Skip to main content

ফাউন্ডিং ফাদার্স

 


মুনতাসীর মামুন লিখেছিলেন "বঙ্গবন্ধু একটা অনিচ্ছুক জাতিকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন"।

বাস্তব সত্য হলো, গণতন্ত্রকামী আর গণহত্যায় আক্রান্ত একটা জাতি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চাওয়া একজন ব্যক্তিকে জাতির পিতা বানিয়েছে। খুব ডিটেইলড ইতিহাস আছে, শেখ মুজিবকে জোর করে নিউক্লিয়াস স্বাধীন দেশের পতাকা উত্তোলন করিয়েছে, ৭ই মার্চে স্বাধীনতার কথা বলিয়েছে। এমনকি ২৫ মার্চের রাতে তাজউদ্দিন আহমেদ টেপরেকর্ডার নিয়ে শেখ মুজিবের কাছে গিয়েছে স্বাধীনতার ঘোষনা দেবার কথা বলে, শেখ মুজিব বলেন ২৭ই মার্চ হরতাল ডেকেছি, নাকে তেল দিয়ে ঘুমাও। এমনকি ১০ই জানুয়ারী দেশের ফেরার পর শেখ মুজিব একদিনও স্বাধীনতার কান্ডারী তাজউদ্দিনের কাছে জিজ্ঞেস করেন নাই কিভাবে দেশ স্বাধীন হলো। শেখ মুজিবের স্বাধীনতা ব্যাপারে যা অবদান সেটা ৭ই মার্চের ভাষন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। উনি বল্লে ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, যার যা আছে তা নিয়ে ঝাপায় পড়ো। গোটা দেশ সে সময় তার কথায় উঠতো বসতো, অথচ পাকিস্তানীরা যে সৈন্য আর গোলাবারুদ এনে ম্যাসাকার করার আয়োজন করছে এই তথ্য কি তার কাছে ছিলো না? গোটা দেশের সব সরকারী কর্মকর্তা সব অফিস তখন তার কথায় উঠতো বসতো। এগুলো সীমাহীন ফেইলউর। তার স্যুটকেস গুছিয়ে রেখে কারাবরণ কথা না উল্লেখ করলাম। বিভিন্ন ভাবে বিবেচনা করলেও স্বাধীন বাংলাদেশের নেতা হিসাবে শেখ মুজিবের বাগম্বর দেখা যায় কিন্তু কার্যকালাপে সেটা প্রকাশ পাওয়া যায় না। শেখ মুজিব যে একজন মাঠগরম করা দ্বিতীয় সারির নেতা এটা বুঝতে হলে তার শাসনামল দেখাই যথেষ্ট। মিসম্যানেজমেন্ট, স্বজনপ্রীতি, গুন্ডাগার্দি, আর ভুল পলেসি সব ছিলো তার সিগনেচার। সেটা যাই হৌক, শেখ মুজিব নিজেই একজন ফ্যাসিস্ট, ফ্যাসিস্টের প্রতি মায়ামহব্বত অনেকের থাকতে পারে। মুক্তিযুদ্ধ শেখ মুজিবের নামে হয়েছে, ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থানের দাবীও ছিলো শেখ মুজিবের মুক্তি। পাকিস্তানীদের রেসিজম আর অন্যায় আর গণতন্ত্রহীনতা থেকে মুক্তির জন্য বাংলাদেশীদের একটা নেতা দরকার ছিলো। শেখ মুজিব ভাগ্যক্রমে হয়ে গেছেন সেই নেতা। যাকে বলে এক্সিডেন্টাল জাতির পিতা। শেখ মুজিবের ইমেজকে জাতির পিতা সুলভ বানানোর জন্যই ৭ই মার্চকে গেসিসবার্গ এ্যাড্রেসের সাথে তুলনা করা লাগে। বাস্তবতা হলো, সেদিন রেসকোর্স থেকে যারাই ফিরেছেন তারা বলেছে শেখ মুজিবতো স্বাধীনতার ঘোষনা দিলেন না। এমনকি ৭ই মার্চে জিয়ে পাকিস্তান বলেছেন জয় বাংলার পরে, সে গোলোযোগের কারনে চাপা পড়ে যায়। পৃথিবীর কোন দেশের ইতিহাসে নাই এমন যে স্বাধীনতার ঘোষনা পর যাদের কাছে স্বাধীনতা চাইছি তাদের সাথে হোটেল রুমে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হয়। ৮ই মার্চ থেকে ২৫ই মার্চ তাই ঘটেছে। শেখ মুজিবকে আমরা তাও সম্মান দিতে চাই। আমরা ফ্যাসিস্টদের মতো নির্মম নির্দয় না। আমি প্রস্তাব করি, শেখ মুজিবকে ফাউন্ডিং ফাদার্সদের একজন ঘোষনা করা হৌক। সে সময় যারা যারা স্বাধীনতার সাথে উতপ্রোত ভাবে জড়িত ছিলেন তাদেরকে ফাউন্ডিং ফাদার্স ঘোষনা করা হৌক। ভাসানী, তাজউদ্দিন আহমেদ, জিয়াউর রহমান, জেনারেল ওসমানী আর যারা ফাউন্ডিং ফাদার্স হিসাবে কোয়ালিফাই করেন তাদেরকে সেই সম্মান দেয়া হৌক। সবাই প্রকৃত ইতিহাস লিখেন। শেখ মুজিবকে ১৯৭১ এর র‍্যাম্বো বানায় দেয়া কাজের কথা না, আবার তাকে ইতিহাসের ভিলেন, পাকিস্তানের চর ভারতের চর বানায় দেয়া কোন কাজের কথা না। মিডল গ্রাউন্ড খুজেন। ডিগনিটি নামে যে শব্দ বাংলাদেশীদের ডিকশনারীতে নাই, সেই শব্দটা মানে বুঝেন আর তাকে প্রতিষ্ঠা করেন। অন্যায় দিয়ে নায্য অধিকার বঞ্চিত করলে সেটা ফ্যাসিস্টের পুর্নবাসনই তরান্বিত করবে।collected

Comments

Popular posts from this blog

মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার

  প্রায়ই সকালে খবরে দেখি, দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কখনো মধ্যবয়স্ক কেউ, কখনো আবার শিশু। প্রত্যেকটি মৃত্যু সংবাদই আমাকে মনে করিয়ে দেয়, কার মৃত্যু কখন হবে সে সম্পর্কে আমরা কেউই জানি না, কিন্তু এটা আমাদের সাথেই থাকে সব সময়। আমার প্রিয় মানুষগুলোর সাথে একদিন আর দেখা হবেনা, এটাই সত্য আল্লাহ বলেন: “প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫) এই কঠিন সত্য আমরা জানি ঠিকই। কিন্তু দুনিয়ার সুখ-দুঃখের ভেতরে আমরা এতটাই বিভোর হয়ে থাকি যে মৃত্যু নিয়ে খুব কমই ভাবি। আমরা প্রায়ই মানুষের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলে মনে করি। কিন্তু আদৌ কি তা সত্য? মৃত্যু কি সত্যিই কোনো দুর্ঘটনা? রাসুল (ﷺ) বলেছেন: “মুমিনের জন্য মৃত্যু হলো উপহার” (ইবনে মাজাহ, হাদিস ৪২৬১) রাসুল (ﷺ) কেন মৃত্যুকে উপহার বললেন, এই প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে লক্ষ্য করার বিষয় হলো, তিনি বিশেষভাবে মুমিনদের কথা বলেছেন। সেই সব মানুষদের, যারা দুনিয়ার চেয়ে আল্লাহ তায়ালাকে বহু গুণ বেশি ভালোবাসে। মৃত্যুর মাধ্যমেই আমরা দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে প্রবেশ করি আরেক জীবনে। সেই জীবনের শুরু আছে, কিন্তু শেষ নেই। আর যদি আমরা মুমিন হই, ...

Narcissist স্বামী স্ত্রী

  Narcissist স্বামী স্ত্রীর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত থাকেন : Narcissist স্বামী প্রায়ই স্ত্রীর সাফল্যে প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত থাকেন। ধরুন, স্ত্রী আর্থিকভাবে বা সামাজিকভাবে স্বামীর চেয়ে বেশি capable, কিংবা তার চেয়ে উচ্চপদে কাজ করছেন। এমন ক্ষেত্রে, যদিও তিনি স্ত্রীর আয় ভোগ করেন, তবুও এ বিষয়ে তিনি খুশি নন; বরং এটি তাকে ইনসিকিওর ফিল করায়। স্ত্রীর সামাজিক পরিসর (social circle) যদি বড় হয় বা তার বেশি বন্ধু-বান্ধব থাকে, সেখানেও তিনি নিজেকে ইনসিকিওর মনে করেন। সবচেয়ে বেশি ইনসিকিওর অনুভব করেন যখন স্ত্রীর rank বা পদমর্যাদা তার চেয়ে উচ্চ হয়। ধরুন, স্বামী একটি প্রতিষ্ঠানে একটি পদে কাজ করছেন, কিন্তু স্ত্রী হয়তো আরও উচ্চ পদে রয়েছেন। তখন Narcissist স্বামী খুবই ইনসিকিওর ফিল করেন। ক্লিনিক্যাল প্র্যাকটিসে ফাইন্যান্স, সামাজিক পরিসর, এবং পদমর্যাদার ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই দেখি যে স্ত্রীর rank স্বামীর চেয়ে উচ্চ হলে Narcissist স্বামী প্রচণ্ড ইনসিকিওর ফিল করেন। যেমন, স্ত্রী যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে ম্যানেজার হন, তিনি বলবেন, “তুমি ম্যানেজার, কিন্তু বাসায় কিছুই ম্যানেজ করতে পারো না; তুমি মানুষকে ক...

জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি

  অনেকেই জীবনে খুব বড় হতে চান । বড় কাজ করতে চান, বড় বিজনেস করতে চান, দেশ পরিবর্তন করতে চায়। খুব ভাল এই চাওয়া গুলো। মন বড় রাখাই উচিত । কিন্তু এর পাশা পাশি আমরা যেটা ভুলে যাই যে, অনেক ছোট ছোট কাজেও কিন্তু সাফল্য এবং জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে। আপনি প্রতিদিন নামাজ পড়ছেন ৫ বার । এটাও বড় সাফল্য । আপনি সত্য কথা বলার চেষ্টা করেন, এটাও সাফল্য । আপনি করো ক্ষতি করেন না। পরিবারের বিপদে আপদে পাশে থাকেন। রোজ একজন মানুষ কে খাওয়ান। আপনি ৯ টার অফিসে ৯ টায় হাজির হন, কাজে ফাঁকি দেন না। এসব কিছুই বিশাল সাফল্য । আমরা কেন জানি এসব ছোট ছোট কাজ কে সাফল্য মনে করি না। আমরা শুধু জীবনে ফাটায় ফেলতে চাই। এবং তা করতে যেয়ে জীবনকে অপ্রয়োজনে কষ্টকর করি। সবাইকে দিয়ে সব কাজ হয় না। আমি আপনি চাইলেই ইলন মাস্ক হতে পারবোনা । কিন্তু একজন ভালো মানুষ আমরা সবাই হতে পারব যাকে সমাজের কাজে লাগে। সমাজে ১০% মানুষ বড় কাজ করবে। আল্লাহ তাদের মেধা দিয়েছেন, ভালো পরিবার দিয়েছেন, সাহস দিয়েছেন - তারা জন্ম থেকেই কিছুটা আলাদা। কিন্তু বড় কাজ করতে পারছেন না মানে আপনি জীবনে সফল নয় - এটা ভাবা ঠিক নয়।...