Skip to main content

জিরো অলিম্পিয়াড


 জিরো অলিম্পিয়াড 

পৃথিবীতে এই প্রথম আয়োজিত হচ্ছে ‘জিরো অলিম্পিয়াড’। জিরো অলিম্পিয়াডের উদ্যোগ নিয়েছেন বাংলাদেশের অন্যতম গ্লোবাল লিডার ফাতিহা আয়াত। তিনি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে জলবায়ু এবং শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করার জন্য পরিচিত। ফাতিহা আয়াত শিশু বয়স থেকেই বিভিন্ন মানবাধিকার বিষয় এবং পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি জাতিসংঘে কথা বলেন শিশু অধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মানবাধিকার নিয়ে। তিনি প্রতিভাবান বক্তা এবং লেখক। তার উদ্যোগে আয়োজিত হতে যাচ্ছে ‘জিরো অলিম্পিয়াড’। আমরা ম্যাথ অলিম্পিয়াড, আইসিটি অলিম্পিয়াডসহ ইত্যাদি অলিম্পিয়াডের নাম শুনেছি, কিন্তু ‘জিরো অলিম্পিয়াড’  সবার জন্য ভালো এবং টেকসই ভবিষ্যৎ অর্জনের জন্য ২০১৫ সালে জাতিসংঘ ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। মূলত ঝউএং এর লক্ষ্য হলো এই ১৭টি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন। ২০১৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়। তবে জাতিসংঘ মনে করছে, তা সম্ভব হওয়া নিরাশাজনক। এমতাবস্থায় বাংলাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র ফাতিহা আয়াত তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অলিম্পিয়াডের আয়োজন করেছেন। ১৭টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে দারিদ্র বিলোপ, ক্ষুধা মুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন, সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি, শোভন কাজ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্প উদ্ভাবন ও অবকাঠামো, অসমতার হ্রাস, টেকসই নগর ও জনপদ, পরিমিত ভোগ ও উৎপাদন, জলবায়ু কার্যক্রম, জলজ জীবন, স্থলজ জীবন, শান্তি ন্যায় বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান, অভিষ্ট অর্জনে অংশীদারত্ব। এই ১৭টি লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে যদি দারিদ্র বিলোপ করতে হয় তবে দারিদ্র্যের মাত্রাকে শূন্যে আনতে হবে, ক্ষুধা মুক্তির লক্ষ্যে পৌঁছাতে ক্ষুধার হার শূন্য করতে হবে, শিক্ষার হার বৃদ্ধি করতে চাইলে নিরক্ষরতাকে শূন্য করতে হবে, অতএব প্রতিটা লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে সমস্যাগুলোকে শূন্য করতে হবে। আর এই সমস্যাগুলোকে শূন্য করার জন্য কার্যকরী পরিকল্পনা দিতে পারবে এমন যোগ্য মানুষ নির্বাচনের লক্ষ্যেই তার এ অলিম্পিয়াড আয়োজিত হচ্ছে। এ কারণেই ফাতিয়া আয়াত ‘জিরো অলিম্পিয়াড’ নামকরণ করেছেন। জাতিসংঘে এসডিজি এর জন্য যে অলিম্পিয়াডের আয়োজন করা হয় সেগুলোর নাম মূলত ঝউএং ঙষুসঢ়রধফ হয়, তবে ফাতিহা আয়াত নতুন কোনো নামকরণ করতে চেয়েছিলেন, তার এ ভিন্নধর্মী চিন্তা ও লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নামকরণ করা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। জিরো অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে। সাধারণত অন্য অলিম্পিয়াড ফাইনাল রাউন্ডের পরে তার কার্যক্রম শেষ হয়ে যায়। কিন্তু ‘জিরো অলিম্পিয়াড’ ফাইনাল রাউন্ডের মাধ্যমে যোগ্যদের বাছাই করে লক্ষ্যের পথে যাত্রা শুরু করবে। আমরা অনেক সময় ভাবি দেশের অমুক সমস্যার জন্য তমুকভাবে কাজ করলেই তো সমাধান হয়ে যায়, কিন্তু আমরা নিজেদের আইডিয়া শেয়ার করার মতো সুযোগ পাই না এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত অর্থের যোগান থাকে না। এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমে আমরা নিজেদের আইডিয়াগুলোকে বিশাল প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরার সুযোগ পাব। ‘জিরো অলিম্পিয়াডে’ নিজের যোগ্যতা প্রমাণের মাধ্যমে জাতিসংঘের কাছ থেকে নিজের আইডিয়া বাস্তবায়নের সুযোগ লাভ সম্ভব হবে, জাতিসংঘের আইডিয়া পছন্দ হলে তারা প্রয়োজনীয় অর্থ অনুদানও দিবে। মূলত এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিশ্ব নেতৃত্ব দিবে এমন যোগ্য মানুষদের নির্বাচিত করা সম্ভব হবে।

ফাতিহা আয়াতের আরেকটি লক্ষ্য হলো, প্রতিবছর কমপক্ষে পাঁচজন বিশ্ব নাগরিক গড়ে তোলা, যারা বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করবে, দেশের জন্য প্রয়োজনীয় সাহায্য নিয়ে আসবে। বাংলাদেশের মানুষও নিজের যোগ্যতায় পুরো বিশ্বকে নেতৃত্ব দিবে। তার এ মহৎ উদ্যোগে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সুপরিচিত টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক, পরিচিত মুখ শাইখ সিরাজ, আরজে কিবরিয়াসহ অনেকে অংশীদার হয়েছেন। টেন মিনিট স্কুল বিজয়ীদেরকে স্কলারশিপ দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে। সবচেয়ে আশার কথা, এ প্রতিযোগিতায় স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বেশ আশাজনক অংশগ্রহণ করছে। বাংলাদেশ যেন এক নতুন মাইলফলকের অপেক্ষায় আছে। এগিয়ে যাক দেশ ও দেশের মানুষ। জিরো অলিম্পিয়াড ৩ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, আগামী ১০ জানুয়ারি ২০২৫ এ প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘের ঝউএং বিষয়ক চারটি কোর্সের মধ্য থেকে প্রশ্ন করা হবে প্রথম ধাপে, দ্বিতীয় ধাপে তিন মিনিটের ভিডিও বার্তা তৈরির মাধ্যমে নির্বাচিত হবে চূড়ান্ত প্রতিযোগী। ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় জুরি বোর্ডের সামনে ইংরেজি, বাংলা উভয় ভাষায় নিজের পরিকল্পনা প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নির্বাচিত করা হবে। জুড়ি বোর্ডে উপস্থিত থাকবেন দেশের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ, এ ছাড়াও জাতিসংঘের সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ। পৃথিবীতে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হওয়া এ ‘জিরো অলিম্পিয়াড’ নিজের মেধা ও যোগ্যতা প্রমাণের অনন্য সুযোগ।

লেখক : শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম কলেজ

for details click below

জিরো অলিম্পিয়াড 

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...