল যোগ্যতা তারা নারী। এইটা একটা ভয়ঙ্কর আইডিয়া এবং ভয়ঙ্কর স্টুপিড আইডিয়া। নারীদের জন্য কোনো সংরক্ষিত আসন থাকা উচিত না। একটা আসনও থাকা উচিত না। কারো জন্য কোনো সংরক্ষিত আসন/চাকরি থাকা উচিত না। কারো দয়া কিংবা সংবিধানের দয়ায় কারো পার্লামেন্টে যাওয়া উচিত না। ১০০ না ৪০০ সিটেই মেয়েরা বসুক - কোনো অসুবিধা নাই - কিন্তু আপনাকে সমান ফাইট করতে হবে। কোনো জায়গায় যদি আপনি যদি নারী কোটা রাখেন - আপনি সেখানে সব আপনার মানসিকতার মেয়েদের বাজার বসাবেন। যে মানুষ, একটা পদের জন্য ফাইট করে না - বেশীরভাগ সময়ে ক্ষেত্রে এরা গুড ফর নাথিং হয়। এক এন্ডে থাকবে জারা মাহবুব - আরেক এন্ডে মমতাজ - সমাজের সবচেয়ে নিষ্কর্মা,প্যাম্পার্ড ও বাস্তবতা জ্ঞান বিবর্জিত মেয়েদের মেলা বসবে পার্লামেন্টে। তাহলে এই ২৫% কোটা কেন রাখা হচ্ছে? কারণ বাংলাদেশের ৫০% পপুলেশনকে বলা হচ্ছে - দেখো তোমাদের স্বার্থে আমরা কতো কিছু করছি। এইটা একটা আত্মঘাতী মানসিকতা। রাষ্ট্র কাওকে কোনো স্পেশাল ট্রিটমেন্ট দিবে না - এই মানসিকতায় আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে। আমি আপনি সমাজের সকল আদাব বজায় রাখবো কিন্তু রাষ্ট্র কাওকে স্পেশালি ট্রীট করতে পারবে না। মেয়েদেরকে যতোদিন আপনি কোটা-সিস্টেমে বন্দী রাখবেন - ততোদিন আসলে আপনি আপনার পছন্দ মতো (ও আপনার ক্লাসের) মেয়েদের কোটা-সুবিধা দিবেন। এই যে ২৫% আসন - এখানে কারা যাবে জানেন। যতোই লম্বা লম্বা কথা বলেন - এন্ড অফ দা ডে - মোটে ১০ থেকে ২০ জন পাওয়ারফুল "পুরুষ" ঠিক করবে ওই ১০০টা পদে কে যাবে। এর চেয়ে আমার কাছে বেটার হোলো আপনি আর সবার মতোন ফাইট করেন এবং আর সবার মতো ফাইট করে পার্লামেন্টে যান। কোনো পাওয়ারফুল পুরুষ না - সাধারণ মানুষের ভোটে জিতে পার্লামেন্টে যান। এইসব এফার্মাটিভ একশান জাতীয় বালছাল থেকে আমরা যতো বের হতে পারবো - আমরা আসল কম্পিটেন্ট মেয়েদের ততো বেশী মেইনস্ট্রীমে পাবো। -ফাহাম আব্দুস সালাম।কথাটা লিখে রাখেন: কোনো মেয়েকে যদি আপনি কোটা সিস্টেমের সুবিধা দেন - সে ঐ পজিশনে গিয়ে কোটা কমানো না, বাড়ানোর রাজনীতি করবে। এবং যেই মেয়ে কোটা সিস্টেমের বেনিফিশিয়ারি; সেই মেয়েটা পুরুষদের সবচেয়ে অকৃত্রিমভাবে ঘৃণা করতে সক্ষম (এবং করেও)। কোটা সিস্টেমের বেনিফিশিয়ারি মেয়েটা জীবনে এক সেকেন্ডের জন্য কোটা সিস্টেম তথা রাষ্ট্র/সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞ হবে না। সে প্যাশেনটলি এই সমাজকে ঘৃণা করবে। এবং সে মনে করবে যে এই কোটা সিস্টেম তাকে যে জায়গা দিয়েছে - এর মাধ্যমে 'সমাজ' গত এক হাজার বছরের পাপের প্রায়শ্চিত্ত করছে। তাকে কোনো উপকার করে নাই। আয়েম সিরিয়াস! কোটা সিস্টেমের সুবিধাপ্রাপ্ত একটা মেয়ে কোনোদিন - এন্ড আই রিপীট - কোনোদিন বলবে না যে - আমি জনাব R এর প্রতি কৃতজ্ঞ। উনি আমার উপকার করেছেন। কিন্তু এই মেয়েটিকে জনাব Y কোনো অপকার করলে সেটা বলবে হাজার বছরের পুরুষতন্ত্রের সমস্যা। (ইন ফ্যাক্ট - শামাকে আমি প্রায়ই বলি যে আমি জীবনে কোনোদিন কোনো বাংলাদেশী শিক্ষিত মেয়ের মুখে শুনি নাই যে আমি অমুক পুরুষের প্রতি কৃতজ্ঞ (আত্মীয় ও প্রেমিক বাদে – সে যেই হোক) - কারণ উনি আমাকে এই হেল্প করেছিলেন। নেভার) এর বিপরীতে যেই মেয়েটা পদে পদে ফাইট করে উপরে উঠেছে, হাজার হাজার ছেলের গালি খেয়েছে - এই কম্পিটেন্ট মেয়েটার সম্মানবোধ ও কৃতজ্ঞতাবোধ কোটা সিস্টেমের চেয়ে আলাদা হবে। সে বোঝে প্রতিষ্ঠান কীভাবে চলে এন্ড মোস্ট ইম্পরট্যান্টলি - সে ছাগলামি ও গুরুত্বপূর্ণ - এই দুইটার পার্থক্য করতে জানে। কোটা সিস্টেম থেকে সরকারে যাওয়া একটা উপদেষ্টা সরকারে গিয়ে অগাস্টের ৮ তারিখ প্রথম যেই সমস্যা দেখবে - সেটা হোলো সচিবালয়ে এতো কম মেয়ে কেন কিংবা ইউনুস সাহেব কেন ট্রান্স-জেন্ডারদের সাথে দেখা করছেন না কিংবা পুরা সচিবালয়ে কেন কোনো ramp নাই ফিজিকালি চ্যালেঞ্জডদের জন্যে। যেই মেয়েটা কোটা সিস্টেমের মাধ্যমে পার্লামেন্টে যাবে - সে সবচেয়ে প্যাশেনেটলি - পার্লামেন্ট ও তার কলিগদের ঘৃণা করবে। মানুষ যা অর্জন করে না - কিন্তু অর্জনের অভিনয় করে - সেই পাওয়ার জন্য সে কোনোদিন বিন্দুমাত্র কৃতজ্ঞ হয় না - রেজেন্টমেন্ট তৈরী করে। কোনোদিন যদি দেশে গৃহযুদ্ধ ও এনার্কি লাগে - যে আপনার বাড়িতে ঢুকে প্যাশেনেটলি এবং উইথ গ্রেট ঔচিত্যবোধ আপনাকে খুন করবে - সেই লোকটা সম্ভবত সেই - যাকে আপনি অন্তত এতোটা উপকার করেছিলেন যে আপনার প্রতি তার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। (লেখাটা পুরুষ কোটা সিস্টেমের জন্যেও একইভাবে প্রযোজ্য)

Comments
Post a Comment